জাবিতে তালা ভেঙে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদের উদ্ধার করল ছাত্রদল
নতুন প্রশাসনিক ভবনের ফটকে তালা দেন তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদের বের করে এনেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ও সদস্যসচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিকের নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা তালা ভেঙে তাদের বের করে আনেন।
এর আগে বিকাল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সিন্ডিকেট সভা চলাকালে নতুন প্রশাসনিক ভবনের ফটকে তালা দেন তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। ইনস্টিটিউটের পরিচালক নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
তালা দেওয়া শিক্ষার্থীদের একজন, ইনস্টিটিউটের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. শাহরিয়ার বলেন, তাদের ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে দর্শন বিভাগের একজন অধ্যাপককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা চান, ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে এ দায়িত্ব দেওয়া হোক।
তিনি বলেন, “বিশেষ করে এ মুহূর্তে সহযোগী অধ্যাপক হামিম কামরুল হককে দিলে বিভাগের কল্যাণের জন্য ভালো হবে। কিন্তু প্রশাসন তাকে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক অভিযোগ এনে উনাকে উনার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।”
হামিম কামরুল হককে দায়িত্ব দেওয়া না হলে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালিকে পরিচালক করার দাবি জানান তিনি। তার ভাষ্য, ওই অধ্যাপক ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তবে তারা দর্শন বিভাগের কাউকে পরিচালক হিসেবে চান না।
এ দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম বরাবর স্মারকলিপিও দেন শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে, তালা ভাঙতে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদল নেতাদের দাবি, সহযোগী অধ্যাপক হামিম কামরুল হক আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। জুলাই আন্দোলনে তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং বর্তমানে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
ছাত্রদল নেতারা বলেন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক নিয়োগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই চূড়ান্ত। তাদের অভিযোগ, তালা দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।
তালা ভাঙার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম বলেন, তিনি উপাচার্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন মাত্র কয়েক দিন হয়েছে। কোনো সমস্যা হলে শিক্ষার্থী বা শিক্ষক যে কেউ তার সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন।
তিনি বলেন, “আমি যদি তাদের কথা না শুনি তারপরে তারা প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। বাংলাদেশ সরকারের আচার্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার কথা শোনার জন্য।”
উপাচার্য বলেন, ইনস্টিটিউটের পাঁচ-সাতজন শিক্ষার্থী তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন এসে প্রশাসনিক ভবনের ফটকে তালা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ব্যাহত করেছেন।
