Published : 12 May 2026, 08:40 PM
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ভারতকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, সীমান্তে হত্যা করে বা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় না।
তার ভাষায়, “এসব কাঁটাতার ভেঙে ভারতীয় জনগণ বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে। আমরা বাংলাদেশকে কোনো দেশের করদ রাজ্য হিসেবে দেখতে চাই না। জুলাইয়ে আমরা এ জন্য জীবন দিয়েছি।”
মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ‘শাপলা গণহত্যা: বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে এ কথা বলেন নাহিদ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে শুক্রবার ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী-বিএসএফের গুলিতে দু্ইজন নিহত হওয়া এবং বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ বলেন, “শাপলা গণহত্যা বাংলাদেশে বড় ক্ষত তৈরি করেছে। শাপলা গণহত্যা ঠেকানো গেলে, জুলাইয়ের গণহত্যা ঠেকানো যেত।
“অনেকে এই হত্যাকাণ্ড সমর্থন করেছে, সাফাই গাইছে। ১৩ দফা দাবি (২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি) আপনি সমর্থন করতে পারেন অথবা নাও করতে পারেন। কিন্তু দাবি নিয়ে আসা জনগণের ওপর কোনো গণহত্যা চালানো সমর্থন করতে পারেন না। দাবি জানানোর কারণে গণহত্যা চালাতে পারে না।”
নাহিদ বলেন, “নিরস্ত্র, নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা যে কোনো আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ। এরকম অপরাধ করার পরও শেখ হাসিনা সংসদ ভবনে কটূক্তি করে কথা বলেছে।”
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ওই ঘটনার সময় ‘হত্যার’ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর দায় আছে মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, “তারা যথার্থ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি তখন আলেমদের পাশে দাঁড়াতে পারেনি।
“আওয়ামী লীগ মাদ্রাসা ছাত্রদের জঙ্গি হিসেবে চিত্রিত করত। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাড়ি টুপিওয়ালাদের শিবির বলা হত। আমরা এসব আর মেনে নেব না। এ দেশের সব আন্দোলনে, মুক্তির লড়াইয়ে আলেম ওলামাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের অবদান জাতীয় ইতিহাসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।