Published : 29 Jul 2026, 04:41 PM
রাতে ঘুমানোর আগে গোসল করার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। তবে গোসল শেষ করে রাত ১১টা বা ১২টায় ব্লো-ড্রায়ার বের করে চুল শুকানোর ক্লান্তি এড়াতে অনেকেই ভেজা চুলেই বিছানায় শুয়ে পড়েন।
বড়রা প্রায়ই সতর্ক করেন যে ভেজা চুলে ঘুমালে ঠাণ্ডা লাগতে পারে বা মাথার ত্বকে ছত্রাক জন্মাতে পারে। তবে বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ভেজা চুলে ঘুমানো কি আসলেই এতটা ক্ষতিকর, নাকি এটি একটি রূপচর্চার অন্ধবিশ্বাস?
জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট সেলফ ডটকমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মাঝে মাঝে এমনটা হলে বড় কোনো ক্ষতি না হলেও, এটিকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করলে চুল এবং মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পের ক্ষতি হতে পারে।
ভেজা চুলে ঘুমানোর ৩ ক্ষতি
চুল ভেঙে যাওয়া এবং ড্যামেজ হওয়া
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ক্যারল চেং প্রতিবেদনে বলেন, “চুল যখন ভেজা থাকে, তখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দুর্বল ও নাজুক অবস্থায় থাকে। এর কারণ হল, পানি বা তরল উপাদান চুলের বাইরের সুরক্ষামূলক স্তর তথা কিউটিকলকে সাময়িকভাবে খুলে দেয় এবং চুলগুলোকে এমনভাবে প্রসারিত করে, যা খুব সহজেই ভেঙে যেতে পারে।”
এই অবস্থায় যখন কেউ ঘুমানোর সময় বারবার মাথা নাড়াচড়া করেন, তখন বালিশের কাপড়ের সঙ্গে তৈরি হওয়া ঘর্ষণ চুলকে গোড়া থেকে টেনে ছিঁড়ে ফেলে বা মাঝখান থেকে ভেঙে দেয়।
যারা চুলে নিয়মিত রং, রিবন্ডিং করেন বা যাদের চুল প্রাকৃতিকভাবেই পাতলা, তাদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতির ঝুঁকি বেশি থাকে।
খুশকি এবং চর্মরোগের প্রকোপ বৃদ্ধি
মাথার ত্বকে প্রাকৃতিকভাবেই ‘ম্যালাসেসিয়া’ নামক এক ধরনের অণুজীব বা ইস্ট বাস করে।
নিউ ইয়র্কের বোর্ড-প্রত্যয়িত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মারিসা গার্শমিক প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করেন, “ভেজা চুল এবং মাথার ত্বকের কারণে বালিশ ও মাথার নিচে এক ধরনের উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ তৈরি হয়, যা এই ইস্টের বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ রাজত্ব। এই ইস্টের মাত্রা বেড়ে গেলে মাথায় খুশকি এবং ‘সেবোরিক ডার্মাটাইটিস’ নামক ছোঁয়াচে চর্মরোগ দেখা দেয়। ফলে মাথায় চুলকানি ও তৈলাক্ত লালচে ছোপ তৈরি হয়।”
বালিশে ছাতা বা মেলডিউ পড়া
চুলের পানি দীর্ঘক্ষণ বালিশের তুলা বা কাপড়ে শোষিত হয়ে যদি ঠিকমতো না শুকায়, তবে সেখানে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং ছাতা বা ছত্রাক জন্মাতে পারে।
বিশেষ করে আর্দ্র বা ভ্যাপসা আবহাওয়ায় এই ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়, যা পরে ত্বকের অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।
ভেজা চুলে ঘুমানোর ক্ষেত্রে সুরক্ষার ৩টি নিয়ম
খুব ক্লান্ত থাকার কারণে যদি ভেজা চুলে ঘুমাতেই হয়, তবে ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা ৩টি নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:
অন্তত চুলের গোড়া শুকানো: যুক্তরাষ্ট্রের এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন মেডিকেল সেন্টারের ডা. মেরি এল স্টুয়ার্ট বলেন, “পুরো চুল শুকানোর সময় না থাকলেও অন্তত মাথার ত্বকের গোড়ার অংশটি ব্লো-ড্রায়ার দিয়ে শুকিয়ে নেওয়া উচিত। কারণ এই গোড়ার অংশটিই বালিশের সঙ্গে চেপে থাকে এবং এখানেই ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়ায়।”
“ঘুমানোর আগে একটি মাইক্রোফাইবার তোয়ালে দিয়ে অতিরিক্ত পানি ভালো করে শুষে নেওয়া উপকারী”, পরামর্শ দেন তিনি।
চুল আলগা বা খোলা রাখা: অনেকেই ভেজা চুল সামলাতে শক্ত করে খোঁপা, ঝুঁটি বা বেণী করে ঘুমাতে যান।
ডা. স্টুয়ার্ট সতর্ক করে বলেন, “এটি ভুল অভ্যাস। ভেজা অবস্থায় চুল বেঁধে ঘুমালে চুলের ফলিকল বা গোড়ায় অতিরিক্ত টান পড়ে এবং চুল পড়ার হার বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই চুল সবসময় খোলা রেখে ঘুমানো উচিত।
সিল্কের বালিশের কভার ব্যবহার: সাধারণ সুতি বা কটন কভারের বুনন কিছুটা খসখসে হয়, যা ভেজা চুলের ঘর্ষণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে রেশমি বা সিল্কের কভার ব্যবহার করলে মাথা সহজেই পিছলে যায় এবং চুল টেনে ধরার বা ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে আসে।
মনে রাখতে হবে
মাঝে মাঝে ব্যস্ততার কারণে ভেজা চুলে ঘুমালে চুল হুট করে সব পড়ে যাবে না বা মাথায় ছত্রাক গজাবে না।
তবে চুলের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে হলে, ঘুমানোর আগে সামান্য কয়েকটা মিনিট খরচ করে চুল ভালোমতো শুকিয়ে নেওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
আরও পড়ুন