Published : 07 Mar 2026, 05:01 PM
প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কার কাছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনীর একটি জাহাজকে ডুবিয়ে দেওয়ার পর ওইদিনই মানবিক কারণে ভারত আরেকটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে তাদের বন্দরে নোঙরের অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর।
তেহরানের দিক থেকে আসা এক জরুরি অনুরোধের প্রেক্ষিতে বুধবার ইরানি নৌযান লাভানকে ভারতের দক্ষিণের বন্দর কোচিতে নোঙরের অনুমতি দেওয়া হয় বলে ভারত সরকারের একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে।
সেদিনই মার্কিন সাবমেরিন শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি নৌবাহিনীর ফ্রিগেট দেনা-কে ডুবিয়ে দেয়। এ ঘটনায় অন্তত ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে সাড়া দিয়ে শেষ পর্যন্ত ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যেসব লক্ষ্য ঠিক করেছেন, তার মধ্যে ইরানের নৌবাহিনীকে গুড়িয়ে দেওয়ার কথাও আছে।
লাভান একটি উভচর অবতরণকারী নৌযান, বলছে মার্কিন নৌ ইনস্টিটিউটের অনলাইন সংবাদমাধ্যম।
আরও দুটি জাহাজের সঙ্গে এ নৌযানটিও ‘একটি নৌ-মহড়ায় অংশ নিতে এসেছিল, এরপর তারা এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদে পড়ে যায়,” বার্ষিক রাইসিনা সংলাপ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন জয়শঙ্কর।
“আইনি ব্যাপার যা-ই থাকুক না কেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা ব্যাপারটা দেখেছি বলেই আমার মনে হয়। আমি মনে করি, আমরা ঠিক কাজটাই করেছি,” বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ইরান যুদ্ধ শুরুর দিন ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই ভারত লাভানকে নোঙর করতে দেওয়ার অনুরোধ পায়, শুক্রবার রাতে এমনটাই বলেছে ভারতীয় ওই সূত্রটি।
তার ভাষ্যে, “কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় ওই জরুরি অনুরোধ করা হয়েছিল।”
কোচির একটি নৌ স্থাপনায় ওই ১৮৩ ক্রু’কে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্ত দেওয়া ওই সূত্র।
ভারত আয়োজিত এক নৌ মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথে আইআরআইএস দেনা ভারত মহাসাগরে মার্কিন ডুবোজাহাজের হামলার শিকার হয়।
শুক্রবার শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা আরেকটি ইরানে নৌযান বুশেহরকে তাদের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের পোতাশ্রয়ে নিয়ে গেছে, এবং নৌযানটির বেশিরভাগ ক্রু’কে কলম্বোর কাছে একটি নৌ শিবিরে রাখা হয়েছে।
ইরানি নাবিকদের দেশে ফেরত না পাঠাতে শ্রীলঙ্কাকে চাপ যুক্তরাষ্ট্রের