Published : 18 May 2026, 05:21 PM
ভবিষ্যতের গণমাধ্যম নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের চার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও যোগাযোগ বিভাগের ৩২ নারী শিক্ষার্থী তিন দিনের একটি ‘নিবিড়’ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
সুইডেনভিত্তিক ফোয়ো মিডিয়া ইনস্টিটিউটের এজাইল প্রকল্পের ‘উইমেন মিডিয়া লিডারস অব টুমরো’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে মানিকগঞ্জের গণকল্যাণ ট্রাস্টে ৯ থেকে ১১ মে এ কর্মশালা হয়।
বাংলাদেশ কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম এডুকেটরস নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় আয়োজিত এ উদ্যোগে সহায়তা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
কর্মশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
বাংলাদেশে ফোয়ো মিডিয়া ইনস্টিটিউটের এজাইল কর্মসূচির সমন্বয়ক জেসমিন পাপড়ি বলেন, “প্রচলিত শ্রেণিকক্ষের বাইরে গিয়ে অভিজ্ঞতাভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণটি পরিচালিত হয়। সাংবাদিকতায় নেতৃত্বের ধারণা স্পষ্ট করতে আত্ম নেতৃত্ব, রোল মডেল এবং চ্যালেঞ্জপূর্ণ মিডিয়া পরিবেশে টিকে থাকার কৌশলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”
আয়োজকরা বলছেন, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে নিউজরুম নেতৃত্বে পৌঁছানোর পথ নিয়ে আলোচনা করেন। সুপারভাইজার বা ম্যানেজার হওয়া এবং কার্যকর নেতৃত্বের মধ্যে পার্থক্য নিয়েও আলোচনা হয়।
সেশনগুলোতে পরামর্শক হিসেবে ছিলেন ফোয়ো মিডিয়া ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক সার্সতি ফোর্সবার্গ।
আরও অংশ নেন গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের বাংলা সম্পাদক তানভীর মাহমুদ, যমুনা টেলিভিশনের সিইও ফাহিম আহমেদ, সাংবাদিক জেসমিন পাপড়ি, নাজিয়া আফরিন এবং চ্যানেল ২৪ এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মরিয়ম আজিজ মৌরিন।
ডাব্লিউএমএলটি উদ্যোগের প্রথম ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সুভা তাহসিন এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা, গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী হালিমা আক্তার কর্মশালায় তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
কর্মশালার একটি অংশে সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি, হয়রানি, নিরাপত্তা ও পেশাগত স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে আলোচনা হয়।
ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজপেপারস অ্যান্ড নিউজ পাবলিশার্স, ওয়ান ইফরার সেক্সুয়াল হ্যারেসমেন্ট হ্যান্ডবুক ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারীদের মাঠপর্যায় ও নিউজরুমে হুমকি এবং হয়রানি শনাক্ত, নথিবদ্ধ এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।
কর্মশালার শেষ দিনে বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় নারীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিফলনমূলক আলোচনা হয়। এতে নেতৃত্বে পৌঁছাতে পরামর্শ, পেশাগত নেটওয়ার্ক এবং সহায়ক নিউজরুম সংস্কৃতির গুরুত্ব উঠে আসে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিলা তাসনিম বলেন, প্রশিক্ষণটি উদীয়মান মিডিয়া পেশাজীবীদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে সহায়তা করেছে এবং ফিল্ড রিপোর্টিং নিয়ে ভীতি কমিয়েছে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসমিন কালাম বলেন, কর্মশালাটি ছিল তথ্যবহুল ও অনুপ্রেরণামূলক। মিডিয়া নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও দলগত কাজের বাস্তব দিকগুলো এখানে শিখেছি।