০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

পরিষ্কারের নিয়ম জানলে হাঁড়ি-পাতিল দীর্ঘদিন নতুনের মতো রাখা যায়

কাস্ট আয়রন, অ্যালুমিনিয়াম বা ‘নন-স্টিক’ পাত্র ধোয়ার কৌশল এক নয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 06:15 PM

Updated : 01 Nov 2026, 06:16 PM

একটি ভালো মানের তৈজসপত্র দীর্ঘদিন ব্যবহার করা সম্ভব, যদি সেটির সঠিক যত্ন ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা যায়।

অনেকেই রান্নার পর সময় বাঁচাতে বা অলসতা করে সব ধরনের পাত্র একই ধরনের সাবান ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলেন।

তবে রান্নাঘর ও পরিষ্কার-বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, তীব্র ক্ষারযুক্ত ডিটারজেন্ট সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাত্রের স্থায়িত্ব এবং উজ্জ্বলতা নষ্ট করে দেয়। তাই হাঁড়ি পাতিল দীর্ঘদিন টেকসই রাখতে হাত দিয়ে ধোয়া এবং প্রতিটি উপাদানের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা উচিত।

এই বিষয়ে জীবনযাপন ও গৃহস্থালি-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘রিয়েলসিম্পল’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে, খাদ্য নিরাপত্তা এবং রান্নাঘর বিশেষজ্ঞ বেটি গোল্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেকোনো পাত্র ধোয়ার আগে সেটিকে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে নেওয়া উচিত।

গরম পাত্রে হঠাৎ করে ঠান্ডা পানি ঢাললে তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে আকৃতি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

বিভিন্ন ধরনের হাঁড়ি-পাতিল ধোয়ার সঠিক ও নিরাপদ উপায় নিচে আলোচনা করা হল।

কাস্ট আয়রন বা লোহার কড়াই

লোহার কড়াইয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, এর ওপর থাকা তেলের প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া প্রতিরক্ষামূলক স্তর বা ‘সিজনিং’। কাস্ট আয়রনের পাত্র কখনও পানিতে ভিজিয়ে রাখা যাবে না, এতে দ্রুত মরিচা ধরে যায়।

ধোয়ার নিয়ম: রান্না শেষ হওয়ার পরপরই পাত্রটি ঠান্ডা করে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। যদি জেদি পোড়া দাগ লেগে থাকে, তবে মোটা দানার লবণ এবং রান্নার তেল একসঙ্গে মিশিয়ে একটি স্ক্রাবিং পেস্ট তৈরি করে ঘষতে হবে।

ধোয়া শেষে সুতি কাপড় দিয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে ওপর থেকে সামান্য রান্নার তেল মেখে সংরক্ষণ করতে হবে, যা বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে মরিচা পড়া রোধ করে।

নন-স্টিক পাত্র

নন-স্টিক পাত্রের পিচ্ছিল আবরণের কারণে কম তেলে ওমলেট বা প্যানকেক ভালোভাবে রান্না করা যায়। তবে এই পাত্রে কখনও বাজারচলতি রান্নার স্প্রে ব্যবহার করা উচিত নয়; স্প্রেতে থাকা ‘লেসিথিন’ নামক উপাদান পুড়ে গিয়ে নন-স্টিক আবরণের ওপর এমন আঠালো স্তর তৈরি করে যা পরে আর তোলা যায় না।

ধোয়ার নিয়ম: ভুলেও কোনও খসখসে স্ক্রাবার বা মাজনি ব্যবহার করা যাবে না, এতে নন-স্টিক কোটিং স্ক্র্যাচ পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। মৃদু সাবান পানি এবং নরম স্পঞ্জ দিয়ে আলতো করে ধুয়ে সুতি তোয়ালে দিয়ে মুছে শুকিয়ে নিতে হবে।

পাত্রগুলো একটির ওপর আরেকটি সাজিয়ে রাখার সময় মাঝে একটি পেপার টাওয়েল দেওয়া উচিত, যাতে ঘর্ষণ না লাগে।

স্টেইনলেস স্টিল

উচ্চ তাপমাত্রায় মাংস বা সবজি ভাজার জন্য স্টেইনলেস স্টিলের জুড়ি নেই। তবে রান্নার পর চকচকে স্টিলের পাত্রে বাদামি বা কালচে দাগ পড়ে যাওয়া খুব সাধারণ সমস্যা।

ধোয়ার নিয়ম: পাত্রের আসল ‘ফিনিশিং’ ধরে রাখতে হাত দিয়ে ধোয়া শ্রেয়। সাবান ও গরম পানি দিয়ে সাধারণ দাগ দূর করা গেলেও জেদি দাগের জন্য ‘বার কিপার্স ফ্রেন্ড’ বা সমমানের বিশেষ নন-স্ক্র্যাচ ক্লিনিং পাউডার দিয়ে স্টিলের লাইনের অভিমুখ অনুযায়ী ভালো করে ঘষে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।

