Published : 02 Sep 2026, 06:36 PM
তদন্ত প্রতিবেদন পেশের তারিখ পেছানোর সেঞ্চুরি পেরিয়ে একশো তিরিশের কোঠায়—সাগর-রুনি হত্যা মামলা যেন বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে অন্তহীন অপেক্ষার নামে পরিণত হতে যাচ্ছে। দেড় দশক ধরে পুলিশ, ডিবি, র্যাব ও টাস্কফোর্সের হাত বদল হলেও মিলেনি কুলকিনারা। দীর্ঘ এই বিচারহীনতার স্থবিরতায় হঠাৎই হাওয়া দিয়েছে এক ‘সিডিআর’ আর রাজনৈতিকভাবে আলোচিত এক অভিনেত্রীর নাম প্রচারের মধ্য দিয়ে।
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার সময় এ পর্যন্ত ১২৯ বার পিছানো হয়েছে। সবশেষ তারিখ ছিল গত ২৭ অগাস্ট। সেদিনও আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি তদন্তকারীরা। নতুন তারিখ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। বস্তুত প্রতিবারই এভাবে এক-দেড় মাস করে তারিখ পিছানো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ৩০ সেপ্টেম্বরও হয়তো নতুন তারিখ দেওয়া হবে।
গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব র্যাব থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এরপর গত বছরের অক্টোবরে টাস্কফোর্স গঠন করে সরকার। চার সদস্যের এই টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক হন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান।
তবে সবশেষ তারিখে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়লেও একটি নতুন বিতর্ক সামনে এসেছে। বলা ভালো, মামলার তদন্তে একটি নাটকীয় মোড়ের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কেননা সম্প্রতি এই হত্যাকাণ্ডে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের জড়িত থাকার সূত্র পাওয়ার দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ‘কল ডিটেইল রেকর্ড—সিডিআর’ পর্যালোচনায় ওই সূত্র পাওয়া গেছে। আমিনুল ইসলাম ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ না করলেও কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম কথিত সূত্রের বরাত দিয়ে অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর নাম প্রকাশ করেছে। যদিও সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোনো সাংস্কৃতিক কর্মীর নাম নিয়ে অনুমান না করার আহ্বান জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর একজন সাংস্কৃতিক কর্মীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে কিছু প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা বলেছেন। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে অনুমান করে কারও নাম বলা ঠিক হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্র তদন্ত করবে। আনুষ্ঠানিকভাবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ বা চার্জ আনা হলে তখন তার নাম প্রকাশ্যে আসবে।’
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও তার স্ত্রী, এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু সেই সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে রোকেয়া প্রাচীকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তেমন সক্রিয় কোনো চরিত্র হিসেবে দেখা যায়নি। তখন তিনি ছিলেন পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হওয়া আসিফ নজরুলের স্ত্রী। ২০১৩ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।
এর এক বছর পর, ২০১৪ সালে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চাওয়ার মধ্য দিয়ে রোকেয়া প্রাচীর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দৃশ্যমান সম্পৃক্ততা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি দলটির রাজনীতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি এমন কোনো প্রভাবশালী মুখ ছিলেন না।
তবে ৫ অগাস্টের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ১৪ অগাস্ট সকালে সেখানে অবস্থান নেন রোকেয়া প্রাচী। পরদিন ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী। সেই প্রেক্ষাপটে তার অবস্থান ও প্রদীপ প্রজ্বলনের কর্মসূচি তাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে।
রোকেয়া প্রাচীর এই অবস্থানকে কেউ আওয়ামী লীগের প্রতি রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রকাশ হিসেবে দেখতে পারেন। কেউ বলতে পারেন, নিষিদ্ধ বা কার্যক্রম-নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে জনসমর্থন তৈরির চেষ্টা করছেন তিনি। এসব রাজনৈতিক মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক অবস্থান আর হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রশ্ন।
সাগর-রুনি মামলায় কারও নাম কোনো কল রেকর্ড বা সিডিআরে এসেছে—এমন তথ্য যদি তদন্তকারীদের হাতে থাকে, সেটি অবশ্যই যাচাই করার মতো বিষয়। কিন্তু একটি ফোনকলের অস্তিত্ব অপরাধের প্রমাণ নয়। তদন্তে জানতে হবে, কলটি কখন হয়েছে, কতক্ষণ কথা হয়েছে, কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, সেই যোগাযোগের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সময় ও ঘটনার কোনো বাস্তব সম্পর্ক রয়েছে কি না। আরও বড় প্রশ্ন—সেই যোগাযোগের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অন্য প্রমাণগুলোর কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যাচ্ছে কি না।
একটি সিডিআর তদন্তের দরজা খুলতে পারে; কিন্তু সেটি তদন্তের শেষ কথা হতে পারে না। অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কেবল সিডিআরের কোনো তথ্যের ভিত্তিতে কারোর নাম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হলে তদন্তের মূল লক্ষ্য আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাতে প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত হওয়ার বদলে তদন্ত নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের ঘূর্ণিতে আটকে যেতে পারে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিচারহীন থাকা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে সেটি হবে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি।
প্রথমে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন পুলিশের একজন এসআই। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার হস্তান্তর করা হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হলে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় র্যাবের কাছে। তারাও এই ঘটনার কোনো কূল-কিনারা করতে পারেনি। অবশেষে গঠন করা হলো টাস্কফোর্স। প্রশ্ন হলো, কী এমন রহস্য লুকিয়ে আছে যে, পুলিশ-ডিবি-র্যাব-পিবিআই সবাই ব্যর্থ হচ্ছে এই হত্যার জট খুলতে?
