Published : 18 Dec 2025, 09:01 PM
ঢাকা জেলার পাঁচটি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়।
প্রার্থীরা প্রাথমিকভাবে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র নিলেও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ফরম বিক্রি হয়নি। তবে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কার্যালয়টি।
সহকারী কমিশনার (গোপনীয়) অনিক সাহা বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অনেকেই আসছেন, খোঁজ নিচ্ছেন ও বিভিন্ন তথ্য জেনে যাচ্ছেন। আমরা আমাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কিত সকল তথ্য দিয়ে দেব এবং আমরা একটি কন্ট্রোল রুমও গঠন করার কথা ভাবছি।”
ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের অধীনে ১৩টি আসনের মধ্যে ঢাকা জেলা প্রশাসকের অধীনে পাঁচটি আসন এবং ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার অধীনে দুটি আসন রয়েছে।
ঢাকা জেলা প্রশাসকের অধীন আসনগুলো হলো: ঢাকা-১, ঢাকা-২, ঢাকা-৩, ঢাকা-১৯ ও ঢাকা-২০ আসন।
ঢাকা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৫ হাজার ১৪০ জন, ঢাকা-২ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ২১৫ জন, ঢাকা-৩ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬২ হাজার ১৫৯ জন, ঢাকা ১৯ আসনে ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন এবং ঢাকা-২০ আসনে ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৯ জনে।

এবার সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। আগে এর পরিমাণ ছিল ২০ হাজার টাকা। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এবার ভোটার প্রতি একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ১০ টাকা গড়ে নির্বাচনী ব্যয় করতে পারবেন।
তফসীল অনুযায়ী, আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসে থেকে মনোনয়নপত্র নিয়ে জমা দিতে পারবেন।
মনোনয়নপত্র দাখিলে যা যা লাগবে
>> দলীয় প্রার্থীর ক্ষেত্রে দলের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারীর স্বাক্ষরিত দলীয় মনোনয়নপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
>> স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আসনের মোট ভোটারের অন্তত ১ শতাংশের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর তালিকা নির্ধারিত ছকে জমা দিতে হবে (আগে সংসদ সদস্য নির্বাচিত না হলে)।
>> মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারী পূর্বে জাতীয় সংসদের কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকলে তার পক্ষে কাগজপত্র দাখিল করতে হবে।
>> জামানত বাবদ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক ড্রাফ্ট/পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়ার প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
>> নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য উৎস, সম্পদ ও দায় এবং বার্ষিক আয়-ব্যয়ের বিবরণী (ফরম–২০ ও ২১) এবং হলফনামা ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে দাখিল করতে হবে।
>> মনোনয়নপত্র পূরণ করে প্রার্থী, ওই আসনের প্রস্তাবকারী এবং সমর্থনকারীর স্বাক্ষর থাকতে হবে।
>> মনোনয়নপত্রের ৩ সেট জমা দিতে হবে—এক সেট মূলকপি এবং দুই সেট এ ফোর সাইজ ফটোকপি।
>> সর্বশেষ আয়কর রিটার্নের কপি, আয়কর পরিশোধের প্রমাণপত্র এবং সম্পদের বিবরণী (আইটি–১০বি) সত্যায়িত কপি দিতে হবে।
>> ৩ কপি সদ্য তোলা সত্যায়িত পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি জমা দিতে হবে।
>> প্রার্থী, প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং ভোটার তালিকার সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠার কপি সংযুক্ত করতে হবে।
>> সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের সত্যায়িত কপি মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দিতে হবে।
>> নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ করলে তার নামে অথবা এজেন্ট না থাকলে প্রার্থীর নামে নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাব খুলে সেখান থেকে সব নির্বাচনী ব্যয় পরিচালনা করতে হবে।
>> মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীসহ পাঁচজনের বেশি ব্যক্তি উপস্থিত থাকতে পারবেন না।