Published : 24 Oct 2025, 11:02 PM
বাংলাদেশে শিক্ষা এখন যেন এক অদ্ভুত মুদ্রা—কখনো তার দাম বাড়ে, কখনো পড়ে যায়; কিন্তু আসল মূল্যটা হারিয়ে গেছে অনেক আগেই। এক সময় ‘ফলস্ফীতি’তে দেশ ভরে গিয়েছিল, সবাই পাশ করছিল, সবাই খুশি ছিল—যেন নম্বরই শিক্ষার পরিমাপক। এখন আবার ‘ফলসংকোচন’ যুগ এসেছে—অর্ধেক ছেলেমেয়ে ফেল করছে, এবং কর্তৃপক্ষ নিজেরাই নিজেদের বাহবা দিচ্ছেন কঠোরতা অবলম্বন করে ফেল করিয়ে দিতে পারায়। এক সময় রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার জন্য নম্বর বিলানো হয়েছে, এখন আবার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃঢ়তার নামে ফেল করানো হচ্ছে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীর জ্ঞান বা দক্ষতার কোনো উন্নতি ঘটছে না।
এবার এইচএসিতে যে ফল বিপর্যয় তা বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। হয়তো আরও অনেকদিন চলবে এ আলোচনা। তবে এ থেকে কোনো শিক্ষাগ্রহণ হবে কিনা তা বলা দুরূহ। গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে এবার, প্রায় অর্ধেক ছেলেমেয়েই ফেল করেছে। যেহেতু এবার আগের মত বেশি বেশি নম্বর দিয়ে ছেলেমেয়েদের পাশ করিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করা হয়নি, এটি প্রশংসা পাওয়ার মতই একটা কাজ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষের আত্মতুষ্টি শোভন নয়। কারণ কোনো একটা পরীক্ষায় দেশের অর্ধেক শিক্ষার্থীকে ফেল করিয়ে দেওয়াটা নেতৃত্বের যোগ্যতা প্রমাণ করে না।
গত ২০ বছর ধরে যে ভালো ফল হয়েছে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকে, তার উদ্দেশ্য ছিল সবাইকে খুশি রাখা। কিন্তু যেমন মূল্যস্ফীতিতে মুদ্রার প্রকৃত মূল্য কমে যায়, তেমনি ফলস্ফীতিতেও প্রকৃত শিক্ষার মান হ্রাস পায়। এর বিপরীতে মূল্যসংকোচন বা ফলসংকোচন করলেই যে দেশে অর্থনীতি বা শিক্ষায় কোনো বাস্তব উন্নতি ঘটবে, তার নিশ্চয়তা নেই। মনে করুন, সরকার সিদ্ধান্ত নিল যে এই তারা আগামী বছরগুলোতেও ফলাফলে কঠোরতা বজায় রাখবে—তাহলে শিক্ষার এই উদ্ভট উন্নতিতে আমরা কতটা উল্লসিত হতে পারি? দু-এক বছর পরই সরকারকে পরীক্ষায় ভালো ফল দেখাতে হবে—সেটা সত্যিকার পড়ালেখা করিয়েই হোক, কিংবা আবারও ফলস্ফীতির কৌশল অবলম্বন করেই হোক। কারণ ফল বিপর্যয় কোনো শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কৃতিত্ব হতে পারে না। এটি বরং এক পতিত সরকারের শিক্ষাবিষয়ক অসদুদ্দেশ্যের প্রতিচ্ছবি হতে পারে। কিন্তু বর্তমান কর্তৃপক্ষের সদুদ্দেশ্যের প্রমাণ কোথায়?
