Published : 09 Aug 2011, 10:47 PM

ঝলক ধানের মত অনেক হাইব্রিড ধানের আবাদ নষ্ট হওয়ার খবর মাঝে মাঝে ঝলক দেয় আমাদের গণমাধ্যমগুলোতে | তারপর হারিয়ে যায় বাম্পার ফলনের খবরের স্রোতে | এইসব খবর পত্রিকা পাঠক বা টিভির দর্শকরা এক ঝলক পরেন বা শোনেন | তারপর হন বিস্মৃত | সরকারও সাধারণত এই বিষয়ে নিষ্ক্রিয় থাকে | এর কারণ কী জিজ্ঞেস করলে একটা গৎবাঁধা উত্তর পাওয়া যায় সরকারের কাছে | উত্তরটি হলো এই ক্ষতি তো পুরো দেশের ধানের ফলনের এক শতাংশেরও নীচে | এটা নিয়ে এত লাফালাফির কী আছে | অর্থাৎ ক্ষতির পরিমাণ অনুপাতে এর গুরুত্ব এই দেশের জনগণের কাছে এত কম যে এটা নিয়ে কথা না বললেও চলে | জনগণ তো খাবার পাচ্ছেই | তাহলে আর চিন্তা কী ? এই বছরও বৈশাখের শুরুতে দেখা গেছে নোয়াখালী এলাকায় প্রায় ১৬৬৫ হেক্টর জমির মধ্যে ১১৩৭ হেক্টর জমির ঝলক ধান নষ্ট হয়েছে | গোপালগঞ্জ এলাকায় ৩৫০ হেক্টর জমির মধ্যে ৫০ হেক্টর জমির ঝলক ধান সম্পূর্ণভাবে এবং ১২০ হেক্টর জমির ধান আংশিকভাবে নষ্ট হয়েছে | এছাড়াও চলতি মৌসুমে সিলেট, ময়মনসিংহ, চুয়াডাঙ্গা, জামালপুর, নেত্রকোনা, কুমিল্লা অঞ্চলেও বিচ্ছিন্নভাবে ঝলক ধানের ফলনে বিপর্যয়ের খবর পাওয়া গেছে | এই পুরো বিপর্যয়ে ক্ষতি হয়েছে ১০ হাজারের ও বেশি কৃষকের | যদি দশ হাজার না হয়ে এক হাজার কৃষকও হতো বা দশ জন কৃষকও হতো তাতেও কী কৃষকের এই বিপর্যয়ের কারণ ও পরিণতিকে অস্বীকার করে সরকারের দায়মুক্তিকে মেনে নেয়া যায়?
ক্ষতির কারণ: বীজবাহিত রোগ না আবহাওয়া?
বীজ বিক্রেতা এনারজিপ্যাক এগ্র লিমিটেড ঝলক ধানের এই বিপর্যয়ের পিছনে প্রাথমিকভাবে কারণ হিশাবে দায়ী করেছিল আবহাওয়ার তারতম্যকে | বলা হয়েছিল উপকুলীয় অঞ্চলে ভোর রাতে শিশির পরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধান গাছ | আবার এটাও বলা হয়েছিল যে অতিরিক্ত সার ব্যাবহার ও প্রয়োজনীয় দূরত্ব না রেখে ধান গাছ লাগানোর কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে | সাধারণত এই প্রত্যেকটি কারণ যেকোনো বিপর্যয়ের পর শোনা যায় | প্রাথমিক গবেষণায় এই কারণগুলিকে দায়ী করা হলেও পরবর্তীতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা থেকে গণমাধ্যমগুলিতে প্রচার করা হয়েছে যে ঝলক ধানের বীজটি মূলত ২৫-২৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা সহনশীল। কিন্তু এ বছর বোরোর ভরা মৌসুমে দীর্ঘদিন ১৭ থেকে ২৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা ছিল | গবেষণা ফল অনুযায়ী মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ও হালকা বাতাসযুক্ত স্বল্প তাপমাত্রা ব্লাস্ট রোগ বিস্তারে সাহায্য করেছে। সাধারণভাবে দেখলে বিজ্ঞানীদের গবেষণার এই ফল গ্রহণযোগ্য মনে হতে পারে | কিন্তু একটু খতিয়ে দেখলে কয়েকটি বিষয় এখানে অমীমাংসিত ও অপরিপূর্ণ থেকে যায় |
প্রথমত প্রশ্ন করা যেতে পারে "তাপমাত্রার সহনশীলতার ব্যাপ্তি মাত্র ৪ ডিগ্রী অর্থাৎ ২৫-২৮ ডিগ্রীর মধ্যে হয় কী করে?" এক মাসের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই তো এর চাইতে বেশি তাপমাত্রা ওঠানামা করার কথা | দ্বিতীয়ত পাশাপাশি জমিতে যখন ঝলক, ব্রি ১৮, এবং হীরা একই সাথে হয় তখন ছত্রাক কেন শুধু ঝলকের ক্ষতি করে অথচ পাশের জমিতেই কেন ধানের বাম্পার ফলন হয় ? এর থেকে কী অনুমান করা যায় না যে ঝলকের রোগ বীজবাহিত? তৃতীয়ত, ঝলকের চাষ শুধু নোয়াখালীতে নয়, গোপালগঞ্জ, সিলেট, ময়মনসিংহ, চুয়াডাঙ্গা, জামালপুর, নেত্রকোনা, কুমিল্লা অঞ্চলেও