বিজেপি নেতার হুমকিতে রাতারাতি নতুন চেহারায় কর্নাটকের বাসস্টপ

কর্নাটকের বাসস্টপটির ছাদে আগে তিনটি গম্বুজ ছিল। সংস্কারের পর এখন একটি গম্বুজ রাখা হয়েছে। পাল্টে ফেলা হয়েছে রঙও।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 Nov 2022, 01:51 PM
Updated : 27 Nov 2022, 01:51 PM

ভারতের কর্নাটক রাজ্যে একটি মহাসড়কের পাশে বানানো একটি বাসস্টপ দেখতে ‘মসজিদের মত লাগছে’ অভিযোগ তুলে সেটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক এমপি। তার হুমকিতে রাতারাতি পাল্টে ফেলা হয় বাসস্টপের চেহারা।

এনডিটিভি জানায়, বাসস্টপের ছাদে আগে তিনটি গম্বুজ ছিল। পুরাতন নকশায় একটি বড় গম্বুজের দুই পাশে দুইটি ছোট গম্বুজ ছিল। সংস্কারের পর এখন শুধু মাঝের গম্বুজটি আছে। দুই পাশের দুই ছোট গম্বুজ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। গম্বুজের সোনালী রঙ পাল্টে এখন মেরুন রঙ করা হয়েছে।

কেরালা রাজ্যের সীমান্তবর্তী কর্নাটকের মহীশূর শহরের কাছের একটি মহাসড়কে অবস্থিত ওই বাসস্টপটি বানিয়েছেন স্থানীয় বিধান সভার সদস্য (এমএলএ) বিজেপি নেতা রাম দাস।

রাম দাসের দাবি, মহীশূরের একটি প্রাসাদের অবয়বের আদলে তিনি এটি তৈরি করেছিলেন।

কিন্তু বিজেপি নেতা প্রতাপ সিমহার সেটি পছন্দ হয়নি। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, প্রতাপ ওই বাসস্টপটি ভেঙে ফেলার জন্য ‘কয়েকদিন’ সময় বেঁধে দেন। এবং হুমকি দিয়ে বলেন, যদি সেটি ভেঙে ফেলা না হয় তবে তিনি নিজে বুলডোজার দিয়ে সেটি ‘গুঁড়িয়ে দেবেন’।

এক টুইটে প্রতাপ বলেন, ‘‘আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাসস্টপটির ছবি দেখেছি। সেটির তিনটি গম্বুজ আছে। বড়টি মাঝে ও বাকি দুটো দুইপাশে। এটা একটি মসজিদ।

‘‘আমি প্রকৌশলীদের তিন থেকে চারদিনের মধ্যে এটা ভেঙে ফেলতে বলেছি। যদি না ভাঙা হয় তাহলে বুলডোজার দিয়ে সেটা আমিই গুঁড়িয়ে দেব।”

প্রতাপের এই বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিরোধীদলের অনেক নেতা তার বক্তব্যকে ‘বিভেদ সৃষ্টিকারী’ বলে সমালোচনা করেন।

রাম দাসও শুরুতে তার দলের সতীর্থ এমন কথা বলেননি বলে দাবি করেন। তবে তিনি দ্রুতই বাসস্টপটির নকশায় পরিবর্তন আনেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ করে তিনি একটি খোলা চিঠিও লেখেন। যেখানে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, মহীশূরের ঐতিহ্য মাথায় রেখে তিনি এটা বানিয়েছিলেন।

“কিন্তু এটি নিয়ে বিভেদ তৈরি হওয়ায় দুটি গম্বুজ সরাতে বলেছি। এতে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখিত।”

ভারতের হাইওয়ে কর্তৃপক্ষও প্রতাপের টুইটকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বাসস্টপটিকে ‘বিতর্কিত’ আখ্যা দেয় এবং মহীশূর নগর কর্তৃপক্ষ ও কর্নাটক রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্টকে সেটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়।

ওই নির্দেশে ভেঙে ফেলার জন্য এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেয়। নতুবা আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের কথা উল্লেখ করে।

বাসস্টপটি নতুন চেহারা পাওয়ার পর রোববার প্রতাপ সেটির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং রাম দাসকে ধন্যবাদ জানান বলেও জানায় এনডিটিভি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক