Published : 08 Dec 2025, 03:09 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে তফসিল চূড়ান্তের প্রস্তুতি চললেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি কিংবা সবার জন্য সমান সুযোগ ‘সুনিশ্চিত হয়নি’ বলে মনে করছে জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “আইন-শৃঙ্খলার মাঝে মাঝে খুব গুরুতর অবনতি আমরা দেখছি।...লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে পারেনি।
“এইসব পরিস্থিতি নিয়েই আমরা মূলত নির্বাচন কমিশনকে… এখনই সিরিয়াস না হলে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে…।”
সোমবার সকালে নির্বাচন ভবনে গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন জামায়াতের প্রতিনিধি দল। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন এবং চার নির্বাচন কমিশনার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, কোনো কোনো বিষয়ে কিছু ‘ইনফরমেশন গ্যাপ’ এবং কিছু অস্পষ্টতা দূর করার জন্য তারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এই বৈঠক করেন।
“নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা–এটার জন্য জাতি অপেক্ষা করছে। নির্বাচনের ঘোষিত যে টাইমলাইন, আসন্ন রমজানের পূর্বেই নির্বাচন করার ব্যাপারে জাতির কাছে সরকার এবং পলিটিক্যাল পার্টি স্টেকহোল্ডার আমরা যারা কমিটেড, নির্দিষ্ট তফসিল ঘোষণার সময়টা একেবারেই পেরিয়ে যাচ্ছে দেখে আমরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট ঘোষণা, সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত কী, সেটা জানবার জন্যই মূলত আজকে বিষয়টা আমরা রেইজ করেছি।”
ভোটের আগে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার বিষয়েও কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথাও তারা বলেছেন।
তিনি বলেন, “মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে বলেছি; প্রশাসনের কর্মরত বড় বড় কর্মকর্তা এবং ইলেকশনের সাথে রিলেটেড অফিসারদের নিরপেক্ষতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেটা আলোচনার বিষয় ছিল।
“এরপরে আমরা আলোচনায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার যে অভিযান, সেটাকে আমরা খুব ইফেক্টিভ দেখছি না।”
আইনশৃঙ্খলার ‘অবনতি হচ্ছে’
গণসংযোগে গিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছে অভিযোগ তুলে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতি কতটুকু উন্নতি হবে তা নিয়ে তাদের সংশয় রয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আইন-শৃঙ্খলার যে মাঝে মাঝে খুব গুরুতর অবনতি আমরা দেখছি, একটা দলের সভার উপরে অন্য দলের হামলা; ইভেন নারীরাও তাদের ভোটের কাজে ভোটের সমাবেশে গিয়ে নির্যাতিত, নিপীড়িত, হামলার শিকার হচ্ছে, আহত হচ্ছে।
“এসব পরিস্থিতি নিয়েই আমরা মূলত নির্বাচন কমিশনকে এখনই সিরিয়াস না হলে তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে; কী কী আশঙ্কা আছে, কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ ফেইস করবেন—সে ব্যাপারে ইসির পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
ভোটের মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির প্রশ্নে তিনি বলেন, “প্রথম কথা হচ্ছে, নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সম্পর্কে নিশ্চিত করতে পারেননি। পারেননি যে, বিদ্যমান অবস্থার কিছু তথ্যপ্রমাণ স্পেসিফিক আমরা উনাদের সামনে তুলে ধরে বলেছি; এই অবস্থা থাকলে এটাকে আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হিসেবে গ্রহণ করব না। সুনির্দিষ্টভাবে আপনাদেরকে পদক্ষেপ নিতে হবে। ”
‘ভোট বিলম্বের শঙ্কা নেই’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “(কমিশন) তাদের সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা তারা নির্বাচনকে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করার জন্য চেষ্টা করবেন বলে কথা দিয়েছেন এবং এই সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আশাবাদ তারা ব্যক্ত করছেন।
“এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত তাদের হয়েছে, আশা করা যায়। সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই তারা নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করবেন এবং কমিটমেন্ট বিফোর রামাদান—এই জাতীয় নির্বাচন হবে; সেই ধরনের তারিখ তারা সুনির্দিষ্ট করে ঘোষণা করবেন।”
জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন বিলম্বের আশঙ্কা করছে না জানিয়ে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “আশঙ্কা আমরা এখন ফিল করছি না; ইসির উপর আস্থা রাখতে চাই। ...অনাস্থা নিয়ে আমরা আসিনি। কিন্তু জাতি মনে করছিল, তাদের কমিটমেন্ট অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিলটা ঘোষণা হয়তো হয়ে যাবে।
“সে সময়টা যেন পার হয়ে যাচ্ছে; দ্যাট ইজ হোয়াই এইটাকে পরিষ্কার করার জন্য—সংশয় নিরসনের জন্য অনেকগুলো ইস্যুর মধ্যে এটাকে আমরা আজকে এটাকে অ্যাম্ফেসাইজ করেছি।”
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণেও নির্বাচন পেছানোর শঙ্কা করছেন না এ জামায়াত নেতা।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা কোন আশঙ্কা করি না। কারণ আমরা নির্বাচন তো একটা ভিন্ন জিনিস, আইনের বিষয়। এটার সাথে অন্য কিছুকে রিলেট করা যাবে না; এটা একটা বিশাল সাংবিধানিক আইনগত বিষয়।”
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম, এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসান মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।