Published : 06 Mar 2026, 10:14 PM
যশোর টাউন হল মাঠে ২৭ বছর আগে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দ্বাদশ সম্মেলনে বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হল ফুল দিয়ে, স্মরণ করা হল আলোচনা সভায়, সেখানে তোলা হল এই হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত ও বিচারের দাবি।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর তোপখানা সড়কে সাংস্কৃতিক সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তরের বাইরে সত্যেন সেন চত্বরে হামলায় নিহতদের স্মরণে স্থাপিত অস্থায়ী বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
এ সময় উদীচীর একাংশের সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, “উদীচী যশোর হত্যাকাণ্ডের ২৭তম বার্ষিকীতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘটনার পুনঃতদন্ত ও বিচার দাবি করছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ঘটনার সময় এবং পরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পালা করে দেশের শাসন পরিচালনা করেছে। কিন্তু, তারা কেউ কথা রাখেনি, ঘটনার বিচার করেনি।”
সেই ঘটনার বিচার হলে রমনার বটমূলে ছায়ানটের পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান, সিপিবির জনসভা, ময়মনসিংহের সিনেমা হলে বোমা হামলা, নেত্রকোনায় উদীচী দপ্তরে হামলা-হত্যাকাণ্ড হত না বলেও মনে করেন উদীচীর সাধারণ সম্পাদক।

জামসেদ আনোয়ার তপন বিএনপির সরকারকে ঘটনার পুনঃতদন্ত করে বিচারের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোর টাউন হল মাঠে আয়োজিত বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে বাউল গানের আসরে দুই দফা বোমা বিস্ফোরণ ঘটে।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে মঞ্চের নিচে আগে থেকে রেখে দেওয়া হয়েছিল বোমা। হামলায় প্রাণ হারান নূর ইসলাম, সন্ধ্যা রানী, রামকৃষ্ণ, তপন, বাবুল সূত্রধরসহ অন্তত ১০ জন শিল্পী-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। আহত হন দেড় শতাধিক শিল্পী-কর্মী ও সাধারণ মানুষ।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী রতনের নেতৃত্বে দলের তরফে অস্থায়ী বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
স্মরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উদীচীর (একাংশ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম।
সেখানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি ইকরামুল কবীর ইল্টু, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ইকবালুল হক খান, একরাম হোসেন ও আরিফ নূর।
অনুষ্ঠানে উদীচীর সঙ্গীত বিভাগ সঙ্গীত পরিবেশন করে।