Published : 23 Nov 2025, 08:52 PM
আগামীতে ক্ষমতায় গেলে মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে বিএনপি বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান।
রোববার বিকালে জাতীয় ইমাম ও খতিব সম্মেলনে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, ‘‘আমরা সবাই জানি, আইয়ামে জাহেলিয়ার সময়ে আমাদের মহানবী (সা.)-কে যারা অপছন্দ করত তারাও মহানবীকে ন্যায়পরায়ণ হিসেবে মানত এবং বিশ্বাস করত। মহানবীর ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে মুসলমান-অমুসলমান বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কারও মধ্যেই কোনো সংশয় ছিল না। মহানবীর সেই ন্যায় পরায়ণতার আদর্শ সমুন্নত রেখে রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনায় বিএনপির মূল মন্ত্র হবে ইনশাআল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা।
‘‘মহানবীর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শে উজ্জীবিত একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আগামী নির্বাচনে বিএনপি দেশের সকল সম্মান্বিত ইমাম-খতিব- মুয়াজ্জিন-আলেম-ওলামা-পীর-মাশায়েকদের দোয়া ও সমর্থন চায়।”
তারেক রহমান বলেন, ‘‘আমি আপনাদের কাছে দোয়া চাই, আমার মায়ের জন্য দোয়া চাই, আমার দলের নেতাকর্মী-সমর্থক এবং সর্বোপরি দেশবাসীর জন্য দোয়া চাই।”
আগারগাঁও বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদের উদ্যোগে জাতীয় ইমাম খতিব সম্মেলন-২০২৫ শীর্ষক এ সম্মেলন হয়। এতে ইমাম ও খতিবদের ৭ দফা দাবি উপস্থাপন করেন কমিটির সদস্য সচিব মুফতি আজহারুল ইসলাম।
‘ইমাম-খতিব-মুয়াজ্জিনদের দাবি অগ্রাধিকার পাবে’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘আপনাদের উপস্থাপিত দাবির বেশ কয়েকটি অগ্রধিকারভিত্তিতে পূরণ করার সব রকমের সুযোগ রয়েছে বলে আমি মনে করি। আপনারা ইমাম-খতিব-মুয়াজ্জিনদের জন্য সার্ভিস রুল প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। আপনাদের এই দাবিটি অত্যন্ত যৌক্তিক।
‘‘অনেক মসজিদে মসজিদ কমিটির ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপরে ইমাম-মুয়াজ্জিনের চাকরি নির্ভর করে। আমি মনে করি এটি হওয়া উচিত নয়, এটি হতে পারে না। এটিকে আমি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিরুদ্ধে অন্যায্য আচরণ বলে মনে করি।”
আগামিতে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সার্ভিস রুল প্রণয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন তিনি। এ বিষয়ে ইমাম-খতিবদের একাধিক কমিটি করে প্রতিটি দাবির সুনির্দিষ্ট সুপারিশ বিএনপিকে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
‘বিএনপির দর্শন’
তারেক রহমান বলেন, ‘‘ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে বিএনপি এমন একটি কল্যাণমূলক সমাজ, সরকার এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে যে রাষ্ট্র সমাজে মুসলমানগণ নিঃসংকোচে কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী নিজেদের জীবন পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন, নির্ভয়ে নিরাপদে এবাদত বন্দেগি করতে পারবেন।
‘‘একইভাবে অন্য ধর্মের মানুষেরাও নিরাপদে নিশ্চিন্তে যার যার ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করতে সক্ষম হবে। বিএনপি কখনোই ইসলামের মূলনীতি কিংবা মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে আপোস করেনি, ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও করবে না।”
তিনি বলেন, ‘‘আপনারা জানেন পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচারের দল যারা স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসে নিজেদের ইচ্ছেমতন সংবিধান রচনা করেছিল, সেই সংবিধানে দেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন তখন ঘটেনি।
“পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনা দায়িত্ব পাবার পর সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, সংবিধানে সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপরে আস্থা এবং বিশ্বাস অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বর্তমানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপরে আস্থা এবং বিশ্বাস’ কথাটি এভাবে রাখা হয়নি। কেন এভাবে রাখা হয়নি? এই প্রশ্নটি আজ আমি আপনাদের সামনে দেখে গেলাম।”
তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি বরাবরই ইসলাম এবং মুসলমানদের স্বার্থবিরোধী যেকোন অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার। পতিত, পরাজিত, পলাতক স্বৈরাচার ইসলাম, মুসলমান এবং ইসলামী সংস্কৃতিকে রাষ্ট্র ও সমাজে নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করেছিল। আপনাদের এখানে যারা আজকে উপস্থিত আছেন আপনাদের অনেকেরই নিশ্চয়ই মনে আছে যে, ২০২৪ সালে পবিত্র রমজান মাসে হঠাৎ করে মুসলমানদের ধর্মীয় সংস্কৃতি ইফতার মাহফিল আয়োজনের উপরে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।”
‘‘এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এটি ছিল বাংলাদেশের ইসলামবিরোধী, ইসলামের মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। সেই সময় বিএনপি অপতৎপরতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। ২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থকদের উপরে হানাদার বাহিনীর মতন ক্র্যাকডাউন চালানো হয়েছিল। গণহত্যার প্রতিবাদে এবং হেফাজতে ইসলামের সমর্থনে বিএনপি সারাদেশে দুইদিন হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল তখন।”
‘ইমাম-খতিব-শিক্ষার্থীদের বাইরে টেকসই উন্নয়ন হবে না’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘যেকোনো পেশা কিংবা চাকুরির ক্ষেত্রে সার্টিফিকেটের গুরুত্ব বিবেচনা করে কাওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ডিগ্রি ‘দাওরে হাদিস’ অর্থাৎ ‘তাকমিল সনদকে’ মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া সরকারের আমলেই নেওয়া হয়েছিল। দেশে বর্তমানে কওমি ও আলিয়া সরকারি বেসরকারি বা নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত সব মিলিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের ৫০ হাজারেরও বেশি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব মাদ্রাসায় লাখ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।
‘‘দেশের সরকারি কিংবা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সারাদেশে সব মিলিয়ে মসজিদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ বা তারও কিছু বেশি হতে পারে। এই মসজিদগুলোতে কম বেশি প্রায় ১৭ লাখ ইমাম-খতিব-মুয়াজ্জিন ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করছেন। লক্ষ লক্ষ মসজিদ মাদ্রাসায় ইমাম-মুয়াজ্জিন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় অগ্রগতিমূলক কার্যক্রমের বাইরে রেখে দেশ কখনোই টেকসই উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। এ বাস্তবতা থেকে বিএনপি আগামী দিনের কর্মসূচিতে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।”
‘ইমাম-খতিবরা সমাজ সংস্কারক’
তারেক রহমান বলেন, ‘‘বিএনপি বিশ্বাস করে সারাদেশে ইমাম-খতিব-মোয়াজ্জিনগণ প্রত্যেকেই সমাজ সংস্কারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আপনারা মানুষের নৈতিক এবং আত্মিক শুদ্ধির জন্য নিজেদের সময় ব্যয় করেছেন বা করছেন। ধর্মীয় মূল্যবোধে উজ্জীবিত একটি নৈতিক সমাজ গঠনের জন্য গঠনের জন্য এটি আপনাদের একটি প্রশংসনীয় অবদান।
‘‘বিএনপি মনে করে সমাজ সংস্কারকের ভূমিকায় বা ভূমিকা পালনকারী ইমাম-খতিব- মুয়াজ্জিনগণ যারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন তাদেরকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এমন বাস্তবতায় ইমাম-খতিব- মুয়াজ্জিনদের মধ্যে যারা আর্থিক অনটনে রয়েছেন তাদেরকে প্রতিমাসে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্মানী ভাতা দেওয়ার ব্যাপারে বিএনপির একটি পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে আল্লাহর রহমতে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে ইমাম- মুয়াজ্জিনদেরকে সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে ইনশাল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করব।”