হয় এবং এইসব অঞ্চলেও বিচ্ছিন্নভাবে ঝলক ধানের বিপর্যয়ের খবর পাওয়া গেছে | এই বিচ্ছিন্নভাবে হওয়া ক্ষতি থেকে কী ধারণা করা যায় না যে রোগটি বীজবাহিত? এবং এর দায় কৃষকের বা শুধু আবহাওয়ার নয় বরং যারা এই বীজ বাজারজাত করেছে তাদের এবং যারা এই বীজ বিক্রির অনুমতি দিয়েছে অর্থাৎ সরকারের? সব শেষে আরেকটি প্রশ্ন অমীমাংসিত থেকে যায় আর তা হলো ছত্রাকের আক্রমণ রোধ করতে ওষুধ ব্যবহারের পরও কোনো ফল কেন পাওয়া যায়নি? কৃষকেরা ছত্রাক আক্রমণের সাথে পরিচিত এবং এর প্রতিকারের উপায়ও তাদের অজানা নয়| কৃষি সম্প্রসারণ কর্মীদের উপদেশ নিয়ে কৃষকেরা রোগ প্রতিষেধক ব্যবহার করেও কেন ফল পেল না? সরকারের কি উচিত ছিল না এই প্রশ্নগুলির খোলাখুলি জবাবদিহিতা করা? এই সব অসামঞ্জস্যের জবাদিহিতা ছাড়া গবেষণার বিশ্বাসযোগ্যতাই বা কে নির্ধারণ করে?
ক্ষতিপূরণ: কৃষকদের ভাষ্য ও কোম্পানির দায়বদ্ধতা
মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাক্ষাত্কার নিয়ে জানা গেছে যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গবেষণা দল ধানের আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে কৃষকদের কাছ থেকে অথচ কৃষকদের কাছে গবেষণার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার করেনি| বেশিরভাগ কৃষক এখনো গবেষণার ফল সম্পর্কে অবহিত নন| যেই কৃষকেরা ফসলের মালিক, যারা এত বড় ক্ষতির বোঝা মাথায় বহন করছে, গবেষণার ফল তাদের দ্বার পর্যন্ত পৌঁছায়নি – তাহলে এই গবেষণা ফল আসলে কাদের জন্য? এই সব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া ঢালাওভাবে আবহাওয়াকে দায়ী করে কৃষকের দাবীকে উরিয়ে দেয়া কৃষকের প্রতি অন্যায় |
গত বছর যেই অঞ্চলগুলিতে একই ঝলক ধান লাগিয়ে বাম্পার ফলন হয়েছে সেই ধান এই বছর ব্যাপক আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে প্রবল অসন্তোষ দেখা দিয়েছে| এদিকে হাজার হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এর মধ্যে রাস্তায় নেমেছে, ক্ষতিপূরণ দাবী করে মানববন্ধন করেছে, চিটা ধান পুড়িয়ে জানিয়েছে বিক্ষোভ| কিন্তু তারপরও এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো জোরালো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার| ঝলক ধানের ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রথম দিকে বিব্রতকর অবস্থায় পরেছিল বীজ বিক্রেতা এনারজিপ্যাক| কিন্তু এখন বীজবিক্রেতারা ঝামেলাহীনই আছে | প্রথম দিকে খবরের কাগজের লোকদের দেখলে এগ্র লিমিটেড বলেছে কোম্পানির বীজের কারণে ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ তারা দিবে| কৃষকদের সাথে আলাপে জানা যায় বীজের প্যাকেট থেকে ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে ফোন করলে কোনো কৃষকের পরিচয় শুনলেই বীজ বিক্রেতা এনার্জিপ্যাক ফোন রেখে দেয়| কৃষকেরাও খরচের ভয়ে হানা দেয় না বীজ বিক্রেতা কোম্পানির দরজায়| কাজেই এনার্জিপ্যাক এগ্র লিমিটেড নিশ্চিন্তে আছে| এদিকে কৃষকেরা চরম দুঃখে কান্নাও ভুলে গেছে|
নোয়াখালীর এক কৃষক সর্বস্ব হারিয়ে হাসতে হাসতে বলছেন "মানব বন্ধন বদ্দরলোকের কাম| মানব বন্ধন কইরলে সরকার মনে করে হ্যাতাগো শীত লাগে, হেইজন্য রোদ পোয়ায়| মানব বন্ধন কইরা কাম নাই, রাস্তা অবরোদ কইরতে অইব|"