কড়াকড়ি খাতা দেখার ও ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে হয়তো পরীক্ষার ফল সাময়িকভাবে ভালো দেখাতে পারে। এর কারণ, বাংলাদেশ এখন এক সার্টিফিকেটের দেশ। জ্ঞান, দক্ষতা বা মেধা থাকুক বা না থাকুক, সনদই যথেষ্ট। অনেকে অভিযোগ করেছেন, যারা আগে ভালো ফল করে উচ্চশিক্ষা বা বিশেষায়িত বিষয়ে ভর্তি হয়েছে, তাদেরকে পড়াতে এবং বোঝাতে দেশের শিক্ষকদের কত কষ্ট করতে হয়েছে। তবে এই সমস্যা তাদের উচ্চশিক্ষার সনদপত্র পাওয়ায় বা চাকরিতে প্রবেশে কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি। কারণ এখানে মূলত সনদই আসল, শিক্ষার প্রকৃত মান নয়। উচ্চশিক্ষায়ও যারা সনদ বিতরণ করেন বা চাকরিতে নিয়োগ দেন, তারা সবাই তো এই শিক্ষাযন্ত্র থেকে বেরিয়ে এসেছে। এই সনদভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র সনদ ছাড়া কাউকে এক পা-ও এগোতে দেয় না। ফলে এখানে সার্টিফিকেট লাভ করা জীবনযুদ্ধে জয় পাওয়ার সমতুল্য।
কিন্তু ফলসংকোচনে সমস্যার সমাধান হবে কি? তখনও যে বিরাট সংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল করবে তারা মানবসম্পদ হওয়ার বা সে হিসেবে চিহ্নিত হওয়ারও সুযোগ থেকে চিরবঞ্চিত হবে। মানবসম্পদ হওয়া বা না হওয়ার চেয়ে এ রাষ্ট্রে চিহ্নিত হওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্ন হল শিক্ষাব্যবস্থা তাদেরকে এই শাস্তি দিল কিসের ভিত্তিতে? মোট ৩ ঘণ্টা করে ১০ বিষয়ে মোট ৩০ ঘণ্টার পরীক্ষার মাধ্যমে? ১২ বছরের পড়ালেখার মান ৩০ ঘণ্টায় পরীক্ষকগণ বের করে ফেলেন—তারা যাদের উৎসাহ-অবসাদ, পারিবারিক শান্তি কিংবা বিবাদ, সুখ-অসুখ ও দৈনন্দিন উত্থানপতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং যাদের দেওয়া নাম্বারের ওপরে পাকা হয়ে যায় কে মানবসম্পদ হবে ও কে হবে না রাষ্ট্রের সেই সিদ্ধান্ত। শৈশবে ও কৈশোরেই অর্ধেক ছেলেমেয়ে মানবসম্পদ হওয়ার অধিকার হারাল, আর গর্বিত হলেন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কর্ণধাররা। তবে কি ফলস্ফীতি কোনো সমাধান? নিশ্চয়ই না। যা জরুরি তা হচ্ছে আমাদের প্রায় সব ছেলেমেয়েকে পাশ করানো। ফলস্ফীতির মাধ্যমে না, সত্যিকার পড়ালেখা করিয়ে। আর সেটা প্রায় শতভাগ সম্ভব।
আসলে কি বাংলাদেশে স্কুলকলেজে পড়ালেখা হয়? হয় যে না তার প্রমাণ বিপুল পরিমাণে প্রাইভেট টিউশন, কোচিং সেন্টার ও নোট-গাইড বইয়ের উপস্থিতি। কিন্তু প্রাইভেট টিউশন, কোচিং সেন্টার ও নোট-গাইড বই দিয়ে কি ভালো পড়ালেখা হয়? তা-ও হয় না। তবে তারা ভালো নম্বর পেয়ে পাশ করার ও ভালো ভালো জায়গায় ভর্তি হওয়ার কৌশল শিখিয়ে দেয়।
স্কুলকলেজে পড়ালেখা হলে এই ধূর্তামি শেখার কোনো দরকার হত না। আর একজন শিক্ষার্থীর দশ ও বারো বছর পর এরকম ধূর্তামি প্রমাণ করার পরীক্ষাও দিতে হত না। জ্ঞানার্জনের চেয়ে বেশি নম্বর পাওয়ার চালাকি শিখতে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় যার সামর্থ্য বেশিরভাগ পরিবারের নেই। বেশিরভাগ পরীক্ষার্থী ফেল করে ইংরেজিতে ও গণিতে। এবার হয়েছে হিসাববিজ্ঞান, ইংরেজি ও আইসিটিতে। কারণ এ বিষয়গুলোতে ভালো শিক্ষক নেই বললেই চলে। অতএব যারা পরীক্ষা পাশের ও ভালো নম্বর লাভের চালাকি শিখতে অর্থ ব্যয় করতে পারছে না, পরীক্ষাওয়ালারা তাদেরকে ভবিষ্যতে মানবসম্পদ হওয়ার অযোগ্য বলে ঘোষণা করলেন—যেখানে কিনা সুযোগটাই আসলে তারা পেল না।
যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি ফেল করেছে সেগুলো পড়ে শেখার চেয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান অনেক বেশি জরুরি। আপনাকে যদি সাঁতার শেখার বা সাইকেল চালানো জন্য ৫০০ পৃষ্ঠার একখানা বই মুখস্থ করানো হয়, আপনি এ দুটোর কিছুই শিখবেন না, বরং অন্য যা জানতেন তা-ও ভুলে যাবেন। এসব বিষয়েও অনেক বই আছে, তবে যে এসব শিখবে তার বাড়ির সামনে খালবিল কিংবা ঘরে একটা সাইকেল থাকতে হবে। আমাদের দেশে ইংরেজি ও আইসিটি ঠিক ওইভাবে পড়ানো হয়, সত্যিকার শেখানোর জন্য নয়। বই মুখস্থ করিয়ে আইসটি শেখানো ও বই মুখস্থ করিয়ে শিশুর হাঁটা শেখানো এক কথা। কিন্তু যারা পাশ করে তারা এবং তাদের পরিবারের লোকজনও এসব কথা বলে না। কেননা অন্যদের ফেল দেখার মধ্যে তারা তাদের মেধার পরিচয় খুঁজে পায়—উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ও চাকরির বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যাও কমে যায়।
