Published : 19 Nov 2012, 02:00 PM

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড়ো অমীমাংসিত বিষয়টি ছিল যুদ্ধাপরাধীর বিচার। শেষ পর্যন্ত বিচার শুরু হয়েছে। বিচারটি এতোদিন না হওয়ার কারণে ক্ষতির পরিমাণও সীমাহীন। যদি আরো আগে হতে পারত তো আমরা জাতি হিসেবে মনস্তাত্তিক ও বৈষয়িক, উভয় দিক থেকেই, আরো অনেক অনেক উপরে থাকতে পারতাম। পাকবাহিনীর অতর্কিত হামলার মুখে অসংখ্য মানুষ প্রাণের ভয়ে প্রতিবেশি দেশে আশ্রয় খুঁজেছে, অহেতুক নিরস্ত্র নারী পুরুষ শিশু নিহত হয়েছে, অসংখ্য নারী ধর্ষিতা হয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়া হয়েছে। শান্তিকমিটি, আল বদর, আল শামস, রাজাকার নামে পরিচিত দলটি পাকবাহিনীর ডান হাতের কাজ করেছে। এরা সক্রিয়ভাবে যুদ্ধাপরাধের তালিকাভুক্ত সবকয়টি বিধি লংঘন করেছে। বাংলাদেশের মানুষদের বিরুদ্ধে র্নিমম নিষ্ঠুরতা করেছে, স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে।
আধুনিক গণতন্ত্র ও সভ্যতা ওল্ড টেষ্টামেন্টের "দাঁতের বদলে দাঁত, চোখের বদলে চোখ" নীতিকে র্বজন করেছে অনেক আগেই। নীতিটি বর্জিত হয়েছে বলেই, গ্রহণযোগ্য নয় বলেই, সভ্যতার দস্তরমাফিক যুদ্ধাপরাধের ও যুদ্ধাপরাধীর বিচারের ব্যবস্থা চালু হয় ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালসের মাধ্যমে। একইসঙ্গে এই ট্রায়ালস প্রতিষ্ঠা করে যে, অন্যায় করলে তার বিচার হতে হবে। কারণ, অহেতুক যে নারী, যে পুরুষটি, যে শিশুটি মারা গেল বা অন্যকোনভাবে লাঞ্ছিত হল, যে নারী ধর্ষিতা হল, বাড়িঘর ভেঙ্গেচুরে দেয়া হল, গ্রাম জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দেয়া হল-তার বিচার না করলে, দ্বিতীয় দফায় এই অরক্ষিতের প্রতি আরেকটি অন্যায় করা হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি পরিবার কোন না কোনভাবে অন্যায়ের শিকার হয়েছে। এতোগুলো দীর্ঘ বছর তাদেরকে ফেয়ারনেসের সহজাত অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়। সঠিক অর্থে, তাই বাংলাদেশের ইতিহাসের শুরুর অধ্যায়টির নিষ্পত্তি হতে পারেনি। ফলস্বরূপ, পরবর্তি অধ্যায়গুলোতে সহজ সঞ্চরণে কনটিনিউটির প্রতিষ্ঠাও ব্যাহত হয়। ন্যায় ও ন্যায্যতার মাধ্যমে অন্যায়ের সমাধান চাওয়ার দাবিকে অস্বীকার করার অর্থ নিষ্ঠুর ভয়াবহতার রাজনীতিকে মেনে নেয়া।
বিচার শুরুর আগেই যুদ্ধাপরাধের বিপক্ষে ও যুদ্ধাপরাধীর সাফাইয়ের পক্ষে প্রচুর কথার্বাতা হয়েছে, এবং অত্যন্ত দুঃখজনক ও শোকাবহ অভিজ্ঞতা যে তাকে বানচালের ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ও জেলে আটককৃত চার নেতার হত্যাকাণ্ড পরবর্তিকালে রাজনৈতিক প্রভুত্বের সূচনা করে। সেনাবাহিনীর মুষ্টিমেয় "বিপথগামী" অফিসার সশস্ত্রবাহিনীর র্সবাধিনায়ককে হত্যা করে আসে, তাঁর নিরস্ত্র পরিবারকে হত্যা করে; জেলের তালা ভেঙ্গে খুনকারাপি করে আসে! গণতস্ত্রের বিপথগামীতার সেই শুরু। স্বাধীনতার বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠীটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে পুনর্বাসিত হয়। যুদ্ধাপরাধের বিচার না করে, জনগণের মতামত না নিয়ে পুনর্বাসিত করা হয়। সেই থেকে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী