Published : 11 Apr 2026, 07:34 PM
জ্বালানি তেল সরবরাহে চাপের মধ্যে থাকা সরকারের সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, তেল ‘শুধু সংসদে’ আছে, বাংলাদেশে না।
শনিবার ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে জামায়াত আমির এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “জ্বালানির এখন হাহাকার। তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে না। সংসদে যখন মন্ত্রী কোনো বিবৃতি দেন, অথবা সরকারি দলের, ট্রেজারি বেঞ্চের যখন কেউ কথা বলেন, তখন মনে হয় তেলের উপর বাংলাদেশ ভাসছে। শুধু কিছু অসৎ, চোর-চোট্টা মানুষের কারণে আমরা সমস্যায় পড়ে গেছি।
“এবং এটাও বলা হয়, আগের থেকে তেলের যে স্বাভাবিক চাহিদা ছিল, ইরান ভার্সেস যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে। আচ্ছা ভালো কথা, চাহিদা পূরণ করেন না কেন?”
গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে চাপে পড়ে সরকার। এরপর রেশনিং ব্যবস্থাসহ নানা ব্যবস্থা নিলেও পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকায় হরমুজ প্রণালি হয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় জ্বালানি সমস্যার সমাধান এখনই হচ্ছে না।
জামায়াত আমির বলেন, “যাওয়া আসা আপনারাও করেন, আমরাও করি। আমি রাত্রে ৩টার দিকে এই শহরে এবার ঘুরাঘুরি করি। ভাবলাম দিনের বেলায় মোটরবাইক, বাস, গাড়ি-ঘোড়া চলে। দেখি শেষ রাতের দৃশ্যটা কি? সেই, সেইম, সিমিলার; একজনের পেছনে আরেকজন লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে স্টিল; কার এমন গরজ আছে, সাত-আট ঘণ্টা এভাবে দাঁড়িয়ে তেল নেবে?”
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি-বাপেক্সের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, “আমাদের বাপেক্স আছে। তারা পড়ে আছে। তাদের দক্ষতাটা কেন আমরা ডেভেলপ করছি না?”
বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করছে তুলে ধরে তিনি বলেন, “এখানেও ঘুরেফিরে সিন্ডিকেট, পলিটিক্যাল সিন্ডিকেশন। যতগুলো বড় সিন্ডিকেশন আমাদের দেশে হয়, সবগুলোর পেছনে ক্ষমতাসীন দল, যারা তাদের হাত থাকে। অতীতেও ছিল, এখনও আছে। তার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
“আরেকদিকে চোরাইবাজার, আড়াই গুণ, তিন গুণ দামে এরা বিক্রি করছে। এরা কারা?”
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “মাঝেমাঝে লোকদেখানো অপারেশন আমরা দেখি। এই সবগুলোর পেছনে, খুঁটির জোর আছে বলেই এগুলা হচ্ছে।”
শফিকুর রহমান বলেন, “জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাফার স্টক (জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য অতিরিক্ত পণ্যের মজুত) তৈরি করতে হবে। সরকারকে চাহিদা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছ হতে হবে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৯০ দিনের বাফার স্টক গড়ে তুলতে হবে।”
সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সৌর শক্তি বা বিকল্প জ্বালানির দিকে নজর দিতে বলেন তিনি।
রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়েোন ‘এগ্রিকালচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ-এএফবি’ আয়োজিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষিবিদ ড. মো. মিজানুর রহমান।
এএফবি সভাপতি সিলেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ বি এম মাহবুব ই ইলাহী তাওহীদের সভাপতিত্বে সেমিনারে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনের মহাসচিব শেখ মোহাম্মদ মাসউদ।