Published : 21 Sep 2026, 01:33 AM
ঢাকার আশুলিয়ার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে নিহত সাতজনের একজন সবজি বিক্রেতা মো. নজরুল ইসলাম।
ওই ঘটনার সময় তিনি কারখানাটির পাশে ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করছিলেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় মধ্যবয়সি এ সবজি বিক্রেতাকে স্থানীয় একটি হাসপাতাল ঘুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলেও বাঁচানো যায়নি।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়ার শিমুলতলার প্রীতি গ্রুপের এফএনএফ কারখানায় এ বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজন হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও তিনজন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
আহতরা হলেন- মোখলেছুর রহমান (৪৫), তার ছেলে সুজন মিয়া (১৮) এবং নুরুল ইসলাম (৪০)। মোখলেছুর ও সুজন সবজি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
নুরুল ইসলাম ওই কারখানার গ্যাসের গাড়ির চালক। তিনি বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত নজরুলের ছেলে সামিউল বলেন, তাদের বাসা থেকে কারখানাটি দেখা যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জানালা দিয়ে কারখানায় আগুন দেখতে পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান।
“কারখানার পাশেই আমার বাবা ভ্যানগাড়িতে কাঁচামাল বিক্রি করতেন। সেখানে গিয়ে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। বাবাকে খুঁজে না পেয়ে জানতে পারি, আগুনে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।”
তিনি বলেন, আগুনের ফুলকি এসে তার বাবার মাথায় লাগে। প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নজরুলের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। তিনি পরিবার নিয়ে আশুলিয়ার জামগড়া শিমুলতলার মীরবাড়ি এলাকায় থাকতেন।
এদিকে এ ঘটনায় আহত নুরুল ইসলাম নামের আরেকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারা পরপর দুটি বিকট শব্দ শুনতে পান।
“প্রথমে ভেবেছিলাম কোথাও ককটেল বা বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। পরে নিচে নেমে দেখি পাশের কারখানায় আগুন জ্বলছে। সবাই বলাবলি করছিল, বয়লার বিস্ফোরণ হয়েছে।”
তার ভাষ্য, পরে কারখানার কাছে একজনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে মোটরসাইকেলে করে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসক তাকে ঢাকায় পাঠান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান চিকিৎসকদের বরাতে চারজনের আহত হওয়ার তথ্য দেন।
তিনি বলেন, আশুলিয়া থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নুরুল ইসলামের বাড়ি খুলনায়। মোখলেছুর রহমানের স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে। তারা আশুলিয়ার জামগড়া শিমুলতা এলাকায় থাকতেন।