বীজের প্যাকেটের গায়ে লেখা আছে "সীমাবদ্ধতা- বিশ্বব্যাপী বীজ ব্যবসার প্রতিষ্ঠিত নিয়মানুযায়ী অ-মৌসুমে বীজ বপন কিংবা প্রাকৃতিক বা কৃত্রিমভাবে তৈরি অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, মাটির গঠন দুর্বলতায় কিংবা অন্য কোন অপ্রাকৃতিক ও অস্বাভাবিক অবস্থার কারণে বিক্রীত বীজের বর্ণিত গুনাগুন ও উৎপাদনশীলতার তারতম্যের ক্ষেত্রে কোন নিশ্চয়তা প্রদান করা সম্ভব নয়।"| অর্থাৎ গবেষণায় যদি দেখানো যায় যে ক্ষতির কারণ বীজবাহিত রোগ নয়, বরং আবহাওয়া, তাহলে কোম্পানি ক্ষতিপূরণ দিতে দায়বদ্ধ নয়| গবেষণার ফল সেই অর্থে কোম্পানির পক্ষেই যায়| কার সাধ্য আছে এই গবেষণাকে চ্যালেঞ্জ করে ?

প্রথমত কৃষকদের যেখানে জানানোই হয়নি যে গবেষণায় ফসল নষ্টের কারণ কী দেখানো হয়েছে সেখানে কৃষকের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কোনো গবেষণালব্ধ ফলের সত্যতা কীভাবে যাচাই করা সম্ভব? গবেষণা ফলে বলা হয়েছে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা| কিন্তু এই ব্লাস্ট রোগ যে বীজবাহিত হতে পারে সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য পত্রিকায় আসেনি| কৃষকদের মতে ব্লাস্ট রোগটি বীজবাহিত এবং এর যথেষ্ট প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে| কিন্তু এই বিষয়ে কৃষকদের কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য কোথাও প্রচার করা হয়নি| অর্থাৎ যেই কৃষক যুগ যুগ ধরে ফসল ফলাচ্ছেন, গবেষকের গবেষণার বিপরীতে সেই কৃষকের বক্তব্যকে এখানে গৌণ ধরা হয়েছে| এই অবস্থায় কোম্পানি যদি নিজেদের দায় মুক্ত মনে করেন কিন্তু কৃষক যদি সেই গবেষণা ফলকে গ্রহণ না করে তাহলে এই বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন আছে|
জাতীয় বীজ নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ ঢাকা, কুমিল্লা ও যশোর অঞ্চলে ঝলক ধানের বীজ বিক্রির নিবন্ধন দিলেও এই ধান নোয়াখালী ও লক্ষীপুরসহ সারা দেশে বিক্রি করা হয়| কৃষক বীজ কেনার আগে এই বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়নি| বরং অনেক জায়গায় শোনা গেছে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা অনেক ক্ষেত্রে নিজেরাই কৃষকদের এই বীজ কিনতে উদ্বুদ্ধ করেছে| শুধু তাই নয় কৃষকেরা জানিয়েছে যে অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে মহিলা মডেল দিয়ে বিজ্ঞাপন চিত্রায়িত করে লোকাল প্রাইভেট টিভি চ্যানেলে প্রচার করে কৃষকদের এই বীজ কিনতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে| প্যাকেটের গায়ে কোথাও লেখা নেই যে এই ধান শুধু ২৫-২৮ ডিগ্রী তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে, এর বাইরে পারে না| বীজ কেনার সময় কৃষকের অধিকার আছে তাপমাত্রা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা| না জানিয়ে বীজ বিক্রি করার অনুমতি যদি দিয়ে থাকে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি তাহলে এর দায় বহন করতে হবে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সিকেও| শুধু তাই নয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় বীজ-সার মনিটরিং কমিটিরও এই বিষয়ে দায়বদ্ধতা রয়েছে| শুধু গবেষণা ফলের উপর ভিত্তি করে দায় মুক্তির যেই কৌশল প্রচলিত আছে তা কৃষকবান্ধব নয়| বীজনীতিতে কৃষকবান্ধব শব্দটির মানে কী সেটা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং কৃষকের ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করার পদ্ধতি এবং কোম্পানির ক্ষতিপূরণের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে কৃষকের সম্মতি থাকতে হবে |
বীজনীতি: বীজ বাণিজ্যিকীকরণ ও সরকারের ভূমিকা
এবার দেখা যাক ঝলক ধান নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে বীজনীতিতে উল্লেখিত সরকারের ভূমিকা কতটুকু প্রাসঙ্গিক| প্রথমত কেউ যদি মনে করেন ঝলক ধানের বিপর্যয়ের বিষয়টি একটি বিছিন্ন ঘটনা তবে তার ভুল ভাঙার জন্য দেখতে হবে বীজনীতিতে কী আছে| বীজনীতি সম্পূর্ণভাবে বীজ বাণিজ্যিকীকরণের পক্ষে| বীজনীতি থেকে নেয়া নিম্নে উল্লেখিত কয়েকটি অংশ বাণিজ্যিকীকরণের পক্ষেই সরকারের অবস্থানকে পরিষ্কার করে|

ঝলক ধানের ঘটনাটি হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়| বীজের বানিজ্যিকীকরণ ও উদারীকরণ এই পরিণতিই দাবী করে| শুধু বাংলাদেশেই নয় বিশ্বের বহুদেশ বীজ বানিজ্যিকীকরণের মধ্যে দিয়ে এই পরিস্থিতির শিকার| ঝলক ধানের ঘটনাটি আমাদেরকে আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় যে এই বাণিজ্যিকীকরণের ফলে বীজ বিক্রেতা চড়া দামে বীজ বিক্রি করে লাভ করলেও ঝুঁকি গ্রহণ করতে হয় ক্ষুদ্র কৃষকদেরই | কখনো কখনো এধরনের বিপর্যয়ের পরে দেখা যায় আসল বীজ বিক্রেতার নাম দিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা নিম্ন মানের বীজ বিক্রি করে কৃষকের সীমাহীন ক্ষতি করে|
আমাদের দেশে এই ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করা বিষয়ে কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই| সিঞ্জেন্টার নামে টমেটো বীজ বিক্রি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভ করে কৃষকের ক্ষতি করলেও এর দায়ভার সিঞ্জেন্টাও নেয়নি, নেয়নি ব্যবসায়ীরাও| ব্যবসায় বাজারমুখী মনোভাব ও কর্তব্যহীন বিপনন ব্যাবস্থার দায় কাউকেই বইতে হয় না| বইতে হয় কৃষকদের|
আমাদের দেশে ঝলক ধানের ক্ষতি সর্বমোট উৎপাদিত ধানের তুলনায় সামান্য বলে এই বিষয়টির উপর যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না| কিন্তু এই ধানের ক্ষতি যদি আমাদের উৎপাদিত ধানের একটি বড় অংশ কখনো হয় তার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি কী আমাদের আছে? ঝলক ধানের ক্ষতির কারণ প্রকাশে গাফিলতি, ক্ষতিপূরণ নিয়ে মিথ্যা আশ্বাস, এবং বীজ বিক্রেতাদের উদাসীনতা এই সব কিছু আভাস দেয় যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বললেও এর বাস্তবায়ন কখনই হয় না| কখনো কখনো পরবর্তী বছরে বিনা মূল্যে বীজ বিতরণ করে এই ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে বীজ বিক্রেতারা| বাজারমুখি ব্যাবস্থায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই ধরনের মীমাংসা সরকার নিয়ন্ত্রিত হয় না বলে সব চাইতে ক্ষুদ্র ও দরিদ্র কৃষকেরা এর ফল ভোগ করে| আমরা চাই সরকার এই বীজ বিক্রেতাদের বাজারীকরণ, বিতরণ, ক্ষতিপূরণ আদায়, ও সর্বোপরি গুনগত মান নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করুক| অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিকীকরণ যেন আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত না করে সেই বিষয়ে জনগণকেও সোচ্চার হতে হবে|
যেই খাদ্য নিরাপত্তার অজুহাতে হাইব্রিড ধানের ফলনকে সরকার বাজারে বিপননের অনুমতি দিয়েছে, বীজের বাণিজ্যিকীরণের স্বার্থে বাজার উন্মুক্ত করে দিয়েছে, সেই একই অজুহাতে হলেও সরকারের কর্তব্য কৃষকের স্বার্থ নিশ্চিত করা| কিন্তু সরকার যদি এই বিষয়ে নির্বিকার থাকে এবং বাজার অর্থনীতির সংকট মুহূর্তে পরিত্রাণদাতার বদলে পরিব্রাজকের ভূমিকা পালন করে তাহলে এই উন্মুক্ত বীজের বাজারের ভয়াবহ পরিণতি একদিন না একদিন সরকারকেই বহন করতে হবে |