গরম নাকি ঠান্ডা চা, কোনটি ভালো?
চায়ের সঙ্গে কী মেশানো হচ্ছে, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এক কাপ চা অনেকের কাছেই দিনের শুরু, কাজের ফাঁকে স্বস্তি কিংবা ক্লান্তি দূর করার সঙ্গী।
কেউ ধোঁয়া ওঠা গরম চা পছন্দ করেন। আবার অনেকের কাছে বরফ মেশানো ঠান্ডা চা বেশি আরামদায়ক, বিশেষ করে গরমের দিনে।
তবে গরম ও ঠান্ডা চায়ের মধ্যে পার্থক্য কি? আর কোনটিই বা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী?
পুষ্টিবিদদের মতে, গরম-ঠান্ডার চাইতেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল, চা তৈরির পদ্ধতি আর কতটা চিনি ব্যবহার করা হচ্ছে।
সঠিকভাবে প্রস্তুত করা হলে গরম ও ঠান্ডা দুই ধরনের চায়েরই রয়েছে নানান স্বাস্থ্য উপকারিতা।
বারডেম হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের সাবেক প্রধান ও পুষ্টি কর্মকর্তা আখতারুন নাহার আলোর মতে, “নিয়মিত চা পান করতে চাইলে ধরন নয়, বরং প্রস্তুত প্রণালীর দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”
ঠান্ডা চাও হতে পারে স্বাস্থ্যকর পানীয়
গরমের দিনে শরীরকে সতেজ রাখতে অনেকেই ঠান্ডা চা পান করেন। তবে ঠান্ডা চা মানেই স্বাস্থ্যকর নয়, এমন ধারণাও থাকতে পারে।
যদিও বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করে, চিনি ব্যবহারের ওপর।
এই পুষ্টিবিদের মতে, “অতিরিক্ত চিনি ছাড়া তৈরি ঠান্ডা চা শরীরের পানির চাহিদা পূরণে কার্যকর হতে পারে। গরম আবহাওয়া কিংবা শরীরচর্চার পর শরীরকে সতেজ অনুভব করায়। আর পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের ক্ষেত্রেও এটি ভালো।
এ কারণে শরীরে পানিশূন্যতার ঝুঁকিও অনেকটাই কমে।
উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদানে সমৃদ্ধ
চায়ে এমন অনেক প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী। বিশেষ করে বিভিন্ন ভেজষ ধরনের চায়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
শরীরের কোষকে সুরক্ষা দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে ভালো কাজ করে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে চিনি ছাড়া চা পানে শরীর এসব উপকারী উপাদান পায়।
গরম চায়ের আলাদা কিছু সুবিধা
গরম চায়ের রয়েছে আরামদায়ক অনুভূতি। বিশেষ করে ঠান্ডা লাগা, গলা ব্যথা বা সর্দি হলে বিভিন্ন মসলার, পাতার বা ভেজষ গরম চা পানে স্বস্তি আসে।
গরম পানীয় শ্বাসনালিতে জমে থাকা শ্লেষ্মা নরম করতে কার্যকরী। এতে নাক বন্ধ থাকা বা গলায় অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।
পাশাপাশি গরম চা পান করলে, মানসিকভাবেও অনেকেই স্বস্তি অনুভব করেন।
দিনের ব্যস্ততার শেষে ধীরে ধীরে এক কাপ গরম চা পান করলে মনও শান্ত হয়। অনেকের জন্য এটি বিশ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অংশও হয়ে উঠে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সামান্য এগিয়ে গরম চা
গরম ও ঠান্ডা চায়ের মধ্যে পুষ্টিগুণের পার্থক্য খুব বেশি নয়।
তবে আলো বলেন, “গরম পানিতে চা তৈরি করলে চা–পাতা থেকে কিছু উপকারী উপাদান তুলনামূলক বেশি বের হয়ে আসে।”
তার মানে এই নয় যে, ঠান্ডা চা কম উপকারী। কারণ গরম পানিতে তৈরি চা পরে ঠান্ডা করে পান করলেও এর বেশিরভাগ উপকারী উপাদান তেমনটাই থাকে।
তাই চা গরম না ঠান্ডা— এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল এটি কেমন এবং আসল চা–পাতা দিয়েই তৈরি হয়েছে কি-না।
তার মানে গরম চা যেহেতু কিছুটা বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে, তাই সেটিই একমাত্র স্বাস্থ্যকর এমন নয় বরং এই পার্থক্য খুবই সামান্য।
অতিরিক্ত চিনি কমানো
অতিরিক্ত চিনি শরীরে অপ্রয়োজনীয় শক্তি যোগ করে এবং দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণে খেলে ওজন বাড়ে, রক্তে শর্করার ওঠানামা এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
আর চায়ের উপকারিতাও কমে যায়।
তাই ধীরে ধীরে চিনি কমিয়ে আনলে স্বাভাবিক স্বাদেও অভ্যস্ত হওয়া সম্ভব।
চিনি কম দিলেই যে চা স্বাদহীন হবে, এমন নয়। প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করেও চায়ের স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ানো যায়।
লেবুর রস, কমলার টুকরা, বিভিন্ন ধরনের বেরিজাতীয় ফল, পুদিনা পাতা, আদা, দারুচিনি কিংবা এলাচ ব্যবহারেও অতিরিক্ত চিনি প্রয়োজন কমে আসে।
আরও পড়ুন