আবারো তাদের ভয়াবহ বিষদাঁতের হিংস্রতার খেলা শুরু করে দেয়। তারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাজ করেছে, পুনর্বাসনের পরে তারা তাদের খেলা অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশে থাকে, কিন্তু বাংলাদেশকে স্বীকার করে না, তাই তারা অনায়াসে শাসনতন্ত্রকে পর্যন্ত তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার ধৃষ্টতা রাখে, ডাষ্টবিনে ফেলে দেয়ার হুমকি দেয়। কোন সভ্য দেশেই কিন্তু শাসনতন্ত্রকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার ধৃষ্টতা ও অবমানতাকে সহ্য করা হয় না।
বাংলাদেশের মানুষ যখন প্রথম বলার সুযোগ পেল, যুদ্ধাপরাধের ও যুদ্ধাপরাধীর বিচার চায় কিনা, তারা বিচারের পক্ষেই রায় দেয়। দেয়াটাই ছিল স্বাভাবিক; ন্যায্যতা, ফেয়ারনেস চাইবে না কেন? এতো আমাদের সবারই জন্মাধিকারের মধ্যে পড়ছে। যে পুরুষের স্ত্রী, স্ত্রী ও কন্যা চোখের সামনে লাঞ্ছিত হয়েছে, যে স্ত্রী তার স্বামীর অপেক্ষায়, যে কন্যা, পুত্র তার বাবার অপেক্ষায় থেকে থেকে আর ফিরে আসতে দেখেনি এবং হয়তোবা তারা এখনো গোপনে গোপনে ভাবে যে তাদের বাবা কি তার স্বামী বা স্ত্রী হয়তো জীবিত আছে, হয়তোবা কোন একদিন ফিরে আসতেও তো পারে! অলৌকিক ঘটনা কি ঘটে না?
যারা বিচারের পক্ষে রায় দিয়েছেন, তারা জানেন যে সব বিচারের মূলনীতি হল ন্যায্যতাকে রক্ষা করা; যুদ্ধাপরাধের ও যুদ্ধাপরাধীর বিচারের র্অথও ন্যায্যতাকে, ফেয়ারনেসকে স্বীকৃতি দেয়া ও প্রতিষ্ঠা করা। কারণ যদি প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসাই হত তবে "দাঁতের বদলে দাঁত, চোখের বদলে চোখ" নীতিকেই অনুসরণ করত তারা; তা তারা করেনি, তারা আধুনিক গণতন্ত্রের মূলনীতিকে ধরে রেখেছে। বরং বিচারের অপেক্ষায় ধৈয্যের দৃষ্টান্ত আবারো প্রতিষ্ঠা করেছে তারা।
প্রধান বিরোধী দল ও তার নেত্রী যখন বলেন, যুদ্ধাপরাধীর বিচার প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা নেয়ার বিচার, তারা যে সরাসরি জন ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠীর পক্ষে থাকছেন ও জনইচ্ছার তোয়াক্কাই করছেন না, তাই নয়, বরং সরাসরি জনইচ্ছার গায়ে 'প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার' লেবেল সেঁটে দিচ্ছেন। এবং লক্ষ্যণীয় যে তাদের সমগ্র চিন্তাভাবনা ও দুশ্চিন্তা বিবাদী পক্ষ তথা স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী-কেন্দ্রিক, বাদিপক্ষ তথা যুদ্ধের যারা ভিকটিম তাদের ব্যাপারে সহমর্মিতার কোন প্রকাশ নেই। বিচারবিহীনতার পক্ষে তাদের এই সংবেদনহীন মনোভঙ্গিকে স্রেফ দুঃখজনক বলা যায় না, বরং দেশ ও জাতির জন্য তা বিপজ্জনকও বটে। অবশেষে, যুদ্ধাপরাধ ও যুদ্ধাপরাধীর বিচারালয় নামক গণফোরামটি, এতো বছর বাদে হলেও, ভিকটিম জনগোষ্ঠীকে সেই নিষ্ঠুর, করুণ, র্নিমম অভিজ্ঞতার কথা বলার সুযোগ করে দিচ্ছে। যুদ্ধাপরাধী যখন আদালতের কাঠগড়ায়, মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বাদি'র র্বণনা শোনে, হতে পারে তা অপ্রিয় সত্য, হতে পারে অবিশ্বাস্য, কিন্তু এতো সত্য ও বাস্তব। একদিকে যেমন এই জাতীয় বিচারের সবচেয়ে বড়ো পাওনা হল যে ভিকটিমের দুঃখক্লেশ রাষ্ট্রীয় তথা জনস্বীকৃতি পাচ্ছে; অপরদিকে স্পষ্ট বলে দেয়া হচ্ছে যে দুষ্কৃতি করলে তার দায়দায়িত্ব ও উপযুক্ত শাস্তি নিতে হবে।
বিচারালয় ভিকটিমকে তার হারানো মনোবল, সহজাত সাহস, স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার প্রেরণা ফিরে পেতে সাহায্য করে। এইভাবে জাতীয় মানসিকতার ক্ষতিপূরণ হয়ে থাকে। স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠীকে র্বজন না করে বরং তাদের র্স্বাথ সংরক্ষণের কথা যে রাজনৈতিক দল বলে, এবং অবলীলায় জনর্স্বাথ ও জনরায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বাধে না, এমন দল আসলে তার রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। যে বা যারা স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীর বিচারকে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা বলে উক্তি করে, এবং ক্ষমতায় এলে বিচারব্যবস্থাটি বাতিল করে দেবে বলে ঘোষণা দেয়, তাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এমতাবস্থায় লক্ষ্যণীয় যে জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে জনগোষ্ঠীর ফেয়ারনেস পাওয়ার অধিকারকেই নাকচ করে দেয়ার কথা বলা হচ্ছে এখানে। ফলে, ভিকটিম, অরক্ষিত জনগোষ্ঠীর উপলব্ধিতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে অধিকার ও ন্যায্যতা, ফেয়ানেসের প্রশ্নে সততার ও র্নিভরযোগ্যতার ভরসা তাদের ওপরে করা চলে না। বরং ন্যায্যতা ও ফেয়ারনেসকে অকাল হত্যার হাত থেকে রক্ষা করার বাড়তি দায়িত্ব পালনে আমাদেরকে বাধ্য করা হচ্ছে।
প্রধান বিরোধী দলের মডুস অপারান্ডীর কিছু কিছু র্বণনা পাওয়া যায় জনকন্ঠের প্রথম পাতায় স্বদেশ রায়ের ও সম্পাদকীয় অংশে মুনতাসীর মামুনের যথাক্রমে ২২শে ও ২৩শে ফেব্রুয়ারি সংখ্যায়। তাঁদের র্বণনার সঙ্গে নাইকো প্রসঙ্গও যুক্ত হওয়ার দাবি রাখে। ২০০৫ সালে টেংরাটিলায় ও ফেনীর বিশাল এলাকা জুড়ে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজটি পাওয়ার জন্য ক্যানাডার নাইকো রিসোর্সেস লিমিটেড নামক এক কোম্পানি বাংলাদেশে যে র্দুনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল, তার তদন্ত করতে গিয়ে রয়েল ক্যানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ বেশ কিছু তথ্য উদ্ধার করে। তথ্যগুলো আমাদের অবমাননা ও অর্মযাদার পরিমাণ আকাশছোঁয়া করতে যথেষ্ট; জনাব টেন পার্সেন্ট, দেড় দুই লাখ ডলার মূল্যের গাড়ি উপহার পাওয়া, মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী পদর্মযাদার ব্যক্তিগত র্পযায়ে কোম্পানির প্রতিনিধিদের র্দশন মঞ্জুর, গ্যাস বিস্ফোরণের কারণে ক্ষতিগ্রস্থদের লোকসান মেটাতে টালবাহানাসহ পরিবেশের অপরিসীম ক্ষতিসাধন, গ্যাসের বিশাল ভান্ডারের জ্বলে পুড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি অনেক ওপেন সিক্রেট যর্থাথতার র্মযাদা পায়। ক্যানাডীয় বিচার বিভাগের রায় অনুযায়ী জরিমানার পয়সা গুনে ও তিন বছরের অবেক্ষণব্যবস্থা মেনে নিয়ে নাইকো তার পাপস্খলন করেছে বটে, কিন্তু বাংলাদেশ গ্যাংল্যান্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়। বাংলাদেশ ক্যানাডীয় বিচার বিভাগের আওতায় পড়ে না, তাই গ্যাংল্যান্ডের কলঙ্কের সুরাহা বাংলাদেশকেই করতে হবে। এই ধরণের বাণিজ্যিক সংস্কৃতিকে কি সর্মথন করা যায়? আত্মসমালোচনা ভাল অভ্যাস, না জেনেশুনে অন্যায় করার স্বীকারোক্তিও ভাল জিনিস; কিন্তু সেসবেরও বিচার হয়ে থাকে। রাজনৈতিক অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটিকে স্বীকার করতেই হবে।
