Published : 20 Sep 2025, 10:13 PM
বাম গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় বৃহত্তর বলয় গড়ে তোলার ডাক এসেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির ত্রয়োদশ কংগ্রেসের দ্বিতীয় দিনের কাউন্সিল অধিবেশনে।
বামপন্থি বিকল্প শক্তি-সমাবেশের প্রতি মানুষ যাতে আরও আস্থাভাজন হয়ে উঠতে পারে, সেজন্য দৃশ্যমান কার্যক্রম, আন্দোলন-সংগ্রাম জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয় সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্টে।
শনিবার রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে কংগ্রেসের দ্বিতীয় দিনে চলে কাউন্সিল অধিবেশন। এতে কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্ট উত্থাপন করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রিন্স, মিহির ঘোষ ও মিডিয়া উপপরিষদের আহ্বায়ক লাকী আক্তার বিস্তারিত জানান।
‘সমাজ বদলের লক্ষ্যে শোষণ-বৈষম্যবিরোধী বাম গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা কর’- এই স্লোগানকে ধারণ করে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে সিপিবির চার দিনের কংগ্রেস।
কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে বিভিন্ন কমিটি নির্বাচন করা হয়। দিনভর কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্টের উপর আলোচনা চলে। বিভিন্ন জেলার ৪৪ জন প্রতিনিধি আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।
আলোচনায় জেলার সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে করণীয় বিষয়ে তাদের অভিমত তুলে ধরেন, যা সংযোজন বিয়োজনসহ রিপোর্ট অনুমোদন করা হবে বলে জানানো হয়।

কী বলা হয়েছে রিপোর্টে
কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্টে বলা হয়, “মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের মানুষের মুক্তি আসেনি।”
দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতি আর মুক্তবাজারের নামে পুঁজিবাদী অর্থনীতির লুটপাটের ধারায় দেশে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংকট তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছে সিপিবি।
রিপোর্টে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “রাষ্ট্রীয় ও সমাজজীবনে সংকট নানাভাবে তীব্র হয়ে উঠছে। মানুষের হতাশা বাড়ছে। শ্রমিক, ক্ষেতমজুর, কৃষক, মেহনতি খেটেখাওয়া মানুষ, নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তের জীবন চালাতে নাভিশ্বাস উঠছে। দিন দিন এই সংকট নানা মাত্রায় গভীর হয়ে উঠছে।”
পুরো ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন ছাড়া মুক্তি সম্ভব না এবং এজন্য প্রয়োজন বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তির উত্থান বলেও কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্টে বলা হয়।
দেশ ও বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় সিপিবির পর্যবেক্ষণ বলছে, পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়ন মানুষকে ‘মুক্তি দিতে পারে না’। সমাজতন্ত্রই ‘মুক্তির পথ’।
বাংলাদেশের রাজনীতি বিশ্ব রাজনীতি তথা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ-এ মূল্যায়ন হাজির করে সিপিবির রিপোর্টে বলা হয়েছে, “এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক অবস্থান বাংলাদেশকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বর্তমান দক্ষিণ এশিয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং মনোযোগের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।”
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, এই অঞ্চলের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দক্ষিণ এশিয়াকে ঘিরে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তথা ন্যাটোর এশিয়া নীতি, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, কোয়াড ইত্যাদি সামরিক কৌশলগত ভূমিকার কারণে সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের অপতৎপরতা আগের চেয়ে বহুগুণে বেড়েছে বলে মনে করছে দলটি।
কমিটিতে নির্বাচিত হলেন যারা
কংগ্রেস পরিচালনার জন্য গঠিত হয়েছে- ‘প্রেসিডিয়াম’, ‘অডিট কমিটি’, ‘ক্রেডেনশিয়াল কমিটি’, ‘প্রস্তাব বাছাই কমিটি’, মুখপাত্র নির্বাচন’ কমিটি।
সভাপতিমণ্ডলীতে নির্বাচিত হয়েছেন-মোহাম্মদ শাহ আলম, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, শাহাদাৎ হোসেন, লক্ষ্মী চক্রবর্তী, এম এম আকাশ, দিবালোক সিংহ, এমদাদুল হক মিল্লাত, মনোজ দাস, অশোক সাহা।
অডিট কমিটিতে- শেখ হান্নান, শেখ বাহার উদ্দিন মজুমদার, শিবনাথ চক্রবর্তী, শহীদউদ্দিন বাবুল, দুলাল মজুমদার, সমীর কুমার কর্মকার, আলতাফ হোসেন, ফরহাদ হোসেন, কোহিনূর বেগম।
প্রস্তাব বাছাই কমিটিতে- আলতাফ হোসাইন, গোকুল সূত্রধর মানিক, জুলফিকার আহমেদ গোলাপ, চিত্ত রঞ্জন তালুকদার, নূরুচ্ছাফা ভূঁইয়া, প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান রিপন, ইদ্রিস আলী, মুরাদজামান রব্বানী, সুব্রত রায়, মোশতাক আহমেদ, সৈয়দ জামান, কানাই দাস, খোরশেদুন নাহার ভূঁইয়া।
‘ক্রেডেনশিয়াল’ কমিটিতে- মো. জাহাঙ্গীর, ফররুখ হাসান জুয়েল, বিকাশ দেব, এম এ শাহীন, এজাজ আহমেদ, হাছান আলী, মোস্তফা নুরুল আমীন, সুশান্ত ভাওয়াল, শাহানা আক্তার শাপলা।
কংগ্রেসের মুখপাত্র নির্বাচিত হয়েছেন- রুহিন হোসেন প্রিন্স, মিহির ঘোষ ও লাকী আক্তার।