Published : 23 Aug 2026, 12:30 AM
ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে এই সেদিন, শুক্রবার, বর্ণিল নৌকাবাইচ দেখতে নৌমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসকসহ হাজার হাজার মানুষ হাজির হলেন। তার পরদিনই সংবাদমাধ্যমের খবর: বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ বন্ধ করার দাবি ‘তৌহিদী জনতার’।
খবরে বলা হয়, সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের লাউতা ও বাহাদুরপুর যুবসমাজের উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারও বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অতীতে এ প্রতিযোগিতা নিয়ে আয়োজকরা কোনো বাধার মুখে পড়েননি। কিন্তু এবার ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একটি গোষ্ঠি এই প্রতিযোগিতা বাতিলের দাবি জানিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা সংঘাতের আশঙ্কা করছেন। স্থানীয়রা বলছেন, সুনাই নদীতে এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা এই এলাকার মানুষের আনন্দের খোরাক। শত শত মানুষ প্রতিবছর নৌকাবাইচ উপভোগ করে। কিন্তু কী একটা উপদ্রব শুরু হয়েছে! তৌহিদী জনতার ব্যানারে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে বুধবার কিশোরগঞ্জে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘অ্যাশেজ’-এর কনসার্ট বাতিল ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। স্থানীয় আলেম-ওলামাদের আপত্তি এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন না থাকায় কনসার্ট বাতিল করা হয়। আগের দিন মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনস মাঠে জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার জেরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। এ ঘটনার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।
শান্তিতে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো দেড় বছরের শাসনকালে কথিত তৌহিদী জনতার এই ধরনের তৎপরতা, হুমকি, শতাধিক মাজারে মব চালিয়ে হামলা-ভাঙচুর-আগুন; মানুষকে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে লাশ পুড়িয়ে দেওয়া; কবর থেকে মরদেহ তুলে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো বীভৎস ঘটনার সাক্ষী হয়েছে দেশের মানুষ। যে কারণে জনমনে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল যে, একটি নির্বাচিত সরকার এলে ধর্মের নামে এই ধরনের তৎপরতা বন্ধ হবে। আবহমান বাংলার চিরায়ত লোকঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এবং মানুষের আনন্দ-বিনোদনের বিভিন্ন আয়োজনের ওপর মব সহিংসতা তথা সংখ্যাগুরুর মাস্তানি বন্ধ হবে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরে সালাহউদ্দিন আহমদ যখন মব সহিংসতার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ঘোষণা করলেন, তখন জনমনে এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছিল যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের এই দেশে আগের মতোই ওয়াজ-মাহফিল যেমন হবে, তেমনি বাউল গানের আসর, কনসার্ট, সিনেমা ও নাটকের প্রদর্শনী এবং নৌকাবাইচসহ সব ধরনের নির্মল বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানও চলবে। তাতে কেউ বাধা দেবে না বা বাধা দেওয়ার সাহস করবে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, একটি নির্বাচিত সরকারের আমলেও ‘তৌহিদী জনতা’র পরিচয়ে সমাজের উগ্র ও ধর্মান্ধ এবং ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তকারী গোষ্ঠি এখনো বেশ তৎপর। অবস্থা এমন হয়েছে যে, মানুষের নির্মল আনন্দ-বিনোদনের সবকিছুতেই তাদের আপত্তি। তাদের আপত্তি মাজারে, তাদের আপত্তি বাউল গানে, কনসার্টে, সিনেমায়, নাটকে; এমনকি বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকায়ও তাদের আপত্তি। তাদের আচরণে অনেক সময় মনে হয়, তারা বোধ হয় দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেয়েও বেশি শক্তিশালী। বরং অন্তর্বর্তী সরকারের যেহেতু কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা ছিল না, ফলে তারা চাইলে খুব সহজেই এই ধরনের সামাজিক বিভাজনমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পারত। কিন্তু তারা সেটা করেনি। বরং অসংখ্য ঘটনায় জনমনে এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে, সরকারের একটি অংশই হয়তো মব সহিংসতা উসকে দিয়েছে এবং ধর্মীয় উগ্রবাদের বিস্তারে সরাসরি সমর্থন দিয়েছে।
