Published : 14 Apr 2026, 08:37 PM
বিরোধী দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির জনকর্মসূচির বিরোধিতাকারীদের ওপরে ধীরে ধীরে ‘স্বৈরাচারের ভূত’ আছর করছে এবং এ বিষয়ে দেশবাসীকে সর্তক থাকতে হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সংসদে কী দেখলাম? যাদেরকে মানুষ অল্প ভোট দিয়েছে, সেই বিরোধী দল, তারা যেটি বলছে সেটিই হবে… এরকম একটা দাবি তারা তুলেছে সংসদে।
“এই জনসভায় দাঁড়িয়ে আপনাদের এবং মিডিয়ার সামনে বলতে চাই, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যখন ড. মুহাম্মদ ইউনূস ডেকেছিলেন, তখন প্রথমে বিএনপি জুলাই সনদে সই করেছে। কাজেই যে জুলাই সনদ বিএনপি সই করে এসেছে, তার প্রত্যেকটি অক্ষর, প্রত্যেকটি শব্দ, প্রত্যেকটি লাইন আমরা বাস্তবায়ন করব।”
তারেক রহমান বলেন, “আমরা দেখেছি, এখন যারা বিরোধী দলে আছে, তারা (সই) করবে কি করবে না একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে। তাদের সঙ্গে একটা দল আছে তারা তখন সই-ই করে নাই… নির্বাচনের পরে গিয়ে সই করল। যারা জুলাই আন্দোলন নিয়ে গলা ফাটায় তাদের তো আমরা প্রশ্ন করতে পারি, এতই যদি দরদ হয় প্রথমে সই করলে না কেন?”
যারা সরকারের খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, পেশাদার খেলোয়াড় তৈরিসহ জনকর্মসূচিগুলোকে বাধাগ্রস্ত করবে, বিএনপি ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করবে’ বলে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। কারণ স্বৈরাচারের ভূত তাদের ওপরে আবার ধীরে ধীরে আছর করছে। তারা আবার দেশে অরাজকতা তৈরি করতে চাচ্ছে।”
শেরপুর-৩ আসনে স্থগিত হওয়া নির্বাচন এবং বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুইদিন আগে আপনারা দেখেছেন, সমগ্র দেশের মানুষ দেখল বাংলাদেশের দুটি জায়গা, এক শেরপুর ও দুই বগুড়ার একটি আসনে উপ-নির্বাচন হয়েছে। হ্যাঁ, হয়ত বা অবাঞ্ছিতভাবে দুই-একটি ছোটোখাট ঘটনা ঘটেছে।
“আমি দুইদিন আগে নির্বাচন হবার পরে বাংলাদেশের সব পত্রিকাগুলো ঘাঁটাঘাঁটি করলাম। পত্রিকার কোনো খবরেই কিন্তু কোনো জায়গায় অবাঞ্ছিত বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে তেমন কোনো কিছু নাই। ছোটোখাট একটা দুইটা হালকা ঘটনা আছে নিউজে। কিন্তু অভিযোগ করার মত কোনো পত্রিকায় কোনো ঘটনা নাই। যেখানে উপ-নির্বাচন হয়েছে, সেখানের মানুষ শান্তিতে আছে; পরিস্থিতি ঠান্ডা।
“কিন্তু পরিস্থিতি গরম কোথায়? বায়তুল মোকারমে। কারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে নিশ্চয় সেটি আপনাদের অজানা নয়।”
দেশ থেকে ‘স্বৈরাচার’ পালিয়ে গেছে কিন্তু ‘স্বৈরাচারের ভূত’ এখনো রয়ে গেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে জনসম্পৃক্ত যেসব কর্মসূচি আছে, সেগুগুলো যাতে বাধাগ্রস্ত হতে না পারে।”
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং টাঙ্গাইল-২ আসনের এমপি আবদুস সালাম পিন্টু সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত করেন। সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়ক পথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।