Published : 30 Nov 2025, 08:22 PM
জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসাদুজ্জামান খান কামালকে দিয়ে ভারত থেকে ‘খুব শিগগির প্রত্যর্পণ’ শুরুর বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার ভিন্নধর্মী কথা এল পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের তরফে।
রোববার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ক এক প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, “আসাদুজ্জামান খান কামালের ব্যাপারে দুটো প্রশ্ন আছে। একটিরও কোনো অফিশিয়াল তথ্য আমাদের কাছে নাই।
“আমরা জানি, উনি ভারতে আছেন কিন্তু অফিশিয়ালি শেয়ার করা হয় নাই। এবং তাকে দিয়ে যে প্রত্যর্পণ শুরু হবে, এমন কোনো তথ্য আমার কাছে নাই।”
ডিপ্লোম্যাটিক করেসপেন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ডিক্যাব টকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের বর্তমান অবস্থান এবং তাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলমের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে করা প্রশ্নের উত্তর দেন তৌহিদ হোসেন।
এর আগে শুক্রবার এক ফেইসবুক পোস্টে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের ভারত থেকে প্রত্যর্পণ নিয়ে বক্তব্য দেন প্রেস সচিব।
শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ঢাকার পাঠানো চিঠি ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষার’ যে কথা ভারত বলেছে, সে প্রসঙ্গ টেনে ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “আমরা জানি, শেখ হাসিনার শক্তিশালী সহানুভূতিশীলরা রয়েছে।
“এরপরও আমি বেশ আত্মবিশ্বাসী যে, ‘ঢাকার কসাই’ আসাদুজ্জামান খান কামালকে বিচারের মুখোমুখী করার জন্য খুব শিগগির বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ করা হবে।”
জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ‘নির্দেশ ও ইন্ধনদাতা’ হিসেবে অভিযুক্ত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেয় ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আসামি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে রায়ের চার দিন পর ২১ নভেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ।
জুলাই অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতেই অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা ও কামাল।
ওই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারকাজ শুরুর পর হাসিনাকে ফেরাতে গত বছরের ডিসেম্বরে ভারতকে প্রথমবার চিঠি পাঠিয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এর মধ্যে বিচারকাজ শেষে রায় হয়ে গেলেও সেই চিঠির জবাব দেয়নি ভারত সরকার।
এবারও চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বুধবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “হ্যাঁ, আমরা অনুরোধটি পেয়েছি এবং তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”
তার এ বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ফেইসবুক পোস্টে প্রত্যর্পণ নিয়ে শুক্রবার বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল।
সেই বক্তব্যের বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার ভিন্ন রকম কথা আসার পর এক সাংবাদিক জানতে চান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা কাজ করছে কি না।

উত্তরে তৌহিদ হোসেন বলেন, “মোফাতে (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) সমন্বয়ের অভাব বা মোফা ইস্যুতে সমন্বয়ের অভাব এটা কিছুটা হয়। এটা হয় কি, বিশেষ করে আমাদের অঞ্চলে অনেকেই যে বিষয়ে তার কথা বলা উচিত না, সেটা বলে বসে অনেক সময়। এটা হয়।
“ভারতে এমন হয় কখনও কখনও, ভারতের মত ডেমোক্রেসিতেও হয়। কাজেই এগুলো নিয়ে আর বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। আসলে পুরো বিষয়টা তো সবাই কনসার্নড। কাজেই অনেকে মনে করে যে আমি এই বিষয়টা জানি, এটা বলি। এটা হয়।”
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলেও এই একটি বিষয়ে সম্পর্ক ‘আটকে থাকবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন তৌহিদ হোসেন।
হাসিনাকে ফেরত না দিলে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “যদি শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেয়, আমার মনে হয় শুধুই একটি বিষয়ে এই সম্পর্ক আটকে থাকবে না।
“কারণ বহুমাত্রিক সম্পর্ক তো কিছু দেশের সাথেই আছে, ভারতের সাথেও আছে। আমাদের তিস্তার পানি বলুন বা বর্ডার কিলিং বন্ধ করার কথা বলুন, এগুলোতো পাশাপাশি থাকবে। সেখানে ফেরত দেওয়া, না দেওয়ার উপরে একটা তো আরেকটা উপর নির্ভরশীল না।”
তৌহিদ হোসেন বলেন, “স্বার্থতো থেকেই যাবে। কাজেই আমাদের স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। কতদিন আমরা জানি না, তবে আমরা অবশ্যই চাই যে, যেহেতু তিনি দোষীসাব্যস্ত হয়েছেন, তাহলে ফেরত দেওয়া হবে, যাতে শাস্তি কার্যকর করা যায়। কিন্তু এটার কারণে বাকি সব আটকে থাকবে সেটা আমি মনে করি না।”