যশোরে গোয়ালঘরের তালা ভাঙার সময় আটক ব্যক্তির মারধরে মৃত্যু
“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মারধরের ফলে আঘাতজনিত কারণেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।”
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় একটি গোয়ালঘরের তালা ভাঙার সময় গরু চুরির সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করে মারধর করা হয়েছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার ভোররাতে উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের বাঘারদাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশীদ জানয়িছেনে।
পুলিশ বলছে, নিহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজেকে মিজানুর রহমান (৪৫) বলে পরিচয় দেন। তিনি কুষ্টিয়া জেলার লালন শাহ বাজার সংলগ্ন বাটকেমারি গ্রামের বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের বরাতে ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, সোমবার রাত প্রায় ৩টার দিকে বাঘারদাড়ি গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে ইদ্রিস আলীর বাড়িতে কয়েকজন ব্যক্তি প্রবেশ করে। তারা গোয়ালঘরের তালা ভাঙার চেষ্টা করলে বাড়ির মালিক বিষয়টি টের পান। এ সময় তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সন্দেহভাজনদের ধাওয়া করে। তিনজনের মধ্যে দুজন পালিয়ে গেলেও মিজানুর রহমান নামে একজনকে আটক করা হয়।
পরে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে চৌগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
গরুর মালিক ইদ্রিস আলী বলেন, বাঘারদাড়ি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। প্রায়ই রাত জেগে পাহারা দিতে হয় গ্রামবাসীকে। এক বছর আগে তার তিনটি গরু চুরি হয়েছিল।
এছাড়া গত দুই-তিন বছরে গ্রামটিতে অন্তত দশটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইদ্রিসের ভাষ্য, “রাতে বাইরে বের হয়ে গোয়ালঘরের কাছে তিনজনকে দেখতে পাই। চিৎকার দিলে গ্রামবাসী এসে তাদের ধাওয়া করে। একজনকে আটক করা হয়, অন্য দুজন পালিয়ে যায়।”
চৌগাছা সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রেজাউর রহমান বলছেন, -“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মারধরের ফলে আঘাতজনিত কারণেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।”
নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে চৌগাছা থানার ওসি আরও জানান।
তিনি বলেন, “ঘটনটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”
