Published : 13 Nov 2025, 01:52 AM
রাজনৈতিক একটি কর্মসূচিকে ঘিরে দুদিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যানবাহনে আগুন আর বিক্ষিপ্ত হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ আর আতঙ্ক বাড়ছে জনমনে। নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশও সতর্ক; বলছে, শঙ্কার কিছু নেই, যেকোনো ধরনের নাকশতা ঠেকাতে প্রস্তুত তারা।
এরমধ্যেই বুধবার সন্ধ্যার পর রাজধানীতে ট্রেন ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হাতবোমার বিস্ফোরণ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। ঢাকার বাইরেও বিক্ষিপ্ত এমন কিছু ঘটনার খবর এসেছে।
এমন সব খবরের মধ্যে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় কবে হবে তা ঘোষণার কথা। তার প্রতিবাদে 'নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি এবং তা প্রতিহত করার ঘোষণা আর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার ঘোষণা দিনটিকে করে তুলেছে তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে বরাবরের মত ‘অভয়’ দিচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আগের দিনের অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবে দিনভর তারা তৎপর ছিল রাজধানীর বিভিন্ন অংশে। তল্লাশি আর অভিযানে নেমে গ্রেপ্তারও করেছে ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের অনেককে। গাড়িতে আগুন দেওয়া ও হাতবোমা বিস্ফোরণের পেছনে যাদের দায় দেখছেন সরকারসহ অন্য দলগুলো।
জুলাই অভ্যুত্থান দমাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের রায় ঘনিয়ে আসায় ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার ১৩ নভেম্বর ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি দিয়েছে দলটি।
গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেমে থেমে বিভিন্ন সময়ে ঘোষণা করা কর্মসূচির মত এবারও মাঠে থাকতে দেখা যায়নি দলটির নেতাকর্মীদের।
তবে এ কর্মসূচির আগে থেকে ও শুরুর পর রাজধানীতে বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা রাজনীতিতে আবার জ্বালাও পোড়াও ফিরে আসার পুরনো স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে।
অপরদিকে ‘নিষিদ্ধ’ দলটির তৎপরতা কঠোরভাবে দমাতে সরকারের হুঁশিয়ারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তোড়জোড়ের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীও এদিন মাঠে থাকার ঘোষণা দেওয়ায় রাজনৈতিক উত্তাপও বেড়েছে।

এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ‘লকডাউন’ পালনে মাঠে নামলে কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে মানুষের মাঝে।
এর সঙ্গে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও গণভোট কবে হবে তা নিয়ে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপিসহ ইসলামী দলগুলোর মতবিরোধও রাজনীতিকে উসকে দিয়েছে। এ নিয়ে সরকারের মধ্যেও অস্বস্তির কথা খবরে এসেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে আসছেন। তার ভাষণে কী থাকবে, গণভোট কবে হবে সেই বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা থাকবে কি না তা নিয়েও সবার মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
জামায়াত ও এনসিপির দাবি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত নির্বাচনের আগে গণভোট হলে বিএনপি তা মানবে না। আবার বিএনপির দাবি মেনে ভোটের দিনে গণভোট করা হলে আওয়ামী লীগ সরকার পতনে নেতৃত্ব দেওয়া অন্য দল দুটোর প্রতিক্রিয়া কী হবে সেই আলোচনাও রয়েছে সবার মাঝে।
একদিকে মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচারের রায়ের তারিখ ঘোষণা, ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি আর প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের কারণে বৃহস্পতিবার কী ঘটতে চলছে তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে রাজনীতিতে।

এমন পরিস্থিতিতে আগুন-বোমার মত নাশকতা দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুতি থাকলেও জনমনে ভয় কাটছে না।
কী হবে- সেই শঙ্কা থেকে রাজধানীর অনেকগুলো বেসরকারি সংস্থা কর্মীদের বুধবার ‘হোম অফিস’ করার নির্দেশনা দিয়েছে।
অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইন প্ল্যাটফরমে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আবার সরকারের চাপে সরেও এসেছে। ঢাকার কয়েকটি স্কুল বুধবার শিক্ষকদের আসতে বললেও ক্লাসে মৌখিকভাবে শিক্ষার্থীদের বুধবার আসতে মানা করে দিয়েছে। কয়েকটি স্কুল ক্লাস বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছে।
আগের দিন মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার দিনের বেলা রাজধানীতে আগুন-হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ছিল কম। তবে সন্ধ্যার পর তা বেড়ে যাওয়ার খবর আসতে থাকে। রাজধানীর তেজগাঁও স্টেশনে থেমে থাকা ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরপর দুটি হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর আগে সন্ধ্যায় দোলাইরপাড়ে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুখে চলতি সড়কে আরেকটি বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে। রাতে নারায়ণগঞ্জে সিএনজি অটোরিকশায় আগুন দেওয়া হয় এবং মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে চলন্ত পিকআপ থেকে হাতবোমা ছুঁড়ে মারা হয়।
এর আগে সকালে উত্তরায় একটি মাইক্রোবাসে এবং দুপুরে রমনা থানার সামনে পুলিশের একটি ভ্যানে আগুন লাগে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দুটি ঘটনাই যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে ঘটেছে, এগুলো নাশকতা নয়।

