Published : 19 Dec 2025, 07:00 PM
ভারতীয় হাই কমিশন ভাঙচুর নয়, অহিংসভাবে রাজপথে নেমে এসে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলা মোটরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্ববায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা থেকে বিক্ষুব্ধদের বিরত রাখতেও নেতাকর্মীদের পদক্ষেপ নিতে বলেন তিনি।
সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে নেমে এসে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা ভারতীয় হাই কমিশন ভাঙচুর করতে চাই না। যারা এই ধরনের উস্কানিমূলক কাজকর্ম করতে চায় আমরা বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণকে বলব অহিংস এবং গণতান্ত্রিকভাবে বাংলাদেশের রাজপথে নেমে আসুন।
“যারা এখানে সাবোটাইজ করতে চায়, সাংবাদিকদের উপরে হামলা করতে চায়, যারা বিভিন্ন দূতাবাসে হামলা করতে চায়, তাদেরকে আপনারা নিবৃত্ত করে আপনাদের ভাই বোন হিসেবে সহযোগী হিসেবে রাজপথে নিয়ে আসুন।"
সবাইকে যুক্তি দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে পাটওয়ারী বলেন, “যদি কোনো দূতাবোসে আক্রমণ হয়, যদি কোনো এই ধরনের সাবোট্যাজ অ্যাক্টিভিটি সেখানে চলে; তাহলে বহিঃশক্তি এখানে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পাবে। আমরা এই ধরনের কোনো সুযোগ দিতে চাই না।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ‘ভালোর সঙ্গে খারাপ কাজও থাকার’ অভিযোগ করে তিনি বলেন, “কিন্তু ওসমান হাদির মধ্য দিয়ে আমরা এই সরকারের যে ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে; তারা যে সরকার চালাতে পারছে না, তারা যে সক্রিয় হচ্ছে না; সেটা আমাদের সামনে আরো দৃশ্যমান হয়েছে।
“গণতান্ত্রিক উপায়ে যদি বাংলাদেশের সকল মানুষ মাঠে থাকে তাহলে এই সরকার অনেকগুলো কাজ হাতে নিতে পারবে। যেই কাজের মধ্য দিয়ে আমরা বহিঃশক্তি মোকাবেলা করতে পারব।”
তার দল গণতান্ত্রিক ও অহিংস রাজনীতির পক্ষে তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা বলেন, “যেই আদর্শটা আমাদেরকে শিখিয়ে গিয়েছিলেন শরীফ ওসমান বিন হাদি। উনি গড়ার কাজ করেছিলেন, ইনকলাব কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উনি ছায়ানটের বিরুদ্ধে গড়ার কাজ করেছিলেন; নতুন কালচারের জন্ম দিয়েছিলেন; কিন্তু উনি কখনো ছায়ানট ভাঙতে যান নাই।"
গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের জনগণকে ভারতের কাছে বর্গা দেওয়া হয়েছিল অভিযোগ করে তিনি ‘স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির’ মধ্য দিয়ে বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশকে সগৌরবে প্রতিষ্ঠা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, “আমরা যেভাবে দিল্লির বিরুদ্ধে এই গণআন্দোলন গণঅভ্যুত্থান বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছি এমনিভাবে আমাদেরকে পিন্ডির বিরুদ্ধেও সতর্ক থাকতে হবে। আমাদেরকে ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না।
“আমরা কিন্তু ’৭১ এ একটি লড়াই করেছিলাম। এই ’৭১ এ লড়াইতে ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং ন্যায়বিচারের লড়াই। ’৭১ এর লড়াই ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই। আমরা যদি ’৭১ এর লড়াইকে ভুলে গিয়ে চব্বিশের পথ চলি তাহলে আমাদের বাংলাদেশ ইতিহাস থেকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অনেকে প্রচেষ্টা চালাবে।”