ভেজা গায়ে ডিওডোরেন্ট মাখলে কার্যকারিতা হারায়।
Published : 18 Dec 2024, 01:12 PM
ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে ব্যবহার করছেন ডিওডোরেন্ট। তবে খেয়াল করলেন সেটা ঠিক মতো কাজ করছে না। ভাবছেন জিনিসটা ভালো না। অথচ দোষ হয়ত ব্যবহারের ভুল।
“সাধারণত ঘামের কোনো গন্ধ হয় না” এই তথ্য জানিয়ে রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সুগন্ধি তৈরির প্রতিষ্ঠান ‘লাভ্যানিলা’র প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল রেনর বলেন, “দেহ ঠাণ্ডা রাখার প্রক্রিয়া হল ঘাম হওয়া। এই গন্ধহীন ঘাম যখন ত্বকের ব্যাক্টেরিয়ার সাথে মিশ্রিত হয় তখনই গন্ধ তৈরি হয়।”
একই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যান ডিওডোরেন্ট’ প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র ডা. জিনোভিয়া বলেন, “ত্বকের ব্যাক্টেরিয়ার পরিবর্তন হলে গন্ধেরও পরিবর্তন হয়। ফলে আগে যে ডিওডোরেন্ট’টা কাজ করতো, সেটা হয়ত বর্তমানে কাজ করবে না।”
তাই যারা মনে করেন, ডিওডোরেন্ট’টা কাজ করছে না, সেটা ঠিক না। বরং দেহের পরিবর্তন হয়েছে বলেই আশানুরূপ ফল মিলছে না।
এছাড়াও আরও কিছু কারণ রয়েছে ডিওডোরেন্ট কাজ না করার।
ভেজা বাহুমূলে ব্যবহার
তাড়াহুড়া বা ব্যস্ততার কারণে গোসল করেই বাসা থেকে বের হওয়া আগে ভেজা বগলে ডিওডোরেন্ট মাখলে কাজ হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফ্রিডম ডিওডোরেন্ট’ তৈরি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাগানোভস্কি গ্রিন বলেন, “পানি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। যে কারণে ত্বকের ভেতর ডিওডোরেন্ট ঢুকতে পারে না। ফলে অল্প সময় পরেই দেহে ঘামের গন্ধ তৈরি হয়।”
তাই সবসময় দেহ ভালো মতো শুকিয়ে ডিওডোরেন্ট স্প্রে বা রোলঅন মাখতে হবে।
সঠিক পন্থায় ব্যবহার না করা
ডিওডোরেন্ট অল্প ব্যবহার করলেই হয়।
গ্রিন বলেন, “খুব বেশি হলে দুতিনবার ঘষলেই হবে। এরচেয়ে বেশি মাখলেই কাপড়ে লেগে যাওয়া সম্ভাবনাই বাড়বে।”
মাখার পর হাত সামনে পেছনে কয়েকবার নাড়াচাড়া করতে হবে। এতে পুরো জায়গায় ভালো মতো মাখা হবে, আর ঘর্ষণের ফলে উষ্ণতা তৈরি হওয়াতে ডিওডোরেন্ট’য়ের তরল ভালো মতো গলে ত্বকে প্রবেশ করবে।
একই পণ্য দীর্ঘদিন ব্যবহার করা
বছর খানেক ধরে একই পণ্য ব্যবহার করে গেলে, হঠাৎ করেই একদিন দেহে গন্ধ দেখা দিতে পারে।
গ্রিন বলেন, “আসলে আমাদের দেহ অনেক ‘স্মার্ট’। যে কোনো প্রসাধনী অনেকদিন মাখলে দেহ সেটাতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। ফলে অনেক সময় সেগুলো আজ কাজ করে না।”
তাই কয়েক মাস পরপর ডিওডোরেন্ট’য়ের ধরন পরিবর্তন করতে হবে। স্প্রে ব্যবহার করলে সেটা বাদ দিয়ে রোল অন ব্যবহার করা যেতে পারে।
হয়ত মানসিক চাপে আছেন
মানসিক চাপে থাকলে দেহে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। আর তখন ডিওয়োরেন্ট ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে।
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন
ত্বকে থাকা ব্যাক্টেরিয়া বা ‘মাইক্রোবায়োম’ যে কোনো কিছুতে পরিবর্তিত হতে পারে।
তাই ডা. জিনোভিয়া বলেন, “যদি জীবন ধারণে কোনো পরিবর্তন হয় তবে ডিওডোরেন্ট’ও পরিবর্তন করতে হতে পারে।”
ডিওডোরেন্ট ভালো মতো কাজ করানোর পন্থা
বাহুমূলের বাড়তি যত্নে দেহে বাজে গন্ধ হওয়া হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
গোসলের সময় বাড়তি সময় নিয়ে বগলে ভালো মতো ঘষামাজা বা ‘এক্সফলিয়েট’ করার পরামর্শ দেন, ডা. জিনোভিয়া।
নিয়মিত শেইভ করলে এমনিতেই জায়গাটা এক্সফলিয়েট করা হয়ে যায়। তাই এক্সফলিয়েট করার জন্য আলাগা পণ্য ব্যবহার না করলেও হবে।
এছাড়া ব্যবহার করা যায় ‘আন্ডার আর্ম মাস্ক’। এটা ত্বক থেকে বাড়তি ব্যাক্টেরিয়া, দুষিত পদার্থ ও ঘামের কারণে জমে থাকা ময়লা ভালো মতো পরিষ্কার করতে কাজে দেয়।
এসব কোনো কিছু যদি কাজ না করে, তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সঠিক চিকিৎসকা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
আরও পড়ুন
পোশাক থেকে ডিওডোরেন্টের দাগ তোলার উপায়