Published : 06 Apr 2026, 11:57 PM
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি অবিলম্বে বাতিল, চুক্তি সম্পাদনের সঙ্গে যুক্তদের বিচার ও নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসব কর্মসূচি পালন করা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হওয়া ‘রিসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা বাণিজ্য চুক্তিকে ‘বৈষম্যমূলক’ এবং ‘জাতীয় স্বার্থ বিরোধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দলটি।
বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে এই চুক্তির জন্য দায়ী করে তাকে অবিলম্বে অপসারণের দাবিও তোলা হয়েছে; যিনি বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব ছিলেন।
সমাবেশে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, “এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে ৬ হাজার ৭১০টি মার্কিন পণ্যে শুল্ক ছাড় দিতে হবে, বাংলাদেশ শুল্ক সুবিধা পাবে মাত্র ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্যে।
“সিপিডি (গবেষণা সংস্থা) বলেছে, এর ফলে বাংলাদেশ বার্ষিক ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার আমদানি-শুল্ক রাজস্ব হারাবে। বিনিময়ে বাংলাদেশকে যে ‘সুবিধা’ দেওয়া হয়েছে তা নেহাতই নামমাত্র।”
এই চুক্তি শুধু বাণিজ্যিক নয়, এটি একটি ‘কৌশলগত অধীনতার দলিল’ এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “চুক্তির ৪.১ ধারায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি জাতীয় নিরাপত্তার কারণে কোনো দেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক আরোপ করে, তাহলে বাংলাদেশকে ‘পরিপূরক বিধিনিষেধ’ গ্রহণ করতে হবে। এর অর্থ হলো, আমেরিকা চীন বা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিলে বাংলাদেশকেও তাতে যোগ দিতে বাধ্য করা যাবে, যা বাংলাদেশের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির সরাসরি লঙ্ঘন।”
এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিও যুক্তরাষ্ট্রের ‘অধীনে’ চলে যাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “চুক্তির ৫.২ ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এমন কোনো ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তি করতে পারবে না যা মার্কিন স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করে। ৪.৩ (৪) ধারায় বলা আছে, বাংলাদেশ যদি চীন বা রাশিয়ার সঙ্গে কোনো মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করে যা এই চুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করে পুনরায় দণ্ডমূলক শুল্ক আরোপ করতে পারবে। এর মানে হলো, বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি এখন ওয়াশিংটনের ভেটো-ক্ষমতার অধীনে চলে যাবে।”
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্কাফী রতন উপস্থিত ছিলেন।