‘একই সঙ্গে ইমাম-মুয়াজ্জিনদেরকে আর্থিকভাবে আরো স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টকে শক্তিশালী করে আরো বহুমুখী প্রকল্প গ্রহণ, দুযোর্গ প্রতিরোধে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন চিন্তাভাবনা বিএনপির থাকার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান।
‘আপনারা সমাজেরও ইমাম’
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, “আপনারা আমাদের ইমাম, আপনাদের আমরা সন্মান দেখাতে চাই। আপনারা সমাজের ইমাম হবেন। আপনাদের অনুসরণ করেই আমরা এগিয়ে যাব।
‘‘আমরা মনে করি, বিশ্বাস করি, ইমামরা যেদিন সমাজের ইমাম হবেন সেদিন আমাদের মুক্তি হবে।”
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৯০% মানুষ আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে। তারা কোরআন মানে, রাসুল (সা.)-কে শেষ নবী মানে। তাই এদেশের আইন চলবে কোরআনের মতবাদে ইনশাআল্লাহ।
‘‘এই জায়গায় যতদিন দেশ না আসবে, ততদিন মানবিক সমাজ আমরা কায়েম করতে পারব না।”

‘ইসলামকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে’
ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশের আমীর মাওলানা ফজলুল করীম বলেন, ‘‘গণঅভ্যুত্থানের পরে সারাদেশে ওলামা কেরামের যে মাঠ তৈরি হয়েছে তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আর এদেশে নাস্তিকতা, ফ্যাসিবাদের কোনো স্থান থাকবে না। এদেশে আলেম-ওলামাদের নেতৃত্ব থাকতে হবে।
‘‘আমি বিশ্বাস করি, আগামীতে ইসলাম যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমতায় যায় তাহলে ইমাম খতিবদের দাবি পূরণ মাত্র ১/২ মিনিটের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। বিগত সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো যারা ক্ষমতায় গেছে তারা ধোঁকা দিয়েছে এটা আর কেউকে করতে দেয়া হবে না।”
‘আওয়ামী লীগ ইসলামবিরোধী রাজনীতি করেছে’
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে বিগত ১৬ বছর ইসলামবিরোধীদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, আওয়ামী লীগ ইসলাম বিরোধী রাজনীতি করেছে, আওয়ামী লীগ ভারতের দালালি করেছে।
‘‘আমরা এবার কারও দালালি নয়, নিজেদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজের পায়ে বাংলাদেশ গড়ে তুলব এবং সেই বাংলাদেশ হবে ইনসাফের বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ। সেই নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের লড়া, সেই নতুন সমাজ বিনির্মাণের লড়াই জুলাই গণঅভুত্থানে যেভাবে আপনারা-আমরা কাঁধে কাধ মিলিয়ে লড়াই করছি, আমরা সামনেও কাঁধে কাঁধ মিলে লড়াই করব। আমরা আপনাদের সাথে থাকবো আপনারা জনগণের পাশে থাকবেন।”
‘কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো কানুন নয়’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘আপনারা যে ৭ দফা দাবি দিয়েছেন সে সম্পর্কে বলতে চাই, আমরা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের যে ধারণা সকল নাগরিক ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকদের অধিকার আচার-অনুষ্ঠান নিশ্চিত করার বিধান সংবিধান আছে। আমরা এটার নিশ্চিত করব ইনশাল্লাহ।
‘‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কোরআন ও সুন্নাহ’র বিপরীতে কোনো কানুন করা হবে না। যদি থাকে সেটা বাতিল করা হবে। সংবিধানের মূলনীতিতে শহীদ জিয়াউর রহমান বিসমিল্লাহহির রাহমানির রাহিম’ সন্নিবেশিত করেছিলেন। এখন সেটা নেই। আমরা আগামীতে এটা সংবিধানে পুনবর্হাল করব।”
সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদের আহ্বায়ক বায়তুল মোকাররম মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মুহিবুল্লাহির বাকী নদভীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় হেফাজতের মাওলানা জোনায়েদ আল হাবিব, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মুফতি হাবিবুর রহমান কাশেমী, মুফতি বশির উল্লাহ, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী, মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, নেজামী ইসলাম পার্টির মুফতি মুসা বিন ইজহার, শায়খ আহমদুল্লাহ, মাওলানা মুনির হোসাইন কাশেমী, মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, মাওলানা আবদুল্লাহ বিন আবদুর রাজ্জাক, মাওলানা গোলাম রাব্বানীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ইমাম-খতিবরা বক্তব্য রাখেন।