৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে যেসব পুষ্টিকর খাবার

অতিরিক্ত ক্যালোরি বা চিনির ভয়ে যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলছেন, সেগুলোই কমাতে পারে স্ট্রোকের ঝুঁকি।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 03:09 PM

Updated : 30 Sep 2026, 03:09 PM

সুস্থ জীবনধারা ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের যুগে তথ্যের কোনও অভাব নেই।

তবে একই খাবারের ভালো এবং মন্দ দিক নিয়ে নানান ধরনের পরস্পরবিরোধী তত্ত্ব সাধারণ মানুষকে প্রায়শই বিভ্রান্ত করে তোলে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে- চর্বি, শর্করা বা অতিরিক্ত ক্যালোরির ভয়ে সমাজে যে খাবারগুলোকে সচরাচর ‘ক্ষতিকর’ বা ‘খারাপ’ বলে মনে করা হয়, তার অনেকগুলোই আসলে হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পালন করে।

পুষ্টি ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক ওয়েবসাইট ইটিংওয়েল-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিবন্ধিত পুষ্টিবিজ্ঞানীরা এমন ৬টি খাবার নিয়ে ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছেন, যা মস্তিষ্কের রক্তনালী সচল রাখতে সাহায্য করে।

বাদাম

অতিরিক্ত ক্যালোরি এবং চর্বির ভয়ে অনেকেই খাদ্যতালিকা থেকে বাদাম বাদ দিয়ে থাকেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটের নিবন্ধিত পুষ্টিবিজ্ঞানী ও গবেষক মেগান পেন্ডলটন বলেন, “বাদামে থাকা অসম্পৃক্ত চর্বি রক্তনালীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বেশ কার্যকর।”

‘ম্যাসাচুসেটস ভেটেরান্স এপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ ইনফরমেশন সেন্টার’-এর ‘বস্টন ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স হেলথকেয়ার সিস্টেম’-এর করা গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে অন্তত ৫ বার সামান্য বাদাম খাওয়ার অভ্যাস স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ১৯ শতাংশ কমিয়ে আনে।

এছাড়া বাদামে উপস্থিত ভিটামিন ‘ই’ এবং ‘পলিফেনল’ নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ দূর করে ‘অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস’ বা ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রতিহত করে।

কলা

অতিরিক্ত মিষ্টি ও কার্বোহাইড্রেইটের কারণে ওজন কমানোর ডায়েট থেকে অনেকেই কলা বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে মার্কিন পুষ্টিবিজ্ঞানী ও ‘দ্য হার্ট ডায়েটিশিয়ান’-এর প্রতিষ্ঠাতা ভেরোনিকা রাউস বলেন, “কলা হল পটাসিয়ামের উৎস, যা রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার কমাতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। যেহেতু উচ্চ রক্তচাপ হল স্ট্রোকের প্রধান কারণ, তাই প্রতিদিনের পটাসিয়ামের চাহিদা পূরণ করা জরুরি, যা একটি কলা খুব সহজেই করতে পারে।

কফি

কফি পানের অভ্যাস রক্তচাপ সাময়িকভাবে বাড়ালেও, দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপের ওপর এর কোনও নেতিবাচক প্রভাব নেই।

দীর্ঘকালীন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, প্রতিদিন মাঝারি পরিমাপে (২ থেকে ৩ কাপ) কফি পান করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

কফিতে থাকা ‘ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড’ এবং ‘ফ্লাভোনয়েডস’ নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলোকে সুরক্ষিত রাখে।

তবে দিনে ৩ কাপের বেশি কফি পান করা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

ওটমিল

রক্তে শর্করার মাত্রা বা গ্লুকোজ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই ওটমিল খাওয়া বন্ধ করে দেন।

পুষ্টিবিদ পেন্ডলটনের মতে, “ইনস্ট্যান্ট বা প্রক্রিয়াজাত ওটসের পরিবর্তে স্টিল-কাট বা রোলড ওটস বেছে নিলে শর্করার তারতম্য ঘটে না। ওটসে উপস্থিত ‘বিটা-গ্লুকান’ নামক দ্রবণীয় আঁশ বা ‘সল্যুবল ফাইবার’ শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম শর্ত।”

শিম বা ডালজাতীয় শস্য

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো নানান ভুল তথ্যের কারণে অনেকে ডাল বা শিমজাতীয় খাবারকে ক্ষতিকর প্রোটিন বা ‘লেকটিন’-এর উৎস মনে করে এড়িয়ে চলেন।

তবে এই বিশেষজ্ঞরা জানান, ডাল ভালো করে পানিতে ভিজিয়ে ও সেদ্ধ করে রান্না করলে লেকটিন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।

এই খাবারগুলোতে থাকা আঁশ, অন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি শরীর থেকে বের করে দেয়, যা স্ট্রোকজনিত মৃত্যুহার কমাতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

টোফু

সয়াবিন থেকে তৈরি উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ‘টোফু’ হরমোনের ক্ষতি করে বলে যে প্রচারণা রয়েছে, তার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

ভেরোনিকা রাউসের মতে, “টোফুতে প্রচুর পরিমাণে ‘আইসোফ্লেভোনস’ নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেটা-অ্যানালাইসিসে দেখা গেছে, নিয়মিত টোফুর মতো সয়া পণ্য খাওয়ার অভ্যাস স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনে।”

পুরানো খবর:

দিনে কতটুকু চিনি গ্রহণ করা নিরাপদ?
নাস্তায় শুধু ফল খেলে বাড়তে পারে মেদ
ফ্যাটি লিভার বা যকৃতের চর্বি কাটাতে আসলেই কি বিটের রস কার্যকর?