চেনা খাবারের অপ্রত্যাশিত স্বাস্থ্যঝুঁকি
ভাত বা দারুচিনি কখনও কখনও ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ভাত বা দারুচিনি কখনও কখনও ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখতে পুষ্টিকর খাদ্য নির্বাচনের কোনও বিকল্প নেই। তবে ইন্টারনেটের যুগে ডায়েট সংক্রান্ত নানান ভুল প্রচারণার কারণে সাধারণ মানুষ প্রায়শই বিভ্রান্ত হন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা খুব সাধারণ এবং আপাতদৃষ্টিতে ‘সুস্থকর’ মনে হওয়া কিছু খাবারের মধ্যেও বিপজ্জনক স্বাস্থ্যঝুঁকি লুকিয়ে থাকতে পারে।
স্বাস্থ্য ও জীবনধারা-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘রিয়েল সিম্পল’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার তো বটেই, এমনকি কিছু প্রাকৃতিক উপাদান অতিরিক্ত বা ভুলভাবে গ্রহণে পরিপাকতন্ত্র, যকৃত বা লিভার এবং কোষের ক্ষতিসাধন করতে পারে।
অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়
লেবুর শরবত, কোমল পানীয় বা স্পোর্টস ড্রিংকস রক্তে শর্করার মাত্রা ও স্থূলতা বাড়ায়, এটা জানা কথা।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অবস্থিত ‘ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব কোরিয়া’র, ‘কলেজ অব মেডিসিন’—এর অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা বিভাগের করা গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন অন্তত একটি করে চিনিযুক্ত পানীয় পানের অভ্যাস পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ২.৪৫ গুণ বাড়িয়ে দেয়।
প্রক্রিয়াজাত মাংস
সুপারশপের রেফ্রিজারেটরে থাকা স্লাইস করা সসেজ বা হটডগ প্রোটিনের ভালো উৎস মনে হলেও এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধীনে থাকা আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা প্রক্রিয়াজাত মাংসকে ‘গ্রুপ ১ কার্সিনোজেন’ বা সরাসরি ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
তামাকের ধোঁয়ার মতোই এর নিয়মিত গ্রহণ কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
ভাতে আর্সেনিকের ঘনত্ব
ভাত বেশিরভাগ দেশে প্রধান খাদ্য হলেও, যে মাটিতে এটি উৎপাদিত হয়, তাতে প্রচুর পরিমাণে ভারী ধাতু বা আর্সেনিকথাকে, যা চালের দানায় ঘনীভূত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘টেরা মারে’ প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক ও মার্কিন পুষ্টিবিদ ডা. সারি আইচেস প্রতিবেদনে বলেন, “লাল বা বাদামি চালের বাইরের ‘ব্র্যান’ বা তুষের স্তরে এই আর্সেনিক বেশি থাকে।
এই ঝুঁকি কমাতে বাদামি চালের পরিবর্তে বাসমতি বা সুশি চাল বেছে নেওয়া এবং ভাত রান্নার আগে ভালো করে ধুয়ে পাস্তার মতো অতিরিক্ত পানিতে সেদ্ধ করে ফ্যান বা পানি ঝরিয়ে নেওয়া ভালো।
দারুচিনির ক্ষতিকর প্রভাব
দৈনন্দিন রান্নায় দারুচিনি নিরাপদ ও উপকারী।
তবে নিবন্ধিত মার্কিন পুষ্টিবিদ এভারি জেঙ্কার একই প্রতিবেদনে বলেন, “বাজারে সাধারণ সস্তা যে ‘ক্যাসিয়া’ বা চায়নিজ দারুচিনি পাওয়া যায়, তাতে উচ্চমাত্রার ‘কুমারিন’ নামক উপাদান থাকে। অতিরিক্ত কুমারিন সেবনে মাথা ঘোরা, বমি এবং যকৃত বা লিভারের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।”
এই বিষাক্ততা এড়াতে ‘সিলন দারুচিনি’ বা বোতলজাত গুঁড়ার পরিবর্তে আসল দারুচিনি ব্যবহার করা নিরাপদ।
প্রোটিন পাউডারের ভারী ধাতু
পেশি বাড়াতে অনেকেই নিয়মিত প্রোটিন শেইক বা পাউডার গ্রহণ করেন।
তবে মার্কিন পুষ্টিবিদ জ্যাকলিন ফ্লেশার-এর গবেষণায় দেখা গেছে, মাটির দূষণ ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে প্রোটিন পাউডারে সীসা, ক্যাডমিয়াম এবং আর্সেনিকের মতো বিষাক্ত ভারী ধাতুর কণা মিশে থাকে।
বিশেষ করে উদ্ভিজ্জ বা ‘প্ল্যান্ট-বেইসড’ পাউডারে এই দূষণ বেশি দেখা যায়, যা কোষের স্থায়ী ক্ষতি করে।
তাই সবসময় পরীক্ষিত পণ্য বেছে নেওয়া নিরাপদ।
