তাপস ও স্ত্রীর ৬ ক্রেডিট কার্ডের ডেবিট কার্যক্রম বন্ধ
দুর্নীতির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত করেছে দুদক।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং তার স্ত্রী আফরিন তাপসের নামে মধুমতি ব্যাংক পিএলসির তিনটি করে ছয়টি ক্রেডিট কার্ডের ডেবিট কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
দুদকের দুই আবেদনে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির ফয়েজ সোমবার এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান এসব ক্রেডিট কার্ডের ডেবিট কার্যক্রম ‘ব্লক’ করার আদেশ চেয়ে দুটি আবেদন করেন।
তাপসের ক্ষেত্রে আবেদনে বলা হয়, সংসদ সদস্য ও মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ফজলে নূর তাপস “নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭৩ কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭ টাকা মূল্যের সম্পদের মালিকানা অসাধু উপায়ে অর্জন করে দখলে রাখেন।”
তার নামে থাকা ২৭টি ব্যাংক হিসাবে “জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ” ৫৩৯ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার ২৭৮ টাকা ও ৫ লাখ ১৭ হাজার ৫২৭ মার্কিন ডলারের “সন্দেহজনক লেনদেনের” তথ্য পেয়ে দুদক মামলা করে, যার তদন্ত চলছে।
দুদক আবেদনে বলেছে, তদন্ত চলাকালে শেখ ফজলে নূর তাপস এসব ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে যেন ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে না পারেন, সেজন্য এসব ক্রেডিট কার্ডের ডেবিট কার্যক্রম ‘ব্লক’ করা প্রয়োজন।
আফরিনের ক্ষেত্রে আবেদনে বলা হয়েছে, তিনি এবং তার স্বামী “পরস্পর যোগসাজশে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ” ৬ কোটি ৪০ লাখ ৮৯ হাজার ৯৮ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। তাদের নয়টি ব্যাংক হিসাবে “জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭০ কোটি ৮৯ লাখ ৯৩ হাজার ৬৬৯ টাকা ও ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৩ মার্কিন ডলার সন্দেহজনক লেনদেনের” তথ্য পেয়ে দুদক তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
আফরিন তাপস যেন তার ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টাকা তুলতে না পারেন, সেজন্য কার্ডগুলোর ডেবিট কার্যক্রম বন্ধ রাখার আদেশ চাওয়া হয় দুদকের আবেদনে।