তাই সেই দিনটি, যেই দিন প্রথম যুদ্ধাপরাধ ও যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরু হল, সেই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন করে। কারণ, দিনটি আমাদের রাজনৈতিক, র্আথ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে ন্যায্যতা ও ফেয়ারনেস প্রতিষ্ঠার সূচনা করে, রাজনৈতিক প্রভুত্বকে অস্বীকার করা হয়। ভিকটিম ও অরক্ষিত জনগোষ্ঠিকে প্রণালিবদ্ধভাবে বিচ্ছিন্নতাবোধ, পারস্পরিক বৈরিতা, অবাধ্যতার সংস্কৃতির দিকে ঠেলে দেয়ার অবসানের প্রথম আলোকবিন্দু যুদ্ধাপরাধ ও যুদ্ধাপরাধীর বিচার। অবশেষে জনগণ র্ভাসাস রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতার অভ্যাস প্রতিষ্ঠার সূচনা করে। সূচনা হয় যে কেবলমাত্র ক্ষমতাসীন দলকেই নয়, বিরোধীদল- সে যেই দলই হোক, তাকেও প্রতিশ্রুত হোমওর্য়াক করতে হবে। ভিকটিম ও অরক্ষিত জনগোষ্ঠির ন্যায্যতা ও ফেয়ারনেসের দাবিকে যথেচ্ছ লেবেল দিয়ে অবজ্ঞা যেন করা না হয়; মানতে হবে যে জনরায়কে চ্যালেঞ্জ করা আসলে রাজনৈতিক এথিক্স পরিপন্থী নীতির অন্তর্তগত।
২০০৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী যে র্অথনৈতিক মন্দা চলছে, তার রেশ ধরে চলছে শ্লথগতির র্অথনীতি, এবং বিশ্বায়িত ক্ষমতার রদবদলের ক্রান্তিকালে, সময়ের এই অনির্বায গতিময়তার যুগে, বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সর্বাধিক গুরুত্বর্পূণ দায়িত্ব হল জাতীয় র্স্বাথকে অগ্রাধিকার দেয়া, সম্মিলিতভাবে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করা। 'লাইন আপের' চিরাচরিত সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে সাহসী, অনাবৃত পদক্ষেপ নেয়ার সময় এখন। অন্তত পরবর্তি ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ বছরের সময়সীমায় আমাদের সমৃদ্ধির নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মুর্হূতে আমরা অবস্থান করছি।
তদুপরি, সভ্য দেশ মাত্রেই স্বাধীনতা বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীরা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনক্ষমতা কি রাজনৈতিক জীবন থেকে বহিস্কৃতই হয়ে থাকে। সভ্যদেশ হিসেবে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর এই দাবি অনেকদিনের এবং তা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। ক্ষমতার লড়াইয়ে স্বাধীনতার বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের 'পুর্নবাসন' কি কোন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির অ্যাজেন্ডা হতে পারে? নিগেশনের রাজনীতির পরিমাণ কমিয়ে মানুষের পজিটিভ গুণাবলীকে মূলধন করে রাজনীতি করলে ক্ষতি কি? বরং এই মুহূর্তে চিরকালের জন্য স্বাধীনতা বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ র্বজনই হবে উত্তম রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
নাদিরা মজুমদার: বিশ্লেষক, লেখক, সাংবাদিক।