সাধারণ অর্থে ‘তৌহিদী জনতা’ বলতে একত্ববাদে বিশ্বাসী মুসলিম জনগোষ্ঠিকে বোঝানো হলেও, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পটপরিবর্তনের পর নির্দিষ্ট কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব ছাড়া একদল বিক্ষোভকারী বা মব বিভিন্ন স্থানে মাজার ভাঙচুর, বিনোদন অনুষ্ঠান বা নারীদের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার মতো শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করতে গিয়ে নিজেদের এই নামে পরিচয় দিচ্ছে। বাংলাদেশে তৌহিদী জনতার ব্যানারে এর আগেও নানারকম কর্মকাণ্ড চললেও অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে এদের তৎপরতা বেড়ে যায় বহুগুণ।
প্রশ্ন হলো, তৌহিদী জনতা কারা বা তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না? কেননা যখন একদল লোক নিজেদের তৌহিদী জনতা পরিচয় দিয়ে কোথাও আক্রমণ করে, মিছিল করে বা হুমকি দেয়, সেখানে সমাজের নানা স্তরের, নানা দলের ও নানা মতের মানুষ থাকে। তবে এদের পেছনে কোনো না কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ অবশ্যই থাকে—যারা মানুষকে উদ্বুদ্ধ এবং উত্তেজিত করে কোনো একটা ইস্যুতে রাস্তায় নামিয়ে আনে। অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে রাস্তায় নামা মানুষের একটি বড় অংশই ব্যক্তিজীবনে ধর্মকর্মের চর্চা করেন না; ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর ধারেকাছেও নেই। অসৎ পথে অর্থ উপার্জন, মানুষ ঠকানো এবং মিথ্যা বলার মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তারা নামছেন ইসলাম রক্ষার নামে। তাদের সমস্ত আপত্তি নারীর পোশাকে; তাদের আপত্তি গান-সিনেমা-নাটক, এমনকি নৌকাবাইচের মতো সর্বজনীন আয়োজনে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-দুর্নীতি বা সমাজে মিথ্যা ও প্রতারণার বিরুদ্ধে তাদের কোনো কণ্ঠস্বর নেই। বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুশিক্ষার্থীদের ওপর বলাৎকারের মতো যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে তৌহিদী জনতার ব্যানারে কখনো মিছিল হয়েছে বলে শোনা যায়নি। অনেক সময় ওয়াজ-মাহফিলে বিভিন্ন বক্তা যে মিথ্যা কথা বলেন, কোরান-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেন, যৌন সুরসুরি মার্কা বক্তব্য দেন, সাম্পদায়িক উসকানি দেন—এসবের বিরুদ্ধেও কথিত তৌহিদী জনতার কোনো আপত্তি নেই।
বরং তৌহিদী জনতা দাবি করা লোকজন নিজেদেরকে ইসলামের ধারক-বাহক ও রক্ষক মনে করে। নিজেদের চোখে যেটাকে খারাপ মনে করে, সেই কাজ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা আয়োজনের ওপর চড়াও হয়ে আঘাত করে। তারা রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থাকেও পাত্তা দেয় না; রাষ্ট্রের কোনো আইনকে তোয়াক্কা করে না। তারা মনে করে তাদের বিচারই ইসলামের বিচার। তারা যদি এই বিচার না করে, তাহলে দেশ ও সমাজ ইসলামবিমুখ হয়ে যাবে এবং দেশে ইসলাম বলে কিছু থাকবে না (সায়েমা খাতুন চিশতী, মননরেখা মাজার সংখ্যা, জুন ২০২৬)।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তৌহিদী জনতার উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় যখন দেশে-বিদেশে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলো, তখন জার্মানির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছিলেন, ইসলাম এসব কাজ সমর্থন করে না। তিনি বলেন, কাউকে ওড়না পরানো, বোরকা পরানো—এই ধরনের মোরাল পুলিশিংয়ের কাজ কেউ কাউকে দেয়নি। এটা তৌহিদী জনতার কাজ হতে পারে না। তার ভাষায়: “যারা ঈমানদার, যারা মুসলমান—তারা সবাই তৌহিদী জনতা। কিন্তু তৌহিদী জনতা শব্দটির অপব্যবহার ঠিক না। এটাকে ব্যানার হিসেবে ব্যবহার করে বিতর্কিত করা চরম নিম্নমানের কাজ” (ডয়েচে ভেলে, ০৬ মার্চ ২০২৫)।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশকে উগ্র ও মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা নতুন নয়। বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠি বহু বছর ধরেই ইসলামাইজেশনের নামে এই দেশের চিরায়ত সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও ধর্মীয় সহনশীলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে; নারীর অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চেয়েছে। বিভিন্ন বক্তা, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় অনেক আলোচকও নারীবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার।
