Published : 29 Jan 2026, 01:59 AM
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা।
পিটিআই জানিয়েছে, বুধবার রাজ্যসভার অধিবেশনে প্রয়াতদের স্মরণ পর্বে খালেদা জিয়া এবং রাজ্যসভার সাবেক দুই সদস্য এল গণেশন ও সুরেশ কলমাদির জন্য শোক প্রস্তাব তোলা হয়।
রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন তাদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন। পরে প্রয়াতদের স্মরণে সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
শোকপ্রস্তাবে খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে রাধাকৃষ্ণন বলেন, “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান খালেদা জিয়া। পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জানাজা শেষে তাকে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হয়।
রাধাকৃষ্ণন বলেন, “তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তিন দফা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বে ছিলেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।”
তিনি বলেন, “এই সংসদ বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তার পরিবার, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সঙ্গে শোক ভাগ করে নিচ্ছে।”
রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এ সময় এল গণেশন এবং সুরেশ কলমাদির জন্যও শোক প্রকাশ করেন।
রাজ্যসভায় তামিলনাড়ুর সদস্য এল গণেশন গত ৪ জানুয়ারি মারা যান। ১৯৬৭ থেকে ১৯৮৯ সালের মধ্যে তিন দফায় তামিলনাড়ু বিধানসভার সদস্য ছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি তামিলনাড়ু আইন পরিষদের সদস্য এবং ১৪তম লোকসভার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
আর সুরেশ কলমাদি গত ৬ জানুয়ারি ৮১ বছর বয়সে মারা যান। চার মেয়াদে রাজ্যসভায় মহারাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।
কলমাদি একসময় ভারতের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ১৯৯৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর আসার পরপরই এক এক্স পোস্টে শোক জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে চেয়ারম্যান) তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক একটি পত্রও দিয়েছিলেন তিনি।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ভারত সরকারের শোকবার্তা তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।
বিএনপির তখনকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ‘প্রিয় তারেক রহমান সাহেব’ সম্বোধন করে মোদী সেখানে লেখেন, খালেদা জিয়ার প্রস্থান ‘অপূরণীয় শূন্যতা’ সৃষ্টি করলেও তার দৃষ্টিভঙ্গি ও উত্তরাধিকার টিকে থাকবে।
এরপর ১ জানুয়ারি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে গিয়ে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
পরে শোক বইতে তিনি লেখেন, “ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েনের মধ্যে খালেদা জিয়ার জন্য শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে মোদী সরকারের এমন উদ্যোগী ভূমিকাকে বিএনপির নতুন নেতৃত্বের প্রতি দিল্লির ‘কৌশলগত যোগাযোগ চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।
পুরনো খবর
খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে ভারতের রাজ্যসভা
খালেদার মৃত্যুর পর সফর-বার্তা: ঢাকা-দিল্লির শীতল সম্পর্ক উষ্ণ হচ্ছে?