প্রশ্ন হলো, কীসের ভিত্তিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন যে, ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে’? এমনকি পুলিশ কর্মকর্তারাও তখন বলেছিলেন যে তারা ক্লু খুঁজে পেয়েছেন; তদন্তে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রশ্ন হলো, তারা কি বুঝেশুনেই কথাগুলো বলেছিলেন কিংবা তাদের কাছে কি আসলেই কোনো তথ্য ছিল, নাকি কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তারা এসব বলেছিলেন? সাড়ে ১৪ বছরেও যে একটি হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা গেল না এবং একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে যে ১২৯ বার সময় নেওয়া হলো—এটি কি আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর ব্যর্থতা, অদক্ষতা, নাকি রাষ্ট্র নিজেই চায়নি এর রহস্য উন্মোচিত হোক? নাকি এই হত্যার পেছনে এমন কোনো শক্তি জড়িত, খোদ সরকারও যাদের ঘাটাতে চায় না বা সরকার যাদেরকে বিব্রত করতে চায় না?
যদি তাই হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের পতনের পরে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরেও কেন এই হত্যা মামলায় কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলো না? নির্বাচিত বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পরে যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একজন সংস্কৃতিকর্মীর যোগসাজশ থাকতে পারে বলে বলা হচ্ছে, সেটিই বা কতটা বিশ্বাসযোগ্য বা মানুষ কি এটা বিশ্বাস করছে বা করবে? নাকি এটিকেও আরেকটি ‘নাটক’ বলে মনে করবে?
কেননা এই হত্যা মামলার সঙ্গে আরও একাধিক ব্যক্তি, বিশেষ করে কোনো কোনো সাংবাদিককে জড়ানো হতে পারে—এমন গুঞ্জনও চাউর হয়েছে। তার মানে আগের মতোই যেকোনো ঘটনার সঙ্গে বিরোধীদলীয় বা ভিন্নমতের মানুষদেরকে জড়িয়ে ফাঁসানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে? নাকি সত্যিই এবার যাদের নাম আসছে বা আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তারাই সাগর-রুনির হত্যার মূল হোতা?
এই হত্যা রহস্যের জট না খোলার পেছনে একটি বড় কারণ ঘটনা নিয়ে শুরু থেকেই সৃষ্টি হওয়া নানা রকম গুজব ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। প্রথম দিকে নানা রকম গালগল্প সংবাদপত্রেও এসেছে।
সম্প্রতি চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্যের সূত্র ধরে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে সামরিক এক কর্মকর্তার নির্দেশে তার একজন সহকারী দুটি সিডি সংগ্রহ করেছিলেন। তবে ওই দুটি সিডিতে ঠিক কী ধরনের তথ্য বা নথি ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তকারীদের ধারণা, সিডিগুলোতে তৎকালীন বিডিআর হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, ডকুমেন্টারি বা নথি থাকতে পারে। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই সিডির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও এখন যাচাই করা হচ্ছে।
একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লেখাটা শেষ করা যাক। ঘটনার বছর কয়েক পরে অপরাধ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে রিপোর্ট করেছেন এমন একজন সাংবাদিককে প্রশ্ন করেছিলাম, কেন সাগর-রুনি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা যাচ্ছে না? আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর বক্তব্যের বাইরে এরকম একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সাংবাদিকের নিজের অনুসন্ধান কোথায়? এ পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো সংবাদমাধ্যম নিজস্ব অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে এমন কোনো প্রতিবেদন করতে পেরেছে, যা একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে বা বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে এবং সেই সূত্র ধরে গোয়েন্দারাও নড়েচড়ে বসেছেন? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বয়ানের বাইরে আমাদের অপরাধ সাংবাদিকদের নিজস্ব অনুসন্ধানের সক্ষমতাই বা কতটুকু? সাগর-রুনি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনী ব্যর্থ হলেও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাও কি এখানে হার মেনেছে?
জবাবে ওই সাংবাদিক বলেছিলেন, ‘ধরুন গোয়েন্দারা তদন্তে পেল যে, সাগর-রুনিকে ডাকাতরা খুন করেছে, তাহলে সেটি কি আপনি মানবেন? বা তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি সেই রিপোর্ট প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ কি সেটি মেনে নেবে? অর্থাৎ এ ঘটনায় এমন একটা পাবলিক পারসেপশন তৈরি হয়েছে যে, এর বিপরীত কোনো তথ্য তদন্তে বের হলেও হয়তো তদন্তকারীরা সেটি টেকনিক্যাল কারণে প্রকাশ করতে পারছেন না।’ তার এই কথাটিও হয়তো যৌক্তিক। কেননা শুরু থেকেই এই হত্যা নিয়ে এমন সব ধারণা সামনে এসেছে বা আনা হয়েছে, যার বাইরে নতুন কোনো ফাইন্ডিং মানুষ বিশ্বাস করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আবার হত্যাকাণ্ডের পরে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোও মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কিন্তু মানুষের ধারণা বা বিশ্বাস যাই হোক না কেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে সঠিক, নির্মোহ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত করে সঠিক তথ্যটি মানুষকে জানানো এবং আদালতে সেই অনুযায়ী প্রতিবেদন দেওয়া। বিচারে কাউকে খুশি বা বেজার করা রাষ্ট্র ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব নয়।
আমীন আল রশীদ সাংবাদিক ও লেখক। ই-মেইল: aminalrasheed@gmail.com