Published : 29 Aug 2025, 07:34 PM
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আলোচনা অনুষ্ঠান থেকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহিল কাইয়ুমসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে দলটি।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে জাসদ দাবি করেছে, প্রকাশ্য সভা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাস দমন আইনে ‘মিথ্যা মামলায়’ তাদের জড়ানো হয়েছে। এরপর আদালতে তুলে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মঞ্চ ৭১’ এর প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে ‘মবের হামলার মাধ্যমে’ মুক্তিযোদ্ধা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মারধর ও পরে গ্রেপ্তার আর ‘মিথ্যা মামলায়’ জড়ানোর ঘটনা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের অন্তরায়।
“বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা, সভা-সমিতি করার মৌলিক অধিকার পরিপন্থি ‘মবসন্ত্রাস’ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নাজুক অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।”

জাসদ নেতা আব্দুল্লাহিল কাইয়ূমসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের নিঃশর্তে মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
সভায় ‘মবের ঘটনা’ উদ্বেগজনক: বাংলাদেশ জাসদ
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘মব সৃষ্টি করে’ হামলা চালানো হয়েছে অভিযোগ করে এর নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাসদ।
উদ্বেগ প্রকাশ করে শুক্রবার এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, “গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মত প্রকাশ করা এখন দমন–পীড়নের মুখে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অতীতে আওয়ামী লীগ ভিন্নমতকে বিএনপি–জামাতের দোসর আখ্যায়িত করে গণমানুষকে চিহ্নিত করেছে। আজ আবার মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে কথা বললেই তাকে ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট’ বলে চিহ্নিত করে জাতিকে বিভ্রান্ত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা খাটো করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
“ফ্যাসিষ্ট সরকারের ধারায় পরিবর্তিত পরিস্থিতির রাজনীতি চলতে থাকবে, তা কোনো সত্যিকারের আন্দোলনকারীর কাম্য হতে পারে না। যারা ওই একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকে নিয়ে যেতে চান তারা অন্যায় করছেন।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো মামলা ছিল না, তাদের গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া সরকারের পক্ষ থেকে এই অন্যায় কর্মকাণ্ডের সমর্থনের শামিল। জাতির ঐক্যের মুহূর্তে জুলাই চব্বিশ ও একাত্তরকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর এ ধরনের ষড়যন্ত্র দেশকে নতুন করে বিভাজনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা অত্যন্ত শঙ্কাজনক।”
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় বলা হয়েছে, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ অগাস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৮ অগাস্ট সকাল ১০টায় একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
“সেগুনবাগিচায় বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই এক দল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করেন। হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন এসআই আমিরুল ইসলাম। পরবর্তীতে এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।”
আরও পড়ুন-