যারা ইংরেজিতে ফেল করেছে তারা সবাই কি মেধাহীন? মেধাহীন হলে তো সব বিষয়েই ফেল করার কথা। যদি তারা অন্য বিষয়ে ভালো হয়, তবে তারা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে না কেন? বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে বেশিরভাগ উচ্চশিক্ষার বই ইংরেজিতে, তাই তারা বুঝবে না বলে? উচ্চশিক্ষার সব বই বাংলায় নেই কেন? মানুষ অদৃশ্য কণার ভেতর থেকে বিপুল শক্তি বের করে এনেছে ৮০ বছর আগে, কল্পনার চাঁদে পা রেখেছে ৫৬ বছর আগে, আর বাংলাদেশের ক্ষমতাবানরা অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময় পরেও উচ্চশিক্ষার বই কিংবা বিশ্বের ভালো ভালো বইগুলোকে বাংলায় অনুবাদ করতে পারল না? অনুবাদের জন্য কোনো সফল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেই। যারা ইংরেজিতে ফেল করেছে এটা যদি তাদেরই ব্যর্থতা হয়, যারা রাষ্ট্রের শাসনকার্যে জড়িত তারা তাদের সন্তানকে সরকারি বা সাধারণ স্কুলকলেজে ভর্তি করান না কেন? যারা উচ্চপর্যায়ে আছেন আর বড় বড় বুলি ছাড়ছেন তাদের ছেলেমেয়ে ও নাতিপুতিরা প্রায় সবাই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ে কেন? কারণ তারা ভালো করেই জানেন যে, ভালো ইংরেজি শেখানোর ক্ষমতা এসব স্কুলকলেজের শিক্ষকদের নেই। তারা কেবল কিছু গ্রামার মুখস্থ করাতে পারেন। ভালো করে পড়ানোর মত শিক্ষকের অভাবের কারণেই স্বচ্ছল পরিবারের মা-বাবা সন্তানদের দামি প্রাইভেট স্কুলে ও ইংলিশ মিডিয়ামে ভর্তি করান। তা না পারলে অনেকে আজকাল দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর জন্য সন্তানকে ইংলিশ ভার্সনে দেন।
আসলে সব বিষয়েই ভালো শিক্ষকের অভাব আছে। অনেকে ভালো শিক্ষকের অভাবের জন্য কেবল কম বেতনকে চিহ্নিত করেন। তা আংশিক সত্য, ষোলো আনা নয়। ভালো শিক্ষক তৈরির কোনো উদ্যোগই রাষ্ট্রের নেই। রাষ্ট্র ভালো ছাত্রছাত্রী চাইবে, কিন্তু ভালো শিক্ষক তৈরির কোনো বৃহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করবে না, তাহলে এরকম ফল বিপর্যয় ঘটবে আর নতুন নতুন কারণ অনুসন্ধান চলবে। অবশ্যই ভালো বেতন প্রয়োজন। কিন্তু শ্রমিক-কৃষকের তুলনায় আমাদের সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও শাসকদের যে পরিমাণ আয়-রোজগার বেড়ে চলেছে, তাতে শাসনকার্যে এই দেশ বিশ্বের সেরা হওয়ার কথা। কেবল আয়ের কথা বিবেচনা করলে অনেক দেশের প্রধানমন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে বাংলাদেশের এক প্রধানমন্ত্রীর পিয়ন হতে আবেদন করতেন! তবু দেশের সেবায় তাদের অবস্থান বিশ্বের তলানিতে কেন? অতএব ভালো শিক্ষক তৈরি ও বেতন বৃদ্ধি দুইই একসঙ্গে হতে হবে।
ভালো শিক্ষক ও ভালো শিক্ষার্থীও পাওয়া যাবে না ভালো বই ছাড়া। সে অভাব দূর হবে না বিদেশি ভাষায় প্রকাশিত ভালো ভালো বইয়ের অনুবাদ ছাড়া। আমাদের পাঠ্যবই যে খুবই নিম্নমানের তা আমাদের বলার প্রয়োজন নেই, সরকার নিজেই তা বলে। কেননা প্রত্যেক সরকারই অগের পাঠ্যবই পাল্টাচ্ছেন এবং দুদিন পরই নিজেরটাও পাল্টানোর প্রেক্ষাপট তৈরি করে রেখে যাচ্ছেন। পাঠ্যপুস্তক যাই থাক স্কুলকলেজের লাইব্রেরিগুলো বিশ্বের ভালো ভালো বই দিয়ে ভরে দিন যা তাদের পাঠ্যবিষয়কে বুঝতে সহায়তা করে। দেখবেন ছেলেমেয়েরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে কিংবা ক্লাস ভুলে গ্রন্থাগারে বুঁদ হয়ে বসে বই পড়ছে, অবশ্যে এজন্য শিক্ষককেও বইপ্রেমী হতে হবে। শিক্ষক বইপ্রেমী না হলে আর বইপ্রেমী কোথায় পাব—বাণিজ্যমেলায়?
আমাদের শিক্ষাপ্রণালী হচ্ছে শিক্ষক প্রশ্ন করবেন আর শিক্ষার্থী উত্তর দেবে। নির্ধারিত প্রশ্নের এসব নির্ধারিত উত্তর যারা ভালো দিতে পারবে তারাই সেরা ছাত্রছাত্রী। এ কারণে সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থাজুড়ে পরীক্ষা ও তার ফল নিয়ে এই চরম বাড়াবাড়ি যা মাঝে মাঝে মৃত্যুতেও গড়ায়। এই বিচারে প্রতিবছর ডায়মন্ড জিপিএ ফাইভ পাবে চ্যাটজিপিটি। অথচ প্রকৃত শিক্ষা হচ্ছে প্রশ্নের অনুসন্ধান যা আমাদের শিক্ষার্থীদের মন থেকে প্রথমেই ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হয়। তাদের মনে কোনো প্রশ্ন থাকা যেন অন্যায়, তারা কেবলই শ্রেষ্ঠ উত্তরদাতা। অথচ ভালো ছাত্র মানে ভালো অ্যানসারিং মেশিন নয়, বরং এক শিশু প্রশ্ন যাকে মোহিত করে ও শিক্ষক নিজেও তাতে চমকে ওঠেন। তার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক সার্বক্ষণিক হতে বাধ্য। তিনি শিক্ষক কেবল ৪৫ মিনিটের ক্লাসে নয়, তার আগে ও পরেও, ২৪ ঘণ্টা। অথচ এখনকার শিক্ষকগণ এখনকার বণিজ্যিক চিকিৎসকদের মতই—উচ্চ ফির বিনিময়ে যে দুয়েক মিনিট রোগীর জন্য বরাদ্দ, তার আগেপরে রোগীর অবস্থা নিয়ে তার কোনো দায় নেই। অথচ রোগী কোনো মেশিন বা জড় পদার্থ নয়, এক জীবন্ত মানুষ। শিক্ষার্থীও তাই।
নরওয়েজিয়ান দার্শনিক আরনে নেস তার ‘লাইফ’স ফিলোসফি’ বইতে শিখন-শেখানো প্রক্রিয়ার একেবারে গোড়ার সমস্যার কথাটা বলেছেন। সপ্তম অধ্যায়ের শিরোনামটি বাংলায় অনুবাদ করলে এরূপ হবে: তুমি কেবল তাই সঠিকভাবে শিখতে পার যা তোমার হৃদয়কে যুক্ত করে। এ অধ্যায়ে এক জায়গায় লিখেছেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো মানে হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের গাদাগাদা তথ্য সরবরাহ করা। কিন্তু এরচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার্থীদের আত্মসমালোচনা গড়ে তোলায় সহায়তা করা যা প্রকারান্তরে শিক্ষকের নিজেরও আত্মসমালোচনার ক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।”
যারা ফেল করল তাদের সমালোচনা করে ক্ষান্তি দিলে হবে না। যারা শিক্ষার হাল ধরে আছেন এই ব্যর্থতার দায় অনুভব করে তাদের সবার আত্মসমালোচনা কই? যাদের নিজেদেরই শিক্ষা পূর্ণাঙ্গ নয়, তারা অন্যদের শিক্ষিত করবেন কি করে?