১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

তলবে তলবে জেরবার তৃণমূল সম্পাদক অভিষেক

সোমবার ইডির জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গলবার তাকে সিআইডির মুখোমুখি হতে হবে।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Jun 2026, 01:43 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:24 PM

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়া তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার হাজিরা দিলেন প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায়।

স্থানীয় সময় সোমবার বেলা ১১টার আগে কলকাতার সল্টলেকে তদন্ত সংস্থা ইডির দপ্তরে তিনি হাজির হন।

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে অভিষেকের কোম্পানি লিপস অ্যান্ড বাউন্সের নাম উঠে আসে। এ কোম্পানির সঙ্গে লেনদেন সম্পর্কিত বেশ কিছু তথ্য পাওয়ার পর অভিষেককে তলব করা হয়। তৃণমূল সাধারণ সম্পাদককে এ মামলায় এর আগেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

আনন্দবাজার লিখেছে, এদিন অভিষেকের হাজিরা নিয়ে ইডি দপ্তর সিজিও কমপ্লেক্সে বাড়তি কোনো নিরাপত্তা দেখা যায়নি। আগে অভিষেক এ ভবনে এলে বাড়তি সতর্কতা থাকত গোটা চত্বরে, সাংবাদিকদের প্রবেশেও কড়াকড়ি করা হত।

দেড় দশকের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে হটিয়ে গত মাসে প্রথমবার সরকার গঠন করে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। এর মধ্যে তুমুল চাপের মুখে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। 

দলটিতে তৈরি হয়েছে ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠী। তারা দাবি করেছেন, তারাই আসল তৃণমূল। আর তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তারা পরামর্শদাতা হিসাবে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন।

এর মধ্যে বিধানসভায় সই জাল-কাণ্ডে রোববার সিআইডির মুখোমুখি হতে হয়েছে অভিষেককে। সেদিন তাকে সাড়ে ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর সোমবার সকালে তিনি হাজিরা দিলেন ইডি দপ্তরে। 

মঙ্গলবারও অভিষেককে তলব করেছে সিআইডি। এক মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া সাইবার অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

গত শুক্রবার বিকালে অভিষেকের বাড়িতে গিয়ে এ সংক্রান্ত নোটিস ধরিয়ে দেয় সিআইডির একটি দল। ওইদিনই গভীররাতে অভিষেকের বাড়িতে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালায় পুলিশ। 

আর্থিক কেলেঙ্কারির এক মামলায় তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) সুমিত রায়কে ধরতে এ অভিযান পরিচালনার কথা পরে খবরে প্রকাশ পায়।

আর সই-কাণ্ড বিতর্কের সূত্রপাত্র ঘটে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করে স্পিকারকে দেওয়া তৃণমূলের চিঠিকে কেন্দ্র করে। 

দলটির বেশ কয়েকজন বিধায়ক দাবি করেন, তারা সই না করলেও চিঠিতে তাদের নাম রয়েছে। কারও কারও নাম আবার লেখা হয়েছে ব্লক লেটারে। তৃণমূল পরে বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করে।

ঘটনাক্রমে তৃণমূলের পরিষদীয় দল ভেঙে যায়; বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই।