গণতন্ত্র বিদায়, কায়েম 'বাকশাল টু': মঈন খান

“আজকে ৫৩ বছর অতিক্রান্ত হবার পরে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের একটি প্রশ্ন, সেই গণতন্ত্র কোথায় গেল? সেই দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি কোথায়?”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 March 2024, 09:15 AM
Updated : 26 March 2024, 09:15 AM

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গণতন্ত্রকে ‘বাদ দিয়ে’ সরকার দেশে গায়ের জোরে 'বাকশাল টু কায়েম করেছে’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেছেন, " একটি সরকার আজকে জোর করে বসে আছে যে সরকার গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না। তারা মুখে বলে গণতন্ত্র। তারা বাস্তবে করেছে একদলীয় শাসন… তারা এবার করেছে বাকশাল টু। এটা আমার কথা নয়.. এটা বিশ্ববাসীর কথা।”

মঙ্গলবার স্বাধীনতা দিবসের সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন মঈন খান।

তিনি বলেন, “আজকে দুঃখের সঙ্গে আমাদের বলতে হচ্ছে, যে আদর্শ নিয়ে এই দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ একাত্তরে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, যে আদর্শের জন্য যুদ্ধ করেছিল তার নাম ছিল গণতন্ত্র এবং তার উদ্দেশ্য ছিল যে, বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

“আজকে ৫৩ বছর অতিক্রান্ত হবার পরে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের একটি প্রশ্ন, সেই গণতন্ত্র কোথায় গেল? সেই দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি কোথায়?”

সরকারের উদ্দেশে এই বিএনপি নেতা বলেন, “এখানে যদি মানুষের ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকে, এদেশে যদি মানুষের গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ না থাকে তাহলে আজকে যারা কবরে শায়িত মুক্তিযোদ্ধা তাদের কাছে প্রশ্ন কেনো তারা এদেশ স্বাধীন করেছিলেন? সেই প্রশ্নের উত্তর সরকারকে দিতে হবে।”

সরকার উন্নয়নের নামে 'মেগা দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করছে' বলেও অভিযোগ করেন মঈন খান।

তিনি বলেন, “সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য বিরোধী দলের অর্ধলক্ষ নেতার নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মামলা করেছে এবং কারারুদ্ধ করেছে।”

মঈন খানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা-কর্মীরা এদিন রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মিছিল করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। এরপর তারা শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মহানগর বিএনপির উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি আবু আশফাক খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, যুব দলের সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসীন আলী এসময় উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিএনপি নেতা-কর্মীরা রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা্রিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।