পুলিশের প্রস্তুতি
বৃহস্পতিবার-১৩ নভেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। ঢাকায় নাশকতার জন্য বাইরে থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হচ্ছেন এমন খবরে রাতভর হোটেলে-মেসে চলেছে পুলিশের অভিযান।
রাজধানী থেকে আওয়ামী লীগের ৪৪ নেতাকর্মীকে ঢাকা মহানগর ডিবি গ্রেপ্তার করেছে বলে বুধবার তথ্য দিয়েছে পুলিশ। এর বাইরেও ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগ পৃথক অভিযানে আরও বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আগের দিন মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের খোঁজে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, ফকিরাপুল, কাকরাইল, এলিফ্যান্ট রোডসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।
অভিযানের সময় হোটেলের অতিথিদের জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে পেশা, কেন ঢাকায় এসেছেন এসব তথ্য যাচাই করা হয়েছে। তাদের মোবাইল ফোন খুলে সেখানে আওয়ামী লীগের যোগাযোগের কোনো তথ্য রয়েছে কিনা সেগুলোও যাচাই করছে পুলিশ।
পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা হোটেলে ও মেসে অভিযান চালাচ্ছি। গতরাতে কলাবাগানের একটি ম্যাচ থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১ জনকে। যারা নাশকতার জন্য ঢাকায় জড়ো হয়েছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।"
আসলে কিসের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে জানতে চাইলে মাসুদ আলম বলেন, "কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহ হলে তার তথ্য পুলিশের যে সিডিএমএস (অপরাধীদের ডাটাবেজ) আছে সেখানে যাচাই বাছাই করা হয়। তাতেই দেখা যায় বেশিরভাগের ক্ষেত্রে আগের মামলা পাওয়া যায়।
“যেরকম গতরাতে (মঙ্গলবার) কলাবাগানে যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে পাঁচজন গোপালগঞ্জ থেকে এসেছেন, যাদের বিরুদ্ধে আগের মামলা রয়েছে।"
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) ফারুক হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাজধানীতে প্রায় দেড়শ বিশেষ চেকপোস্ট চলছে। তথ্য পাওয়া সাপেক্ষে মেস বাড়ি, হোটেল বা আবাসিক ভবনেও অভিযান চালানো হচ্ছে।”
পুলিশ বলছে, হাই কোর্টসহ আদালত পাড়া, বিচারকদের আবাসিক এলাকা এবং সরকারের উপদেষ্টাদের আবাসিক ভবনগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ও চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার কথা বলা হচ্ছে বারবারই। আগের দিনই মঙ্গলবার ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, “ঢাকাবাসীর আশঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। একটি দুটি ককটেল মোটরবাইকে এসে মেরে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। আমরা আশা করছি অনতিবিলম্বে মোটরবাইকে ককটেল মেরে যারা পালিয়ে যায় তাদের ধরে ফেলব আমরা। ১৩ তারিখ নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।”

