Published : 24 Aug 2025, 09:12 PM
রাষ্ট্র সংস্কার না করে যারা জাতীয় নির্বাচন চায় তারা ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
তিনি এও বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারও এই ‘ফ্যাসিবাদের’ সাথে ‘আপস করছে।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক গোল টেবিল বৈঠকে তাহের এ কথা বলেন।
গেল ৫ অগাস্ট প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেন।
তবে রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগের মধ্যে বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দাবি করে।
এ নিয়ে নানা ঘটনাপ্রবাহে জুনে লন্ডনে বৈঠক করে প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সে বৈঠকের যৌথ ঘোষণা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সাপেক্ষে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনে আভাস দেওয়া হয়।
জামায়াত লন্ডন বৈঠকের সমালোচনা করলেও জুলাই অভ্যুত্থান দিবসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণাকে ইতিবাচক বলেছে।
তবে তারা সংস্কার শেষ করে জাতীয় নির্বাচন এবং সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি তুলেছে।
গোল টেবিল বৈঠকে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, “দেশের ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে বিপ্লব অপূর্ণ রয়ে যাবে। সংস্কারবিহীন নির্বাচন হলে আবারও ফ্যাসিবাদ জন্ম নেবে। যারা আওয়ামী আমলের মতো স্বৈরাচার ফিরিয়ে আনতে চায়, তারাই সংস্কার ছাড়া নির্বাচন চায়।
“জুলাই বিপ্লবের পর যাদের জনগণ ক্ষমতায় বসিয়েছে, তারাও আজ ফ্যাসিবাদের সাথে আপস করছে। এই বাস্তবতায় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে পিআর পদ্ধতি চালু করতে হবে।”
জাতীয় প্রেস ক্লাবের মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের ‘পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’-এর আইনি ভিত্তি শীর্ষক এই গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
জুলাই মাসে জাতীয় সনদ ঘোষণার কথা থাকলেও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এই সনদের আইনি ভিত্তি দাবি করে আসছে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি।
জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত খসড়ার বিষয়ে শুক্রবার মতামত জানিয়েছে ২৪টি রাজনৈতিক দল। পরে রোববার সন্ধার আগে নাগরিক ঐক্য ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জুলাই সনদের খসড়ায় মতামত দিয়ে ঐকমত্য কমিশনে জমা দিয়েছে। অর্থাৎ মতামত জানিয়েছে ২৬টি রাজনৈতিক দল।
সবশেষ তালিকা অনুযায়ী আরও চারটি দল মতামত দেওয়ার বাকি আছে।
গোলটেবিল আলোচনায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নূর বলেন, “এই গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে সংবিধানিক স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। জনগণের স্বার্থে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের মাধ্যমে পিআর ভিত্তিক নির্বাচন নিশ্চিত করা জরুরি।”
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক এম কোরবান আলী বলেন, “পিআর পদ্ধতি শুধু একটি নির্বাচন পদ্ধতি নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সূচনা। আমাদের দেশের রাজনৈতিক কাঠামো ও প্রশাসনিক দুর্বলতা দূর করতে হলে এ সংস্কার এখন সময়ের দাবি।”
সভায় অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-মো. সিরাজুল ইসলাম, জিএম আলাউদ্দিন, মো. সাখাওয়াত হোসাইন, অধ্যাপক নূর নবী মানিক, অধ্যাপক আবুল কালাম পাটোয়ারী, অধ্যাপক উমার আলী, নজরুল ইসলাম, বেলায়াত হোসাইন, মানবাধিকার নেতা গোলাম রহমান ভূঁইয়া।