অন্যদিকে বাংলাদেশে উগ্র ও জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে—এই বয়ান প্রতিষ্ঠা করতেও একটি পক্ষ তৎপর থাকে। এর পেছনেও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি আছে। এই ধরনের বয়ান প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী, উগ্র মৌলবাদী দেশ হিসেবে ট্যাগ দিয়ে এখানে বিদেশি বিনিয়োগ এবং বিদেশি পর্যটকদের আগমন ঠেকিয়ে দেওয়া যায়। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের এই নেতিবাচক চেহারাটি তুলে ধরা গেলে উন্নত ও নিরাপদ দেশগুলো বাংলাদেশের মানুষকে ভিসা দেবে না। অর্থাৎ একটি উদার, মধ্যপন্থী, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও সহনশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের যে ভাবমূর্তি ছিল, সেই পরিচয়ের বিপরীতে বাংলাদেশ যদি কট্টরপন্থী বা উগ্র ধর্মীয় দেশ হিসেবে পরিচিতি পায়—সেটি দেশের জন্য অনেক বড় বিপদ ডেকে আনবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সুতরাং তৌহিদী জনতার ব্যানারে যারা নৌকাবাইচ, গানের অনুষ্ঠান, মেয়েদের খেলা বন্ধ করে দেয় বা দিতে চায়—তারা সত্যিই এগুলো ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়নের নিয়তে করছে, নাকি না বুঝে কোনো গোষ্ঠির হয়ে কাজ করছে—সেটি ভাবা দরকার। নাকি তারা এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের দেমাগ দেখাচ্ছে—সেটিও একটি বড় প্রশ্ন।
যেমন চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের ওপর হামলা ও মন্দিরে ভাঙচুরের খবর আসে। এ সময় অনেক জায়গায় মন্দির পাহারা দেওয়ার উদ্যোগ নেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মন্দির পাহারা দেওয়ার ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আপাতদৃষ্টিতে এটি খুবই সুন্দর দৃশ্য যে, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী বা ইসলামবাদী দলগুলোর নেতা-কর্মীরা মন্দির পাহারা দিচ্ছেন। বাস্তবতা হলো, এই পাহারার মধ্যেও সংখ্যাগরিষ্ঠের দেমাগ আছে। কেননা যে দেশের সংবিধানের মূলনীতি ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ এবং যেখানে বলা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলেও হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করবে—সেখানে কোনো একটি ধর্মের উপাসনালয় বা তাদের মূর্তি কেন পাহারা দিয়ে রাখতে হবে, সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
এখানে আপনি সংখ্যাগুরু, তাই আপনার অনেক দেমাগ। কিন্তু সীমান্ত পার হলেই আপনি সংখ্যালঘু। এখানে আপনার এই দেমাগজনিত উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড সীমান্তের ওপারে থাকা সংখ্যালঘুদের জন্য যে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, সেটিও বিবেচনায় রাখা দরকার। মনে রাখতে হবে—সংখ্যাগুরুর দেমাগ আর সংখ্যালঘুর হীনমন্যতা আধুনিক পৃথিবীর সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক একটি ধারণা। ধর্ম ও লিঙ্গের ভিত্তিতে মানুষের পরিচয় নির্ণীত হলেও তার প্রথম পরিচয় সে মানুষ। মানুষের ধারণাটি যাদের মধ্যে নেই বা কম, তারাই সংখ্যাগুরুত্বের দেমাগ দেখায় এবং নিজেদেরকে ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয় দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র তাদের মতো করে চলবে বলে ঠিক করে নেয়। সেখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যে, সমাজে ধর্ম ও লিঙ্গের নামে, দল ও মতের নামে এই সব বিভাজনমূলক কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় দেবে নাকি প্রতিহত করবে? যদি প্রতিহত করতে না পারে, তাহলে সেই সমাজ ও রাষ্ট্রের গন্তব্য অন্ধকার।
আমীন আল রশীদ সাংবাদিক ও লেখক। ই-মেইল: aminalrasheed@gmail.com