১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২ কার্তিক ১৪৩৩

তৌফিক ভাইয়ের স্মরণে

একাত্তরের গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অজানা ইতিহাসের সত্য উদঘাটনে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর ভূমিকা ছিল অনন্য। ‘মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু’ জুলিয়ান ফ্রান্সিসের স্মৃতিকথায় এসেছে বন্ধুপ্রতিম সেই সম্পর্ক ও ইতিহাস রক্ষার অনুপ্রেরণার গল্প।

তৌফিক ভাইয়ের স্মরণে

‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ’ সংকলনের দ্বিতীয় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে (বাম থেকে) জুলিয়ান ফ্রান্সিস, লীনু হক ও তৌফিক ইমরোজ খালিদী।

জুলিয়ান ফ্রান্সিস জুলিয়ান ফ্রান্সিস

Published : 17 Oct 2026, 02:34 PM

Updated : 17 Oct 2026, 02:41 PM

২০০৭ সালের মার্চে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। তখন সেগুনবাগিচায় অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বার্ষিক স্মারক বক্তৃতা দিয়েছিলাম আমি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া একজন মানুষ এত বছর ধরে অনেকটা আড়ালে রয়ে গেছেন—এই বিষয়টিতে তিনি ভীষণ অবাক হয়েছিলেন।

১৯৭১ সালে নিজের চোখে দেখা গণহত্যার ভয়াবহতা নিয়ে জমে থাকা আবেগ ও অনুভূতিগুলো বহু বছর ধরে মনের মধ্যে চেপে রেখেছিলাম। নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করতে তৌফিক ভাই আমাকে সাহায্য করেন। ১৯৭১ সালে প্রত্যক্ষ করা ভয়াবহতা, দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং ১৯৭১ সালে ও তার পর থেকে প্রতিটি সরকারের আমলে নিজের চোখে দেখা ব্যাপক দুর্নীতি নিয়ে বিস্তারিত লিখতে তিনি আমাকে উৎসাহিত করেন। তিনি চাইতেন, নির্ভয়ে সত্য লেখা হোক।

মাঝেমধ্যে সরকারের সমালোচনা করে কোনো নিবন্ধ লিখলে বন্ধুরা ভোরবেলায় ফোন করে জানতে চাইতেন, “ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছেন তো? ওরা আপনাকে গ্রেপ্তার করতে আসবে।”

তৌফিক ভাই বিষয়টি জানার পর আমাকে অভয় দিয়ে বলতেন, “কেউ আপনাকে বিরক্ত করলে আমরা আপনার পাশে থাকব।”

Image

‘রক্তরেখায় বাংলাদেশের’ দ্বিতীয় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বই হাতে ‘মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু’ জুলিয়ান ফ্রান্সিস।

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম যে বিশাল তিন খণ্ডের সংকলন প্রকাশ করেছে, তা সত্য এবং বাংলাদেশের নির্ভুল ইতিহাসের প্রতি তার একনিষ্ঠ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিকে তুলে ধরে।

অনেকেই তৌফিক ভাইকে তার বাড়িতে আয়োজিত চমৎকার বৈশাখী মধ্যাহ্নভোজের জন্য মনে রাখবেন। এসব আয়োজনে তিনি নানা মতের মানুষকে একত্র করতেন। যাদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ, লেখক, অভিনেতা, শিল্পী ও কূটনীতিক।

আমি বিশেষভাবে মনে রাখব তার আন্তরিকতার কথা। এক বছর অসুস্থতার কারণে বৈশাখী মধ্যাহ্নভোজে যেতে পারিনি। পরদিন তিনি আমার জন্য সেই বিশেষ খাবারের অনেকটা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

জুলিয়ান ফ্রান্সিস: ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা'প্রাপ্ত ব্রিটিশ সমাজকর্মী ও লেখক।