১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দিনভর ‘বেফাঁস মন্তব্য’, রাতের বেলায় ‘বিএনপি নেতাদের বাসায় ধর্ণা’; কাকে নিয়ে বললেন কাদের

কোন দল কিংবা কাদের উদ্দেশ করে তিনি এ পোস্ট দিয়েছেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা কথাবার্তা।

দিনভর ‘বেফাঁস মন্তব্য’, রাতের বেলায় ‘বিএনপি নেতাদের বাসায় ধর্ণা’; কাকে নিয়ে বললেন কাদের
আব্দুল কাদের। ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Nov 2025, 04:11 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:42 PM

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) নেতা আব্দুল কাদেরের একটি ফেইসবুক পোস্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

সোমবার তিনি লিখেছেন, “একটা দলের নেতারা দিনের বেলায় হাঁক-ডাক ছাড়ে, দিনভর বিএনপিরে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে; আর রাতের বেলায় বিএনপির নেতাদের বাসায় গিয়ে ধর্না দেয়!

“মিডিয়ায় গলাবাজি করা আপোষহীন ঐ নেতা এবং তাঁর ইমাম সাহেব গত পনের দিনে বিশটা সিটের জন্য বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন সাহেবের বাসায় ৩ বার মিটিং করেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলামের বাসায় ধর্না দিয়েছেন এখন পর্যন্ত ১ বার!”

তার এমন বক্ত্যবের পর তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কোন দল কিংবা কাদের উদ্দেশ করে তিনি এ পোস্ট দিয়েছেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে কথাবার্তা।

বাগছাস থেকে ডাকসুর ভিপি প্রার্থী হওয়া কাদের লেখেন, “আসন সমঝোতায় বেটার নেগোসিয়েশনের কৌশল হিসেবে এমন উল্টাপাল্টা বক্তব্য দিচ্ছেন ঐ তথাকথিত আপোষহীন নেতা। আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলতে তুলতে ঐ নেতা আবার সেটা বলেও বেড়াচ্ছেন। অথচ গণ-অভ্যুত্থানের পরের চিত্র কেমন ছিল! পুরানা রাজনৈতিক দলগুলো তরুণদের কাছে আসবে, তরুণ থাকবে ড্রাইভিং সিটে। কিন্তু খোদ ইমামরা গিয়ে বসে থাকেন বিশটা সিটের জন্য! আসন ভাগানোর কৌশল হিসেবে মিডিয়ায় গালিগালাজ করে বেড়ান; বাসায় গিয়ে বসে থাকেন; তবুও আসন মিলে না! হা হা হা।”

এর আগেও বিভিন্ন সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এ সমন্বয়ক অনেককে নিয়ে এবং দল বা সংগঠনের অতীত ও বর্তমান ভূমিকা নিয়ে নানা বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলন সফল হওয়ার পর আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকায় সামনের সারিতে থাকা অন্যরা অন্তর্বর্তী সরকারে যুক্ত হলে কিংব নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিলেও কাদের যাননি।  

নির্বাচনের আগে দলগুলোর মধ্যে জোট করা নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে বাগছাসের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নেতা ওই ফেইসবুকে পোস্টে আরও লেখেন, “বন্ধু বন্ধু বলে একদিকে ব্ল্যাকমেইল করে; অন্যদিকে মাইনাস করে। গুটিকয়েক মানুষের মধ্যে দল কুক্ষিগত করে। মনোভাব এমন যে, নিজের আসনসহ চাহিত আসন নিশ্চিত হইলে তথাকথিত আপোষহীন নেতাদেরও বিক্রি হইতে সমস্যা নাই। কিন্তু তাদের মাইনাস আর অপরাজনীতির শিকার কেউ স্বাধীনভাবে রাজনৈতীক সিদ্ধান্ত নিতে চাইলেই তাদেরকে লাল টুকটুকে স্বপ্ন বিক্রির অপবাদ দেওয়া হবে। যেই ২০ জনের জন্য সিট চাওয়া হয়েছে সেই তালিকাটা এখন আর দিলাম না। দলের ক্ষমতা কুক্ষিগত, মাইনাসের রাজনীতি আর কোরামবাজির বাজে অবস্থা দেখলে দলের বাকিদেরও ঘুম ভাঙবে।”

তবে এ পোস্ট কাদের কাকে উদ্দেশ করে লিখেছেন সে বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিএনপি নেতাদের বাসায় যাওয়া নিয়ে তার দেওয়া বক্তব্য যাচাই করতে পারেনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

কাদেরের পোস্টের মাহমুদা নওরিন নামের একজন মন্তব্য করেছেন, “তালিকাটাও প্রকাশ করবেন আশা করি। যারা তাদের সমর্থকদের "আসন না পেলেও,এনসিপি ছাড়বো না" এই কথায় ভরসা করেনা ,সম্মান রাখেনা। রাজনৈতিক কমিটমেন্ট নিয়ে গাদ্দারী করে বারংবার! এদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন আছে!”

সাকিব মাহমুদ রুমি নামের একজন মন্তব্য করেন, “এইসব বলাবলিতে কার লাভ আসলে? আন্তঃকোন্দল বা নিজেদের ঘরের কথা বাইরে বললে আপনাদের নিয়েই বাকিরা মজা নিবে। বাকিরা ঠাট্টা করার সময় কিন্তু আপনাদের গ্রুপিং আর কোরামিং দেখবে না। নাহিদ ভাই, নাসির ভাই, আসিফ ভাইসহ আপনাদের সবাইকে একপক্ষ হিসেবেই তারা দেখবে।”