অ্যানোডাইজড অ্যালুমিনিয়াম

এটি এক ধরনের বিশেষ প্রক্রিয়াজাত অ্যালুমিনিয়াম যা সাধারণ ধাতবের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই এবং উচ্চ তাপেও ব্যবহার করা যায়।

ধোয়ার নিয়ম: দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এই পাত্রের গায়ে কালচে ছোপ পড়লে, প্রায় ১ লিটার পানিতে ২ টেবিল-চামচ ‘ক্রিম অব টারটার’ (এক ধরনের বেইকিং পাউডার যা শক্তিশালী ক্লিনার হিসেবে কাজ করে) মিশিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি স্পঞ্জে নিয়ে পাত্রের ভেতরের ও বাইরের দিকে মেখে ডিসকালারেশন বা বিবর্ণতা দূর করে গরম পানিতে ধুয়ে নিতে হবে।

তামা বা কপারের পাত্র

তামার পাত্র দেখতে আকর্ষণীয় হলেও বাতাসে এটি খুব দ্রুত উজ্জ্বলতা হারিয়ে কালো বা বিবর্ণ হয়ে পড়ে। বছরে অন্তত দুবার তাই পলিশ করা জরুরি।

ধোয়ার নিয়ম: প্রতিবার ব্যবহারের পর মৃদু সাবান ও গরম পানি দিয়ে ধুয়ে মুছে ফেলতে হবে। পলিশ করার জন্য বাজারে থাকা কেমিক্যালের বদলে ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।

একটি লেবু অর্ধেক করে কেটে এর ওপর পর্যাপ্ত লবণ ছিটিয়ে নিতে হবে। এরপর লেবুটিকে স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করে পাত্রের গায়ে ঘষলে লেবুর সিট্রিক অ্যাসিড তামা থেকে কালচেভাব দূর করবে এবং লবণ স্ক্র্যাচ বা দাগ ফেলা ছাড়াই জেদি দাগ তুলে দেবে।

সিরামিক পাত্র

রঙিন ও আকর্ষণীয় সিরামিক পাত্রের যত্ন নেওয়া বেশ সহজ, তবে এতে কখনও স্টিলের শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করা যাবে না।

ধোয়ার নিয়ম: কুসুম গরম পানি ও মৃদু সাবান দিয়ে ধুয়ে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় শুকিয়ে নিতে হবে। জেদি দাগের জন্য ৩০ মিনিট সাবান পানিতে ভিজিয়ে রেখে বেইকিং সোডা ও সামান্য ভিনেগার মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নরম স্পঞ্জ দিয়ে ঘষতে হবে।

বছরের পর বছর ব্যবহারে সিরামিকের গায়ে যে দাগ পড়ে, তা দূর করতে ২ টেবিল-চামচ হাইড্রোজেন পারক্সাইড পাত্রে ঢেলে ৩০ মিনিট বা সারারাত রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।

বিশেষ সতর্কবার্তা: ভুলেও হাইড্রোজেন পারক্সাইড এবং ভিনেগার একসঙ্গে মেশানো যাবে না। কারণ এদের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তৈরি হওয়া ক্ষতিকর গ্যাস ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

পোড়া পাত্র পরিষ্কারের কৌশল

অসাবধানতাবশত কোনও পাত্র পুড়ে গেলে তীব্র কেমিক্যাল ব্যবহার না করে নিচের ৩টি ঘরোয়া উপায়ে নতুনের মতো করা সম্ভব।

লেবু ব্যবহার: পাত্রে পানি ভরে দুয়েক টুকরা করা লেবু দিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। এরপর লেবু পানি ফেলে দিয়ে সাধারণ সাবান দিয়ে ঘষলে পোড়া আস্তরণ আলগা হয়ে আসবে।

ভিনেগার ও বেইকিং সোডা: পাত্রের অর্ধেক অংশ সমপরিমাণ পানি ও ভিনেগারের মিশ্রণ দিয়ে পূর্ণ করে ফুটিয়ে নিতে হবে। ফুটে উঠলে চুলা বন্ধ করে ২ টেবিল-চামচ বেইকিং সোডা যোগ করে ১৫ মিনিট রেখে দিতে হবে।

এরপর মিশ্রণটি ফেলে দিয়ে আলতো করে স্ক্রাব করলেই পোড়া দাগ উঠে যাবে।

সোডার পানি ডুবিয়ে রাখা: একটি বড় পাত্রে পানি নিয়ে তাতে আধা কাপ বেইকিং সোডা মিশিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। এবার পোড়া পাত্রটি সেই ফুটন্ত সোডা পানির ভেতর সম্পূর্ণ ডুবিয়ে ১৫ মিনিট রেখে বের করে সাধারণ সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

পুরনো খবর:

যেভাবে কাঠের তৈজসপত্রের যত্ন নিলে টেকে বেশি দিন
নিয়মিত পরিষ্কার করার পরও কমোডে জেদি দাগ পড়ার কারণ
ঘরের যেসব জিনিস প্রতি মাসেই পরিষ্কার করা উচিত
রান্নাঘরের বেসিনের ছাঁকনি গভীরভাবে পরিষ্কার হবে যেভাবে