Published : 24 May 2026, 07:07 PM
দেশের অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে সরকারকে ‘সহযোগিতা’ করতে জামায়াতে ইসলামীর ‘প্রস্তুত’ থাকার বলেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
দেশের উন্নয়নে সরকার ও বিরোধীদলকে সমান ভূমিকা রাখতে হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বিরোধী দল কেবল সংসদে কথা বলে চলে আসবে, বিষয়টি তা নয়।”
রোববার জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে অর্থনীতি বিষয়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘জাতীয় বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।
আসছে ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৬৮ আসনে জয় পেয়ে বিরোধী দলে বসা জামায়াতে ইসলামী রাজধানীর পল্টনে ইকোনোমিকস রিপোর্টার্স ফোরাম-ইআরএফের অডিটরিয়ামে বাজেট বিষয়ে মতবিনিময়ের আয়োজন করে।
সেখানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম।
জামায়াতে ইসলামীর নেতা পরওয়ারের বলেন, “বাজেটের আকার বাড়লেও জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি, জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। সেই বাজেট ক্রমেই বাড়তে বাড়তে আসন্ন বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে।
“কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাজেটের আকার বাড়লেও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। বরং কখনো কখনো দেখা গেছে বাজেট ছিল লুটপাটের হাতিয়ার।’
আসন্ন বাজেট যাতে ‘দুর্নীতি ও লুটপাটের হাতিয়ার’ হতে না পারে এজন্য সরকারকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরার আহ্বান জানান জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং অর্থ পাচার বন্ধে সরকারকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। ‘তেলা মাথায় তেল দেওয়া’ বাজেট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাজেট হতে হবে সর্বজনীন।”
জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী যতগুলো বাজেট হয়েছে সবগুলো ছিল ঋণ নির্ভর বাজেট।
“ঋণনির্ভর বাজেটে অর্থনীতির গতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাজেট চায়, যে বাজেটের মাধ্যমে জনগণের করের প্রতিটি পয়সার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা থাকবে। ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করে অর্থনীতির চাকা সচল করতে হবে।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মতিউর রহমান আকন্দের পরিচালনায় উন্মুক্ত আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি, কেন্দ্রীয় আইন ও মানবসম্পদ বিভাগের সেক্রেটারি সাবিকুন্নাহার মুন্নি এমপি, সাবেক সিনিয়র সচিব খ. ম খবিরুল ইসলাম, দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, ডেইলি স্টারের রেফায়েত উল্লাহ মীরধা, সিপিডির পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম খান, সাংবাদিক লুৎফর কবির সাদী, এসএ টিভির বার্তা সম্পাদক সালাহউদ্দিন বাবলু।