তবুও ভয়
পুলিশের তৎপরতা জোরদার করাও পরও বিক্ষিপ্ত আগুন দেওয়া ও হাতবোমা হামলার ঘটনার পর মানুষের উদ্বেগ কাটছে না।
রাজধানী গুলশানের একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা শাহরিয়ার মোর্শেদ বলেন, “আমাদের শুধু বৃহস্পতিবার হোম অফিস করতে বলা হয়েছে। ব্যাপারটা হচ্ছে অফিসে যাওয়া আসার পথে যদি আল্লাহ না করুক কারও কিছু হয়ে যায়…এই দায়গুলো অফিস নিতে চায় না। সেজন্যই এরকম ব্যবস্থা। তাছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর স্টাফদের অনুসরণীয় একটি প্রটোকল রয়েছে। সেটাই সবাই ফলো করেন।”
ঢাকার শিশুদের অনেকগুলো স্কুল বুধবার থেকেই অনলাইন ক্লাসে গেছে। বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বৃহস্পতিবার অনলাইন ক্লাস হবে বলে ঘোষণা দিয়েও পড়ে পিছিয়ে যায়।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আহমেদ তাজমিন বুধবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বৃহস্পতিবার অনলাইনে এনএসইউয়ের ক্লাস চলবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্ত ইউজিসি আমাদের স্বশরীরে ক্লাস চালাতে বলেছে, সে অনুযায়ী আমরা বৃহস্পতিবার স্বশরীরে ক্লাস চালানোর ঘোষণা দিয়েছি।”
ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মহিউদ্দিন বুধবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইস্ট ওয়েস্টে ক্লাস অনলাইনে চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী বুধবার অনলাইনে ক্লাস হয়েছে। বৃহস্পতিবারও ক্লাস অনলাইন চলবে বলে ঘোষণা বহাল আছে।
“তবে বুধবার অফিস সময়ে জানতে পেরেছি, ইউজিসি থেকে না কি বৃহস্পতিবার স্বশরীরে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই রাতে বৃহস্পতিবারের অনলাইনে ক্লাসের সিদ্ধান্তের পরিবর্তন আসতে পারে।”
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নাদির বিন আলী বুধবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেব। এদিন স্বশরীরে ক্লাস চালানোর কোন নির্দেশনা আমরা পাইনি।”
তবে ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বুধবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ইউজিসি থেকে বৃহস্পতিবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্বশরীরে ক্লাস চালানোর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ইউজিসির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয় সে বিষয়ে ইউজিসি সচেষ্ট রয়েছে।”

গণপরিবহন চলবে তো?
যানবাহন মালিক ও শ্রমিকরা বলছেন, বৃহস্পতিবার তারা গাড়ি চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বাহনের নিরাপত্তায় পরিবহন শ্রমিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
তবে দূরপাল্লার বাসগুলোতে বৃহস্পতিবার অগ্রিম টিকিট কাটার হার অনেক কম বলে তারা জানাচ্ছেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদ বলেন, চলমান নাশকতার প্রেক্ষিতে পরিবহন শ্রমিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, টার্মিনালগুলোতেও বিশেষ নিরাপত্তা দিতে বলা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে আগুন নেভানোর জন্য বাসে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার রাখতে বলা হয়েছে।
শ্যামলী পরিবহনের কর্ণধার রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, “ভোরের দিকের কয়েকটি যাত্রা বাতিল করছি। সকাল ৮টার পর থেকে দিনের বেলায় আমরা কোনো যাত্রা বাতিল করিনি। কিন্তু যাত্রীদের সেরকম সাড়া নেই। অনলাইনে কেউ টিকিট কাটছে না। কাউন্টারে এসে অনেকেই জানতে চাচ্ছেন বৃহস্পতিবার গাড়ি চলবে কী না। অনেকেই কাউন্টারে এসে টিকিট নিয়ে যাচ্ছেন।”
রেন্ট এ কারের চালক আশরাফ আলী বলেন, তিনি গাড়ি নিয়ে বৃহস্পতিবার বের হচ্ছেন না।
“আমার মনে হইতেছে না তেমন কিছু হইবো। কিন্তু চোরা-গোপ্তা হামলা হইলেও ধরেন ঢিলা মাইরা গ্লাস ভাঙলেও মেলা লস, গাড়ির মালের (পার্টস) অনেক দাম।”
তিনি বলেন, “কাইলকা হইতেছে সিএনজি আর হোন্ডার দিন। অটোগুলাও দেখবেন রাস্তায় উইঠা আসব। আমাগো মাজার রোডের বেশির ভাগ প্রাইভেট কারের ড্রাইভারই বাইরাইবো না।?”

দোকানপাট খোলা থাকবে
রাজধানীসহ সারাদেশের বিপণি-বিতান বৃহস্পতিবার খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।
বুধবার ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সঙ্গে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, “বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ দেশের সকল দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল যথারীতি খোলা থাকবে।”
বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একটা দলের তো লকডাউন কর্মসূচি ছিল; হরতাল ঘোষণা হলে তো অনেকে বন্ধ রাখে।
“তাই ভুল বোঝাবুঝি যাতে না হয়, সেজন্য সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে একযোগে খোলা রাখার।”
প্রতিবাদে মিছিল
আওয়ামী লীগের ‘নাশকতা’র বিরুদ্ধে বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মিছিল করেছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার দলটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় কোনো কর্মসূচি নেই।
যুবদলের শেরেবাংলা নগর এলাকার এক নেতা বলেন, বৃহস্পতিবার তাদের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবেন। কেউ যেন নাশকতা করতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে তাদের।