Published : 18 Dec 2023, 09:55 PM
প্রস্তুতি আগে থেকেই ছিল; প্রচারে নিষেধাজ্ঞার লাল বাতি নিভে সবুজ হতেই প্রতীক পেয়ে তারা নেমে পড়েছেন ভোটারদের মাঝে। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এলাকায় এলাকায় ভোট চাওয়া শুরু করেছেন। প্রচারপত্র বিলির পাশাপাশি পোস্টার সাঁটানো শুরু হয়েছে; ব্যানার-ফেস্টুনও ঝুলতে শুরু হয়েছে।
পাঁচ বছর পর ফিরে আসা জাতীয় নির্বাচনের প্রচার শুরুর এ উৎসবের মধ্যেই আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে প্রার্থীদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
আগামী ২১ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) ঢাকার ২০ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে ইসি কর্মকর্তারা মতবিনিময় সভাও করবে। ওই সভায় এসব আসনে ভোটে অংশ নেওয়া ১৫৬ জন প্রার্থীকে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করেছেন ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা বিভাগীয় কমিশনার সাবিরুল ইসলাম।
সোমবার প্রতীক বরাদ্দের সময় তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, আপনারা সবাই আচরণবিধি মেনে চলবেন। ইসির বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।”
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ সভা হবে। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ও নির্বাচন কমিশনাররা প্রার্থীদের কথা শুনবেন।
ঢাকা জেলার দুই রিটার্নিং অফিসার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার সাবিরুল ও ডিসি আনিছুর রহমান উপস্থিত থাকবেন।
আচরণবিধির পাশাপাশি ব্যয়ের সীমাও মানতে হবে প্রার্থীদের। সংসদ নির্বাচনে এবার প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয় ২৫ লাখ টাকা এরই মধ্যে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ভোটের পরে নির্বাচনি ব্যয়ের বিবরণীও দিতে হবে তাদের।
সোমবার ঢাকা-৪ থেকে ঢাকা-১৮ আসনের ১২২ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেন বিভাগীয় কমিশনার।

ঢাকা-১ থেকে ঢাকা-৩ ও ঢাকা-১৯ ও ঢাকা-২০ আসনের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে আচরণবিধি মেনে প্রচারণা করার জন্য অনুরোধ জানান ডিসি আনিছুর।
এ পাঁচ আসনের ৩৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরও বৃহস্পতিবারের মত বিনিময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বলেন তিনি।
প্রচারে প্রার্থীরা
ঢাকার ২০টি আসনে প্রতীক পেয়েই অধিকাংশ প্রার্থী প্রচারণা শুরু করেছেন। রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে জনসংযোগের পাশাপাশি কেউ কেউ নিজেদের কর্মীদের নিয়ে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঘরোয়া বৈঠক করতে শুরু করেছেন।
দেশের অন্যান্য স্থানের আসনগুলোর চিত্রও প্রায়ই একই। জেলায় জেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতীক নিয়ে তারা ফিরে গেছেন নিজ নিজ আসনে। অনেকেই প্রতিনিধি পাঠিয়ে প্রতীক বরাদ্দের আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারের জন্য স্থান ও সময় নির্ধারণ করছেন অনেকে; পোস্টার ছাপানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তারা।
ঢাকার ২০টি আসনে এবার ১৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বতন্ত্র হিসেবে ভোট করছেন।
মোহাম্মদপুর-আদাবর নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৩ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তার নির্বাচনি এলাকায় নৌকার পোস্টারের দেখা মিলতে শুরু করেছে।

সোমবার প্রতীক পাওয়ার পরপরই তিনি নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে দলের সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রিং রোডের সূচনা কমিউনিটি সেন্টারে প্রচারণা ও সাংগঠনিক করণীয় সম্পর্কে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
রাতে বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির মসজিদে এশার নামাজ পড়েন। এরপর সোসাইটির বাড়ি মালিক সমিতির সঙ্গে উঠান বৈঠক এবং চন্দ্রিমা উদ্যান সার্বর্জনীন পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।
এছাড়া মোহাম্মপুর ও আদাবর এলাকার স্থানীয় নেতারা নৌকা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর অংশ হিসেবে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছেন।
মোহাম্মদপুর থেকে রাজধানীর আরেক প্রান্ত ঢাকা-১৮ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেরিফা কাদের প্রতীক পেয়ে উত্তরায় স্থানীয় পর্যায়ে জনসংযোগ করেন। মঙ্গলবার উত্তরখান মাজার থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করার কথা রয়েছে তার।
লাঙ্গলের এ প্রার্থীর পোস্টার ছাপানোর কাজ শুরু হবে দুয়েকদিনের মধ্যে। জনসংযোগ, কর্মীসভাসহ প্রচারণার বিভিন্ন কৌশল শিগগির চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান এ প্রার্থীর প্রচারণায় সম্পৃক্ত মো. হান্নান।
ঢাকা-১৭ আসনের আওয়ামী লীগ মোহাম্মদ এ আরাফাত প্রতীক পেয়ে বিকালেই কড়াইল আদর্শনগর ও ধামালকোট এলাকায় জনসংযোগ করেছেন।

বিএনএফ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ভোট করছেন ঢাকা-১৭, ঢাকা-১৮ ও চট্টগ্রাম-৮ আসনে। দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে সভার জন্য চট্টগ্রামে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। টেলিভিশন প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছে তার দল।
আজাদ বলেন, “আমি প্রথম দিন চট্টগ্রামে পার করলাম। কাল ঢাকায় গিয়ে পোস্টার ছাপানোসহ অন্যান্য কাজ শুরু করবো। আমাদের ৪৬ প্রার্থী নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। দলীয় পোস্টার ডিজাইন করা রয়েছে আর কিছু প্রস্তাবসহ কৌশল নির্ধারণ করে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করব দুয়েকদিনের মধ্যে।”
ঢাকা-৮ আসনে নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রতীক পাওয়ার পর স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) ও ঢাকা মেডিকেল কলেজে সবার সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরে তিনি এ আসনের ৯টি ওয়ার্ডের ১১০টি ভোট কেন্দ্রের জন্য বাহাউদ্দিন নাছিমের পক্ষে লিফলেট এবং হ্যান্ডবিল বিতরণ করা হয়।