ভিটামিন ডি নিয়ে ৬টি ভুল ধারণা: জেনে নিন সঠিক তথ্য
সূর্যের আলোতে থাকলেই যে ভিটামিন ডি মিলবে, সবক্ষেত্রে সেটা ঠিক নয়।
হাড় ও দাঁত মজবুত রাখা, পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা এবং শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সূর্যের আলো ও কিছু খাবার থেকে এই ভিটামিন পাওয়া যায়। তবে ভিটামিন ডি নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণার কারণে অনেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণে অবহেলা করেন।
আবার কেউ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন, যা ক্ষতিকর।
ভুল ধারণা-১: ভিটামিন ডি পাওয়ার একমাত্র উৎস সূর্যের আলো
এ ধারণা ঠিক নয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি হয়। তবে চর্বিযুক্ত মাছ, ডিমের কুসুম এবং ভিটামিন ডি যোগ করা কিছু খাবার থেকেও এটি পাওয়া যায়।
ত্বকের রং, বয়স, ঋতু ও সূর্যের আলোর তীব্রতার ওপর শরীরে ভিটামিন ডি তৈরির পরিমাণ নির্ভর করে। জানালার কাচের ভেতর দিয়ে আসা সূর্যের আলো ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরিতে কার্যকর নয়।
ভুল ধারণা-২: প্রতিদিন রোদে থাকলেই ঘাটতি হবে না
নিয়মিত সূর্যের আলো পেলেও সবার শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরি হয় না। বয়স বৃদ্ধি, গাঢ় ত্বক, ঘরের ভেতরে বেশি সময় কাটানো এবং চর্বি শোষণে সমস্যা থাকলে ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাই শুধু রোদে থাকার ওপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাস ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
ভুল ধারণা-৩. দুধ খেলেই ভিটামিন ডির চাহিদা পূরণ হয়
ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের ভালো উৎস দুধ। তবে সব দুধে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকে না। কিছু দেশে দুধে ভিটামিন ডি যোগ করা হয়। তাই প্যাকেটজাত দুধ কেনার সময় পুষ্টি-তথ্যের লেবেল দেখা জরুরি। মাছ ও ডিমের মতো অন্যান্য উৎসও খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
ভুল ধারণা-৪. ভিটামিন ডি শোষণের জন্য বেশি চর্বি খেতে হয়
ভিটামিন ডি চর্বিতে দ্রবণীয়। খাবারের সঙ্গে পরিমিত চর্বি থাকলে এর শোষণ বাড়তে পারে। তবে অতিরিক্ত তেল, ঘি বা চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
বাদাম, বীজ ও মাছের মতো খাবার সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। মনে রাখতে হবে, চর্বি ছাড়াও কিছু ভিটামিন ডি শোষিত হয়।
ভুল ধারণা-৫. বেশি ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়
এ ধারণা বিপজ্জনক। অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণের ফলে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে বমি বমি ভাব, দুর্বলতা, কিডনিতে পাথর এবং গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনির ক্ষতি হতে পারে।
২০২৪ সালে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘এন্ডোক্রাইন সোসাইটি’র নির্দেশিকা অনুযায়ী, সুস্থ এবং ৭৫ বছরের কম বয়সি অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে দৈনিক সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে বেশি ভিটামিন ডি নিয়মিত গ্রহণে অতিরিক্ত উপকারের যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
ভুল ধারণা-৬. সবার ভিটামিন ডি পরীক্ষা ও সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন
এ ধারণাও সঠিক নয়। বয়স, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক অবস্থা ও ঘাটতির ঝুঁকি অনুযায়ী ভিটামিন ডি’র প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে রক্তে ২৫-হাইড্রক্সিভিটামিন ডি পরীক্ষা করতে পারেন। তবে উপসর্গহীন, সুস্থ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের নিয়মিত এই পরীক্ষা প্রয়োজন, এমন সুপারিশ নেই। ঘাটতির সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পরিশেষে বলা যায়, ভিটামিন ডির ঘাটতি প্রতিরোধে সুষম খাদ্যাভ্যাস, উপযুক্ত সূর্যালোক এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ।
কোনও একটি উৎসের ওপর নির্ভর না করে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো।
লেখক: পুষ্টিবিদ লিনা আকতার। রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর।
