Published : 18 Dec 2025, 07:18 PM
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ঢাকায় নামবেন বলে জানিয়েছেন দলটির নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজালাল আন্তজাতিক বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য।
সালাহউদ্দিন জানান, বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমান সড়কপথে সরাসরি যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে, যেখানে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ভর্তি আছেন তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
“আমরা আজ অভ্যর্থনা টিমের সদস্যরা এখানে (বিমানবন্দর) এসেছি। আমাদের নেতা অবতরণ করবেন, সেই জায়গা থেকে কোথায় বসবেন এবং যেসব সড়ক দিয়ে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন, এরপর বাসায় যাবেন, সেগুলো আমরা সরজমিন পরিদর্শন করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে সমন্বয়ক করছি।”
তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছরের কষ্টের নির্বাসিত জীবন শেষে আমাদের নেতা ২৫ ডিসেম্বর ঢাকা ফিরবেন। বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত কর্মাশিয়াল ফ্লাইটেই উনি আসবেন। সেটা অবতরণ করবে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে; সেটা বেলা ১২টাও বলতে পারেন।”
তারেক রহমানকে অভর্থনা জানানো এবং তার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে থেকে সহযোহিতা পাচ্ছেন বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ, যিনি তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানাতে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক।
২০০৭-০৮ সালের সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার মত তার বড় ছেলে তারেক রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পরিবার নিয়ে লন্ডনে চলে যান, দেশে আর ফেরেননি।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে আসবেন বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দেশে ফিরে তারেকের ওঠার কথা গুলশান অ্যাভেনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে। এর পাশেই ‘ফিরোজা’ নামের বাড়িতে থাকেন খালেদা জিয়া।
সালাহউদ্দিন বলেন, “তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়ে গত কয়েক দিন ধরে শামসুল ইসলাম সাহেবের নেতৃত্বে সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে কাজের সমন্বয় করছেন।”
‘সারাদেশ থেকে লোকজন আসা শুরু হবে ২৪ ডিসেম্বর’
সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে সারাদেশ থেকে নেতা-কর্মীরা আসবেন। আমরা দেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছি, কীভাবে তারা ২৪ তারিখ রাতের মধ্যে অথবা ২৫ তারিখ সকালের মধ্যে তারা ঢাকায় আসবেন? এরই মধ্যে সারা দেশের জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা চাই, বিগত ৫৫ বছরের ইতিহাসে যেসব কিছু দৃষ্টান্ত বা রেকর্ড হয়েছে তাকে ছাড়িয়ে যায় এবং আগামী ৫৫ বছরের ইতিহাসেও যেন এরকম কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা না হয়, সেরকম একটা স্মরণীয় করে রাখার জন্যই আমাদের সমস্ত আয়োজন হচ্ছে।”
সংবর্ধনা হবে কোথায়?
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘এটা এখনো ঠিক হয়নি। আমরা জায়গাগুলো দেখছি। দেশের জনগণ তাকে একনজর দেখার জন্য উদগ্রীব ও উন্মুখ হয়ে আছে; তার দুইটা কথা শোনার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। সেজন্য আমরা ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি, সেটা কোন জায়গায় হলে ভালো হয়।”
অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘‘অভ্যর্থনা কমিটি কাজ করছে পুরোদমে। কাজের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আজ ১৮ তারিখ, আজ পরযন্ত যতটুকু এগনো দরকার, ততটুকু এগিয়েছি।
“সেদিন মানুষের যে উপস্থিতি হবে, সেটা নিসন্দেহে ঐতিহাসিক হবে। ইতিহাসের স্মরণীয় জনসমাগম নিশ্চিত করার জন্য আমাদের এই কমিটি দিনরাত পরিশ্রম করছেন।”
ব্রিফিংয়ে বিএনপির মিডিয়া টিমের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল এবং খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা শামসুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।