‘গুহা থেকে বোমা নিক্ষেপের কর্মসূচির’ বিরুদ্ধে কলম ধরুন: তথ্যমন্ত্রী

“সাংবাদিকদের ওপর বিএনপি-জামায়াতের কেন জানি ক্ষোভ, তারা যখনই ক্ষমতায় ছিল, সাংবাদিকদের হত্যা করেছে,” বলেন তথ্যমন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Nov 2023, 12:50 PM
Updated : 23 Nov 2023, 12:50 PM

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপি যেভাবে দফায় দফায় হরতাল অবরোধের মত কর্মসূচি দিচ্ছে, তার সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

আন্দোলনের নামে নাশকতা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি হতে পারে কি না, তা নিয়ে সাংবাদিকদের লেখালেখি করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের তথ্য ভবন মিলনায়তনে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে হাছান মাহমুদ বলেন, “আন্দোলনের নামে গুহা থেকে বের হয়ে অনলাইনে চেহারা দেখিয়ে বিএনপির কর্মসূচির নামে গাড়ি-ঘোড়া পোড়ানো, আগুন সন্ত্রাস চালানো, মানুষের ওপর বোমা নিক্ষেপের কর্মসূচি ঘোষণা করা হচ্ছে। এগুলো কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি হতে পারে না। এর বিরুদ্ধে দয়া করে আপনারা কলম ধরুন, কথা বলুন।”

গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশের কর্মসূচি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পণ্ড হয়ে যায়। সেদিন ৩২ জন সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করা হয় বলে তথ্য দেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “একজন সাংবাদিককে টানা-হেঁচড়া করে মাটিতে ফেলে তাকে পেটানো হয়েছে। এর মধ্যে ২০ জনের বেশি হচ্ছে বিএনপি বিটের সাংবাদিক। তাদেরকে তারা চেনে, তারপরও মেরেছে। বাংলাদেশে এক দিনে এত সাংবাদিককে আহত করা আগে কখনো ঘটে নাই।”

অতীতের বিএনপি আমলের পরিস্থিতি মনে করিয়ে দিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, “তারা যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন খুলনার হুমায়ুন কবীর বালু, মানিক সাহা, যশোরের সাইফুল ইসলাম মুকুল, শামসুর রহমানসহ সাত বছরে ১৪ জন সাংবাদিককে শুধু খুলনা, যশোর এলাকাতেই হত্যা করেছে। সাংবাদিকদের ওপর বিএনপি-জামায়াতের কেন জানি ক্ষোভ, তারা যখনই ক্ষমতায় ছিল, সাংবাদিকদের হত্যা করেছে।”

বিএনপির আন্দোলনে ইতোমধ্যে ভাঙন ধরার দিকে ইংগিত করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বিএনপি বলেছিল, জোটের সমর্থন নিয়ে তারা দুর্বার আন্দোলনের চেষ্টা করছে, নির্বাচনটাকে ঠেকিয়ে দেবে। অথচ যারা তাদের বাতাস দিয়েছিল, তাদের বাতাস ফুরিয়ে গেছে। আর গতকালই তাদের ১২ দলীয় জোট থেকে তিনটা নিবন্ধিত দলসহ ছয়টা দল বের হয়ে গেছে।

“জোটের শরিকরাও পালিয়ে যাচ্ছে আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ঘোষণা দিচ্ছে। আমার শঙ্কা, যেভাবে তৃণমূল বিএনপি আগাচ্ছে, তাতে বিএনপি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।”

২৮ অক্টোবরের সংঘর্ষের পর থেকেই বিএনপি অফিস তালাবন্ধ। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে হাছান মাহমুদ বলেন, “এই তালা প্রশাসন দেয়নি, ওরাই তালা মেরে চলে গেছে। একটা তালা খোলার মানুষ নাই তাদের। একটা তালা খুলে ওখানে বসার সাহসটাও তারা হারিয়ে ফেলেছে, তারা কীভাবে রাজনীতি করে! আর বিএনপির পুলিশ আমাদের অফিসে তালা দিয়েছিল, আমি ছিলাম সেখানে, আমরা তালা ভেঙে ঢুকেছি।” 

যথাসময়ে উৎসাহ, উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে নির্বাচন হবে মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, “আসুন, সবাই মিলে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাই। এই অগ্নিসন্ত্রাস-নৈরাজ্যের হাত থেকে দেশটাকে রক্ষা করি, আমাদের সরকার এই আগুনসন্ত্রাসী নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী দেশবিরোধী অপশক্তিকে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর।” 

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সাংবাদিকবান্ধব, এই ট্রাস্ট তার অনন্য দৃষ্টান্ত। আজ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট সাংবাদিকদের একটি ভরসার স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনাকালে এককালীন সহায়তা হিসেবে ১০ হাজারের বেশি সাংবাদিককে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ জন্য ১০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন। 

মন্ত্রী ও অতিথিরা এ দিন ১৮৬ জন সাংবাদিক এবং তাদের পরিবারের হাতে ১ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক হস্তান্তর করেন।

এর আগে তথ্য ভবন কমপ্লেক্সে পুরাতন ডিএফপি ভবনের দ্বিতীয় তলায় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন অফিস উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। 

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুভাষ চন্দের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওমর ফারুক, মহাসচিব দীপ আজাদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, প্রধান তথ্য অফিসার মো. শাহেনুর মিয়া, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. নিজামূল কবীর, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স ম গোলাম কিবরিয়া, ট্রাস্টের পরিচালক মিয়া মুহম্মদ মনিরুল কবীর দুই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।