খাবারের লবণ কমানোর উপায়

খাবারে লবণ বেশি হয়ে গেলে কমানোর জন্য রয়েছে নানান পন্থা।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 June 2020, 07:17 AM
Updated : 14 June 2020, 07:17 AM

রসনাবিলাসের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণউপাদান হল লবণ। মাংস, শাকসবজির বিভিন্ন পদ রান্না, ফল খাওয়া এমনটি মিষ্টি খাবার তৈরিতেওলবণ দরকার হয়। আর সবখানেই এর পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে তা খাবারের স্বাদ বাড়ায়কয়েকগুন।

তবে লবণের পরিমাণে গরমিল হলেও বাঁধে বিপত্তি।কম হলে অনেকসময়ই আবার যোগ করে সামালানো যায়, তবে বেশি হয়ে গেলে ঝামেলা বড় আকারের।

সেই বড় সমস্যা সমাধানে পুষ্টিবিষয়ক একটিওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানানো হল বিস্তারিত।

আলু লবণ টেনে নেয়

যে পদে লবণ বেশি হয়ে গেছে তাতে তিন থেকেচার টুকরা আলু যোগ করে দিলে তা নাকি লবণ টেনে নেয়, এমন ধারণা বিশ্বাস করেন অনেক রাঁধুনি।পরে ওই আলুগুলো বের করে দিয়ে তরকারির লবণ ঠিক হয়ে যায়।

তবে আমেরিকান রসায়নবিদ রবার্ট ওলক তারবই ‘হোয়াট আইনস্টাইন টোল্ড হিজ কুক: কিচেন সায়েন্স এক্সপ্লেইনড’য়ে এক গবেষণার বর্ণনাদেন। এই গবেষণায় পানিতে আলু যোগ করা আগে ও পরে ওই পানির ‘স্যালিনিটি’ বা লবণাক্ততারমাত্রা পরিমাপ করেন এবং লবণাক্ততার মাত্রায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না।অর্থাৎ আলুর এই টোটকা আসলে কাজ করেনা।

তাহলে ‍উপায় কী?

পানি যোগ করে দেখেছেন তো?

ঝোল, সুপ, তরকারি ইত্যাদি পদের রান্নায়লবণ বেশি হয়ে গেলে তাতে পানি যোগ করলেই লবণাক্ততা কমে আসে। আর স্বভাবতই এই পানিতে কোনোলবণ থাকা যাবেনা। বাড়তি পানি দেওয়ার কারণে তরকারির ঘনত্ব কমে যেতে পারে, তবে একটু সময়নিয়ে জাল দিয়ে সে সমস্যাও সমাধান করে ফেলতে পারবেন।

জাল দেওয়া সম্ভব না হলে পানিতে কর্নফ্লাওয়ারমিশিয়ে সেই দ্রবণটি তরকারিতে যোগ করে দিতে পারেন, এতে কাঙ্ক্ষিত ঘনত্ব বা ভুনাভাব ফেরতপাবেন।

ক্রিম মিশিয়েও কাজ হয়

যেকোনো ক্রিমাজাতীয় উপাদান খাবারের লবণকমাতে পারে। তরকারিতে দেওয়ার সময় পানিতে গুলিয়ে দিলে তাতে তরকারিতে থাকা লবণ মিশে গিয়েমোটের ওপর লবণাক্ততা কমে।

সস তৈরির সময় লবণ বেশি হয়ে গেলে তাতেক্রিম কিংবা দুধও মিশিয়ে নিতে পারেন।

টমেটো কিংবা ‘চিলি’ সসে ননীমুক্ত সাধারণদই, টক দই কিংবা ‘সাওয়ার ক্রিম’ দিতে হবে। ক্রিমজাতীয় চিজ যেমন ‘মন্টেরি জ্যাক’, ‘সুইস’কিংবা ‘রিকোটা চিজ’ ব্যবহার করেও খাবারের লবণ কমানো সম্ভব।

খাবারের পরিমাণ বাড়ানো

অল্প পরিমাণে রান্না করতে গিয়ে যদি লবণবেশি হয়ে যায়, তবে তাতে আরও কিছু সবজি যোগ করে পরিমাণ বাড়িয়ে নিতে পারেন। এক্ষেত্রেব্যবহার করা যায় বীজজাতীয় সবজি, আলু, লবণহীন ভাত। নুডুলসও যোগ করতে পারেন। কারণ তাতরকারির পানি শুষে নেয়। অতিরিক্ত লবণের কারণে পুরো পদটা অখাদ্য হয়ে যাওয়া তুলনায় কিছুবেঁচে যাওয়া নিশ্চয়ই ভালো। ভালোভাবে সংরক্ষণ করলে পরেও খেতে পারবেন।

ঝাল ও লবণ কমাতে মিষ্টি

মধু, গুড় কিংবা চিনি ব্যবহার করেও খাবারেরলবণাক্ততা কমানো যায়ে, সঙ্গে ‘ফ্লেইভার’য়ের ভারসাম্যও ঠিক করা যায়। সাদা কিংবা বাদামি,দুই ধরনের চিনিই ব্যবহার করতে পারেন। তবে গাঢ় রংয়ের সসের ক্ষেত্রে বাদামি চিনি ব্যবহারকরা ভালো।

লবণ কাটতে অম্ল

লেবুর রস, ‘হোয়াইট ভিনিগার’, ‘অ্যাপলসাইডার ভিনিগার’ ইত্যাদি অম্লীয় উপকরণ দিয়েও তরকারির লবণ ঠিক করা সম্ভব। অনেকসময় লবণেরকমতিও দূর করতে পারে অম্লীয় এই উপকরণগুলো। তবে সেক্ষেত্রে স্বাদ বোঝার দক্ষতা থাকাআবশ্যক, অন্যথায় নতুন বিপদ হতে পারে।

আরও পড়ুন

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক