Published : 13 May 2026, 02:13 PM
প্রজাতন্ত্রের কর্মীরা কি পেশাদারিত্ব জলাঞ্জলি দিয়ে আবারও দলীয় আনুগত্যের প্রতিযোগিতায় নামতে শুরু করে দিয়েছেন? পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ১১ মে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) রেজাউল করিম মল্লিকের বক্তব্য এই প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে উচ্ছেদ হওয়া ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ আমলে এমন অনেক ঘটনা দেখতে হয়েছে আমাদের। বিশেষ করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে দলীয় সভায় রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান, বিরোধী মত দমনে অতি-উৎসাহ এবং পেশাদারিত্বের বদলে দলীয় ‘ক্যাডার’ হিসেবে ভূমিকা পালন পুলিশ বাহিনীকে কার্যত আওয়ামী লীগের দলীয় বাহিনীতে রূপান্তর করেছিল। ডিআইজি মল্লিকের সাম্প্রতিক বক্তব্য কি সেই পুরনো অন্ধকার পথেরই পুনরাবৃত্তি? অথচ গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ঘটার পর ওই সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসবে বলে আশা করেছিল দেশের মানুষ।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক নিজেকে ‘জাতীয়তাবাদী পুলিশ হিসেবে’ উপস্থাপন করে এক আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন। প্রায় ২৯ বছরের চাকরি জীবনে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসার সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেছেন, এটা তার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দীর্ঘ ১৮ বছরের চাকরি জীবনে পদবঞ্চনা, বৈষম্য, অপমান ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে এই পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ‘শত প্রতিকূলতার মধ্যেও জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে একচুলও বিচ্যুত হইনি কখনো’। তিনি বলেছেন, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় ১৯৯৮ সালে চাকরি হারালেও পরে বেগম খালেদা জিয়ার হস্তক্ষেপে চাকরি ফিরে পান। বক্তব্যে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি, খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

উল্লেখ্য, রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে চার দিনব্যাপী ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিপাদ্য ছিল ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপিসহ পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদাপূর্ণ এই আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম মূল্যায়ন, দিকনির্দেশনা প্রদান এবং বাহিনীর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা।
এমনিতেই এই পুলিশ সপ্তাহ পালিত হয়েছে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এক সময়ে। যখন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরে গণতান্ত্রিক সরকারের শাসনামলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলমান। আবার সমগ্র পুলিশ বাহিনীর মনোবল সংকট এবং ‘পুলিশের দলীয়করণ’ বিতর্ক, গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জনআকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি মিলিয়ে এক জটিল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সব মিলিয়ে পুলিশ বাহিনী আত্মসমালোচনা ও পুনর্গঠনের নানা পরিবর্তনশীল দশার মধ্য দিয়ে পথ চলছে। পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার, জনআস্থা অর্জন ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার এক দুরূহ সংগ্রাম চলছে। এরকম স্পর্শকাতর সময়ে ‘জাতীয়তাবাদী ডিআইজি’র এই প্রকাশ্য বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যময় ও নানা বিবেচনার দাবিদার। কেননা মূলধারার সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে তার এই বক্তব্য দেশবাসীর গোচরে এসেছে এবং ভাইরাল হয়েছে। সমালোচনা হচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও। শুধু তাই নয়, এই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে, সেটাও মানুষ লক্ষ্য করেছে। অন্যদিকে, এই পুলিশ সপ্তাহে খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের বক্তব্যে বারবার পুলিশকে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘পুলিশ কোনো দলের নয়, আইনের অধীনেই চলবে’ এবং অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে আইন প্রয়োগ করতে হবে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী—বিশেষ করে পুলিশের মতো শৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এই বক্তব্য কতগুলো প্রশ্নের উদ্রেক করে।
প্রথমত, তার এই বক্তব্য প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন করেছে কি না? কেননা, বাংলাদেশের সংবিধান ও সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দলীয় রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ্যে প্রদর্শন না করাই প্রত্যাশিত। পুলিশ বাহিনীর ক্ষেত্রে এই নিরপেক্ষতা আরও গুরুত্বপূর্ণ; কারণ আইন প্রয়োগে জনগণের আস্থা অনেকাংশে নির্ভর করে বাহিনীর নিরপেক্ষ ভাবমূর্তির ওপর।
দ্বিতীয়ত, ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক তার এই আচরণের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতি বনাম প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানকে সাংঘর্ষিক বিষয়ে পরিণত করেছেন কি না, সেটাও বিবেচ্য। কেননা, তিনি বক্তব্যে ব্যক্তিগত জীবনের বঞ্চনা, রাজনৈতিক বিশ্বাস ও কিছু রাজনৈতিক নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা বলেছেন। একজন ব্যক্তি হিসেবে এসব অনুভূতি তার থাকতে পারে। তবে তিনি যখন ডিআইজি পরিচয়ে সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, তখন সেটি কেবল ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবে দেখা কঠিন হয়ে পড়ে; বরং তা প্রতিষ্ঠানগত নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
তৃতীয়ত, পুলিশের পেশাগত নৈতিকতা লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না? পুলিশের দায়িত্ব হলো আইন ও সংবিধানের প্রতি আনুগত্য দেখানো—কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ বা দলের প্রতি নয়। তাই প্রকাশ্যে ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শের পুলিশ কর্মকর্তা’ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করা সমর্থক ও সমালোচক—উভয় পক্ষ থেকেই বিতর্ক তৈরি করতে পারে। এই বিতর্ক উসকে তিনি বাহিনী কিংবা ক্ষমতাসীন দল উভয়কেই চাপের মুখে ঠেলে দিলেন কি না, সেটাও বিবেচ্য।
চতুর্থত, গণতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় তার এই বক্তব্য জনমনে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে সংশয় তৈরি করছে কি না? কেননা, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রকাশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি করতে পারে। তার বক্তব্যটি আবেগপূর্ণ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতানির্ভর হলেও, একজন কর্মরত ডিআইজির পক্ষ থেকে প্রকাশ্য মঞ্চে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতাদের প্রতি প্রকাশ্য আনুগত্য প্রদর্শন প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—সেটাও ভাবনার বিষয়।
পঞ্চমত, বাংলাদেশে কোনো সরকারি কর্মচারী—বিশেষ করে পুলিশের কর্মকর্তা—প্রকাশ্যে দলীয় রাজনৈতিক অবস্থান বা আনুগত্য প্রদর্শন করলে সেটি শৃঙ্খলাভঙ্গ বা আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না? কেননা, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক কার্যক্রম ও প্রকাশ্য দলীয় অবস্থান গ্রহণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যদের জন্যও পেশাগত নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। সে ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত এই বক্তব্য চাকরি আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সে ক্ষেত্রে তাকে কোনো জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হচ্ছে কি না, সেটাও দেখার বিষয়।
ষষ্ঠত, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রকাশ্য দলীয় আনুগত্য, রাজনৈতিক আদর্শ বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নেতার প্রতি ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতার বক্তব্য শোনা—এটি নৈতিকতা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং রাষ্ট্রীয় আচরণবিধির দৃষ্টিকোণ থেকে বিতর্কিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কেননা, বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্যান্য প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মূল নীতি হলো রাষ্ট্র ও সংবিধানের প্রতি আনুগত্য, কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির প্রতি নয়। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান সাধারণত দলনিরপেক্ষ হওয়া প্রত্যাশিত। সেখানে দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রকাশ প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সপ্তমত, প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এমন বক্তব্যে তাৎক্ষণিক আপত্তি আসেনি। এর ফলে রাজনৈতিক পক্ষপাতকে পরোক্ষভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না, এ অভিযোগ উঠতে পারে। কেননা, একদিকে প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলছেন, পুলিশ আইন অনুযায়ী চলবে, দলীয় আনুগত্যে নয়; অন্যদিকে একই আয়োজনে একজন ডিআইজি রাজনৈতিক আনুগত্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন। এটা দ্বৈত বার্তা দিচ্ছে—এই অভিযোগে এখানে নৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অষ্টমত, এটা রাষ্ট্রীয় আয়োজনে দলীয় আবেগ প্রকাশের মঞ্চ হয়ে উঠছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠতে পারে। কেননা, এটি কোনো ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ সভা ছিল না; বরং রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠান ছিল। ফলে একজন কর্মরত ডিআইজির প্রকাশ্য রাজনৈতিক পরিচয় ও আনুগত্যের ভাষা অনেকের কাছে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী মনে হয়েছে। এই অভ্যেস শাসকের কাছ থেকে বাহবা পেলে তা সংক্রামক হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে বাহিনীর ভেতরে একটি বার্তা যেতে পারে যে, রাজনৈতিক আনুগত্য প্রকাশ করাও ‘গ্রহণযোগ্য’ বা ‘পুরস্কৃত’ আচরণ। এতে পেশাগত নিরপেক্ষতার বদলে রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্বপূর্ণ মনে করার প্রবণতা বাড়তে পারে। তরুণ বা মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ধারণা তৈরি হতে পারে যে, ক্যারিয়ার অগ্রগতির জন্য রাজনৈতিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। এটি দীর্ঘমেয়াদে পেশাদারিত্ব দুর্বল করতে পারে।
নবমত, এই ঘটনা একটা অশুভ রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারে। কেননা, যে সময়ে পুলিশকে ‘দলীয় প্রভাবমুক্ত’ করার আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়ে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রকাশ্যে ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শ’ নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দেওয়ায় সেটি প্রতীকী গুরুত্ব পায়। কেননা, একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়কে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব। তাই এই বক্তব্য শুধু আবেগের প্রকাশ নয়, বরং পুলিশ বাহিনীর ভবিষ্যৎ চরিত্র ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় বিতর্কের অংশ হয়ে দাঁড়ায়।
দশমত, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের বিরুদ্ধে ‘দলীয়করণ’ বা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্যের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক দমন, বিরোধী দল মোকাবিলা, নির্বাচনকালীন ভূমিকা বা আন্দোলন দমনে পুলিশের আচরণ নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। ‘জাতীয়তাবাদী ডিআইজি’র এই বক্তব্যের কারণে জনমনে আবারও সেই প্রশ্ন জোরালো হতে পারে—পুলিশ কি রাষ্ট্রের, নাকি কোনো রাজনৈতিক শক্তির? এর ফলে পুলিশের ওপর আস্থা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বাহিনীর ভেতরেও বিভাজন তৈরি হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। কারণ সব সদস্য একই রাজনৈতিক বিশ্বাস ধারণ করেন না। কোনো একটি আদর্শের প্রকাশ্য প্রাধান্য অন্যদের মধ্যে বঞ্চনার অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।
পুনশ্চ: বিএনপি তার নির্বাচনি ইশতেহারে পুলিশের নৈতিক মনোবল পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনআস্থা অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার অবৈধ ক্ষমতা প্রলম্বিত করার লক্ষ্যে পুলিশকে হাতিয়ার হিসেবে যথেচ্ছ ব্যবহার করেছে। ফলে, জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে বিক্ষুব্ধ জনতার রোষ ও আস্থা ক্ষুণ্ণ হওয়া পুলিশের নৈতিক অবস্থান ভেঙে পড়েছে। পুলিশের নৈতিক মনোবল পুনরুদ্ধার করে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাষ্ট্র মেরামতে বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখায় বলা হয়েছে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ পরিষেবা, জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি ‘প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করে প্রশাসন সংস্কার ও পুনর্গঠন করা হবে। মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
পুলিশ বাহিনীর নিজস্ব ভিশন ও মিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং উন্নততর কর্মসম্পাদনের পন্থা অন্বেষণের মাধ্যমে তারা লক্ষ্য অর্জনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে, সরকারের এসব ঘোষণা ও বাহিনীর নিজস্ব প্রত্যয় কি পথ পাবে? নাকি পুরনো পথে হেঁটে, নতুন চেহারায়, নতুন আদর্শে ফ্যাসিবাদী জমানার বেনজীর-হারুন মডেলের পুলিশেই ফিরবে বাংলাদেশ? রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা কি রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচালিত হবেন, নাকি সম্পূর্ণভাবে সংবিধান ও প্রজাতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবেন?