Published : 23 Aug 2026, 02:24 PM
২০২৬ সালের অগাস্টে যখন মহেশখালীর একটি এলএনজি টার্মিনালের আগুন গোটা শিল্পখাতকে থামিয়ে দেয়, তখন সংবাদমাধ্যমের বেশিরভাগ প্রতিবেদনই এই ঘটনাকে একটি দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। কিন্তু সংখ্যাগুলো ভিন্ন গল্প বলে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অগাস্ট ২০২৬-এর এক নীতি-সংলাপে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের অবশিষ্ট গ্যাস মজুত ২০৩১ সালের মধ্যেই নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে। ২০২০ অর্থবছর থেকে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ইতিমধ্যে প্রায় ২৮ শতাংশ কমেছে, আর আমদানি-নির্ভরতা বেড়েছে প্রায় ১৪৩ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ২৯ শতাংশ এসেছে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে। অর্থাৎ, অগাস্টের আগুন যা প্রকাশ করেছে তা একটি এককালীন দুর্ঘটনা নয়—এটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পুঞ্জীভূত হওয়া দুর্বলতার একটি লক্ষণমাত্র।
পাকিস্তান: সতর্কবার্তা হিসেবে একটি প্রতিবেশী দেশ
পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস হিসেবে কাজ করতে পারে। দেশটির জ্বালানি বিশ্লেষকরা সম্প্রতি খোলাখুলি লিখেছেন যে, বছরের পর বছর নীতিনির্ধারকরা গ্যাস সংকটকে নিছক সরবরাহের ঘাটতি হিসেবে দেখেছেন, অথচ প্রকৃত সমস্যা বাজার-কাঠামোর মধ্যে প্রোথিত। এসএনজিপিএল ও এসএসজিসি নামের দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা একচেটিয়াভাবে ক্রয়, বিক্রয়, সঞ্চালন ও ভর্তুকি—সবকিছু একসঙ্গে সামলায়। এ কাঠামোটি তৈরি হয়েছিল এমন এক সময়ের জন্য, যখন দেশীয় উৎপাদন বাড়ছিল ও গ্যাসের দাম ছিল তুলনামূলক সস্তা। উৎপাদন কমে যাওয়া ও আমদানি-নির্ভর আরএলএনজির যুগে এসেও সেই কাঠামো পাল্টায়নি। ফলে শিল্প খাত ক্রমেই পাইপলাইন গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ, কয়লা, বায়োমাস বা নিজস্ব জেনারেটরে সরে যাচ্ছে—যাকে বিশ্লেষকরা বলছেন ‘ডিমান্ড ডেসট্রাকশন’ বা চাহিদা-ধ্বংস। এটি একটি বিপজ্জনক দুষ্টচক্র: শিল্প যত বেশি গ্রিড ছেড়ে চলে যাবে, অবশিষ্ট গ্রাহকদের ওপর তত বেশি খরচের বোঝা চাপবে; যা আরও বেশি গ্রাহককে গ্রিড ছাড়তে উৎসাহিত করবে। বাংলাদেশেও নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্পাঞ্চলে ইতিমধ্যে ডিজেল জেনারেটরে স্থানান্তরের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটি ঠিক পাকিস্তানের প্যাটার্নের প্রাথমিক পর্যায়ের লক্ষণ হতে পারে, যা এখনই নজরে না নিলে বাংলাদেশও একই দুষ্টচক্রে প্রবেশ করতে পারে।
মিসর: কাঠামোগত সংস্কার কীভাবে উৎপাদন ফিরিয়ে আনে
মিসরের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা দেখায় যে, কাঠামোগত সংস্কার সম্ভব এবং তা ফলপ্রসূও হতে পারে। ২০২৩ সাল থেকে মিসরের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন প্রতি বছর কমছিল। জোহর গ্যাসক্ষেত্রে পানি প্রবেশের কারণে দেশটির প্রধান উৎসই দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মাসিক উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়। কিন্তু মিসরের সরকার একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোগত পদক্ষেপ নেয়। তারা আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর বকেয়া পাওনা পরিশোধে অগ্রাধিকার দেয়, যা বছরের পর বছর ধরে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগকে আটকে রেখেছিল। বকেয়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর আস্থা ফিরে আসে এবং ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই মিসরে একাধিক উল্লেখযোগ্য নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়—এনি পরিচালিত ডেনিস ওয়েস্ট (প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট মজুত, জোহরের পর মিসরের বৃহত্তম আবিষ্কার), নিদোকো এন-২ এবং আজিবা পেট্রোলিয়ামের সাউথ বোস্তান-১এক্স। বিশ্লেষকরা স্পষ্টভাবে বলছেন, বকেয়া পরিশোধের এই সিদ্ধান্তই নতুন অনুসন্ধান-উদ্যমের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি—নিছক ভূতাত্ত্বিক সৌভাগ্য নয়। একই সঙ্গে মিসর সাইপ্রাসের সঙ্গে যৌথভাবে আফ্রোদিতি গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে চুক্তি করেছে এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত বাড়তি ভাসমান টার্মিনাল ইজারা নেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা স্পষ্ট: আমদানি-নির্ভরতা কমাতে চাইলে শুধু নতুন টার্মিনাল বসালেই হবে না—অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বিনিয়োগকারীদের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি ও আর্থিক স্বচ্ছতা থাকা আবশ্যক, যা বাংলাদেশের বাপেক্সের ক্ষেত্রে বহু বছর ধরে অনুপস্থিত।
ইউরোপ: চাহিদা-ব্যবস্থাপনাও কাঠামোগত সংস্কারের অংশ
ইউরোপের ‘রিপাওয়ারইইউ’ (REPowerEU) পরিকল্পনা থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত শিক্ষা পাওয়া যায়, যা প্রায়শই আলোচনার বাইরে থেকে যায়। ইউরোপ শুধু সরবরাহ বৈচিত্র্যকরণের ওপরই মনোযোগ দেয়নি—তারা যৌথভাবে গ্যাস ক্রয়ের একটি সমন্বিত ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যাতে সদস্য দেশগুলো একে অপরের বিপরীতে প্রতিযোগিতা করে দাম না বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য চাহিদা-হ্রাস লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। ২০২২ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত বিগত পাঁচ বছরের গড় ব্যবহারের তুলনায় ১৫ শতাংশ ব্যবহার কমানোর অঙ্গীকার করে তারা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একটি সমীক্ষা সে সময় দেখিয়েছিল যে, জ্বালানি-নিবিড় শিল্পখাত—রাসায়নিক, সার, কাচ, ইস্পাত ও বস্ত্র—এই ব্যবহার-হ্রাসের সবচেয়ে বেশি ধকল বহন করবে। কারণ এই খাতগুলো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি এবং দাম বৃদ্ধির প্রতি অতি-সংবেদনশীল। লক্ষণীয়ভাবে, ঠিক একই খাতগুলো—ইস্পাত, কাচ, বস্ত্র, সার—বাংলাদেশের বর্তমান সংকটেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এর অর্থ হলো, বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের এখনই বুঝতে হবে যে জ্বালানি-নিবিড় রপ্তানি শিল্প কাঠামোগতভাবেই এই ধরনের সরবরাহ-শকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রে শুধু সরবরাহ বাড়িয়ে নয়; বরং শিল্প খাতের জ্বালানি-দক্ষতা বাড়িয়ে ও বিকল্প জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য এনে এই ঝুঁকি কমাতে হবে।
ভিয়েতনাম: পরিকল্পিত রূপান্তরের সম্ভাবনা
বাংলাদেশের বিপরীতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভিয়েতনাম একটি ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাসের সরবরাহ হ্রাসের মুখে ভিয়েতনাম তার জাতীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় (পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান) এলএনজি আমদানি ক্ষমতা সম্প্রসারণকে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের সঙ্গে একীভূত করে একটি দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে; যেখানে প্রতিটি নতুন টার্মিনাল বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন একটি সুনির্দিষ্ট চাহিদা-পূর্বাভাসের সঙ্গে যুক্ত। এই পরিকল্পিত দৃষ্টিভঙ্গির মূল শিক্ষা হলো—জ্বালানি অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বিক্ষিপ্ত ও সংকটের প্রতিক্রিয়া হিসেবে না করে একটি একক, দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে করলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে ও প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত হয়। বাংলাদেশে পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে নতুন টার্মিনাল স্থাপনের যে ঘোষণা এসেছে, তা যদি একটি সুসংহত জাতীয় জ্বালানি মহাপরিকল্পনার অংশ না হয়ে বিক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে থেকে যায়, তাহলে তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি করতে পারবে না।
বাংলাদেশের নীতিগত প্রতিক্রিয়া: প্রতিক্রিয়াশীল, সংস্কারবিমুখ
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের কাঠামোগত প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করলে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতিগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠে। পেট্রোবাংলার এলএনজি ভর্তুকি বাবদ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৬,০০০ কোটি টাকা, অথচ প্রকৃত প্রয়োজন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬,৬০০ কোটি টাকায়—প্রায় তিন গুণ বেশি। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই চাহিদা ৫০,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ধরনের বাজেট-বহির্ভূত ভর্তুকি বৃদ্ধি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাত—স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা—থেকে সম্পদ সরিয়ে নিতে বাধ্য করে। অথচ এই ভর্তুকির সিংহভাগ ব্যয় হচ্ছে স্পট মার্কেট থেকে জরুরি ভিত্তিতে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনায়, দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সমস্যা সমাধানে নয়। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর কোনো দৃশ্যমান পরিকল্পনা এখনো ঘোষিত হয়নি। অথচ জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বহুবার সতর্ক করেছেন যে, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল উন্নয়নে বিনিয়োগ ছাড়া এই সংকট বারবার ফিরে আসবে। নতুন শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তটিও একটি বাজারভিত্তিক সংস্কারের বদলে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা মাত্র। এটি চাহিদা কমায় ঠিকই, কিন্তু বিনিয়োগ-অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে শিল্পায়নের গতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।
মধ্যমেয়াদি সংস্কার-এজেন্ডা
প্রথমত, মিসরের মডেল অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান কোম্পানিগুলোর কাছে বাংলাদেশের বকেয়া দ্রুত নিষ্পত্তি করে এবং অনুসন্ধান-চুক্তির শর্তাবলি আন্তর্জাতিক মানে প্রতিযোগিতামূলক করে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পেট্রোবাংলার একচেটিয়া ক্রয়-বিক্রয়-সঞ্চালন কাঠামোর সংস্কার নিয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনা শুরু করা উচিত, যাতে মূল্য ও ভর্তুকি-ব্যবস্থাপনা রাজনৈতিক চাপমুক্ত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা-ভিত্তিক হতে পারে। তৃতীয়ত, স্পট মার্কেটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে বহুমুখী দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি— শুধু কাতারের ওপর নির্ভর না করে একাধিক উৎস থেকে— অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্গঠন করতে হবে। চতুর্থত, ইউরোপের অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে জ্বালানি-নিবিড় রপ্তানি শিল্পের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট জ্বালানি-দক্ষতা ও বৈচিত্র্যকরণ কর্মসূচি চালু করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে সরবরাহ-শকের সময় এই খাতগুলোর ঝুঁকি কমে। পঞ্চমত, ভর্তুকি ব্যবস্থাপনাকে বাজেট-বহির্ভূত জরুরি বরাদ্দনির্ভরতা থেকে সরিয়ে একটি স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য মধ্যমেয়াদি রাজস্ব কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে, যাতে প্রতি প্রান্তিকে অপ্রত্যাশিত বাজেট-সংকট তৈরি না হয়।
সময়ের হিসাব: ২০৩১ সাল
সিপিডি-র বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের অবশিষ্ট গ্যাসের মজুত ২০৩১ সালের মধ্যেই তলানিতে ঠেকতে পারে। অথচ সরকারঘোষিত নতুন এফএসআরইউ (FSRU) সম্প্রসারণ পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা ২০২৯ সাল—অর্থাৎ মজুত-সংকটের মাত্র দুই বছর আগে। তাও যদি নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত হয়, যা বাংলাদেশের অবকাঠামো প্রকল্পের ঐতিহাসিক বাস্তবায়ন-হার বিবেচনায় নিশ্চিত নয়। মিসরের বকেয়া-পরিশোধ থেকে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার পর্যন্ত সময় লেগেছিল প্রায় দুই থেকে তিন বছর। বাংলাদেশ যদি অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত আজই নেয়, তাহলেও ফলাফল আসতে ২০৩০ সালের কাছাকাছি সময় লেগে যেতে পারে। এই সময়ের চাপ বিবেচনা করলে, কাঠামোগত সংস্কারের সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করার আর কোনো অবকাশ নেই।
দুর্ঘটনা নয়, পছন্দের ফল
মহেশখালীর টার্মিনালে আগুন লাগাটা দুর্ঘটনা হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশ যে এই দুর্ঘটনায় এতটা বিপর্যস্ত হলো, তা দুর্ঘটনা নয়—এটি এক দশকের নীতিগত ব্যর্থতার ফল। মিসর দেখিয়েছে কাঠামোগত সংস্কার সম্ভব ও ফলপ্রসূ; পাকিস্তান দেখিয়েছে সংস্কার বিলম্বিত করলে কী ধরনের দুষ্টচক্রে পড়তে হয়; আর ইউরোপ দেখিয়েছে সরবরাহ ও চাহিদা—উভয় দিক থেকেই কাঠামোগত পরিকল্পনা প্রয়োজন। বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে—হয় এই সংকটকে সত্যিকারের কাঠামোগত সংস্কারের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করবে, নতুবা দীর্ঘমেয়াদে গভীর জ্বালানি সংকটের দেশে পরিণত হবে। এতে দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলার স্থিতিশীলতাও বিনষ্ট হবে।
এম এম মুসা উন্নয়নকর্মী ও গবেষক। ই-মেইল: musamiah@gmail.com