৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ভ্রমণ আর উৎসবেও সুস্থ থাকার ছোট অভ্যাস

কঠোর কোনো নিয়ম নয়, দুতিনটি সহজ কৌশলেই স্বাস্থ্যবান থাকা যায়।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Dec 2025, 02:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:15 PM

বছর শেষে শুরু হয় ছুটির মৌসুম। পরিবারের সঙ্গে দেখা, দূরের আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়া, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া ও আনন্দ— সব মিলিয়ে জীবনযাপন একটু ঢিলেঢালা হয়ে পড়ে।

নিয়মিত ব্যায়াম আর নিয়ন্ত্রিত খাবারের রুটিন তখন আর আগের মতো থাকে না। এছাড়া কয়েকদিনের ভ্রমণ, অতিথি আপ্যায়ন এবং নানান পদের খাবারের টান— সব মিলিয়ে নিজের সুস্থ থাকার অভ্যাস ধরে রাখা বেশ কঠিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময় কঠোর নিয়ম মানার প্রয়োজন নেই। বরং একটি ছোট অভ্যাসই যথেষ্ট, যা স্বাস্থ্যকর পথে যুক্ত রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাস্থ্য ও শরীরচর্চা বিশেষজ্ঞ ডানা সান্তান সিএনএন ডটকম’য়ে প্রকাশিত নিজের অভিজ্ঞতায় বলেন, “একসময় ছুটিতে বেড়াতে গিয়েও প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জিমে যেতাম— যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও ক্লান্তিকর। পরে বুঝতে পারি, উৎসবের ভিড়ে এত কঠিন নিয়ম ধরে রাখা বাস্তবসম্মত নয়।

এই উপলব্ধি থেকেই তিনি বলেন, “ছুটির সময় আগের মতো খাওয়া ও ব্যায়ামের প্রত্যাশা ছেড়ে দিতে হবে। বরং সুস্থ থাকার সঙ্গে সম্পর্কটা ধরে রাখতে একটি ছোট কাজ নিয়মিত করলেই যথেষ্ট।”

আনন্দকে অগ্রাধিকার

ছুটির মৌসুমে নিজেকে শাস্তি দেওয়া বা অপরাধবোধে ভোগা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ব্যায়ামের চিন্তার চাপ আনন্দ নষ্ট করে দিতে পারে।

সান্তাসের মতে, “অপরাধবোধ আসলে উপভোগের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। নিজের শরীরচর্চা বা খাবারের রুটিন ঠিকঠাক রাখতে না পারলে অনেকে পুরো বিষয়টিকেই ছেড়ে দেন— যা আত্ম-যত্নের চেষ্টাকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়।"

অন্যদিকে মার্কিন পুষ্টিবিদ নাটালি মোকারি জানান, ছুটির সময়ে কিছুটা শিথিলতা স্বাভাবিক। তবে খাদ্যতালিকায় আঁশ ও প্রোটিনের ঘাটতি হলে হজম ও শক্তির ওপর প্রভাব পড়তে পারে, ফলে শারীরিক অস্বস্তি তৈরি হয় এবং উৎসবের আনন্দও কমে যায়।

কঠোর নিয়ন্ত্রণ নয়, ভারসাম্য জরুরি

মোকারির মতে, খাবারকে অতিরিক্ত নিষিদ্ধ করলে প্রায়ই উল্টো প্রতিক্রিয়া হয়। যেটাকে ‘খেতে মানা’ বলা হয়, সেটির প্রতি লোভ আরও বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।

তাই ছুটির দিনে প্রিয় মিষ্টান্ন বা উৎসবের বিশেষ খাবার উপভোগ করতে বাধা নেই। তবে পাশাপাশি ফল ও সবজির মতো পুষ্টিকর খাবার যুক্ত করলেই ভারসাম্য বজায় থাকবে।

ভ্রমণের সময় রেস্তোরাঁয় খাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি পরামর্শ দেন, “মেনুতে যেটি পছন্দ হয় সেটিই অর্ডার করা যেত পারে, তবে সঙ্গে যদি সম্ভব হয় সবজি বা সালাদের একটি সাইড ডিশ নেওয়া ভালো।”

এই ছোট সংযোজন করা সহজ আর পুষ্টির দিক থেকে বড় ভূমিকা রাখে।

আর চা, কফি বা অন্য কোনো পানীয় পান করার ক্ষেত্রে পাশে এক গ্লাস পানি রাখার অভ্যাস করতে হবে। এতে শরীর আর্দ্র থাকবে এবং অতিরিক্ত পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমবে।

সড়কপথে ভ্রমণের সময় প্রিয় নাস্তার সঙ্গে একটি ফল রেখে দিলে পেটও ভরবে, শরীরও প্রয়োজনীয় ভিটামিন পাবে।

চলাফেরাকে পারিবারিক আনন্দের অংশ বানান

শুধু জিমে দৌড়ানোই যে একমাত্র ব্যায়াম, তা নয়।

সান্তাস বলেন, “ছুটিতে যে কোনো ধরনের শারীরিক নড়াচড়া উপকারী। দীর্ঘ সময় বসে থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর, বিশেষ করে ভ্রমণের ক্লান্তি ও গাড়িতে বসে থাকার কারণে পেশি শক্ত হয়ে যায়।”

তার পরামর্শ, পরিবারের আড্ডার মাঝেই মাঝে দাঁড়িয়ে শরীর প্রসারিত করা, হালকা ‘স্কোয়াট’ করা বা ঘাড় ঘোরানো যেতে পারে।

সিনেমা দেখার সময় মেঝেতে বসে একটু স্ট্রেচ করাও কার্যকর। বাইরে সবাই মিলে ১০ মিনিট হাঁটার জন্য বেরিয়ে পড়া ভালো। হালকা ঠাণ্ডা বাতাসে এই হাঁটাহাঁটি শরীর ও মন দুটাই চাঙা করে।

খেলাধুলার আনন্দে ব্যায়াম

সান্তাস মনে করিয়ে দেন, ব্যায়াম কখনই অবশ্যপালনীয় কঠোর দায়িত্ব হওয়া উচিত নয়। শৈশবে আমরা খেলাধুলা করেই শরীরচর্চা করেছি—লুকোচুরি, দৌড়ঝাঁপ, নাচ।

ছুটিতে পরিবারের ছোটদের সঙ্গে সেই খেলায় যোগ দিলে শরীরচর্চাও হবে, আনন্দও বাড়বে।

শিশুদের নতুন নাচের ‘স্টেপ’ দেখালে তা অনুসরণ করা যেতে পারে, কিংবা দৌড়ঝাঁপের খেলায় নেমে পড়া উপকার দেবে।

এই আনন্দময় শারীরিক নড়াচড়াই পুরো উৎসবের বা ভ্রমণের সেরা ব্যায়াম হতে পারে।

আরও পড়ুন

সুখ ও সুস্থতা বেশি বয়সেও ফিরে পাওয়া সম্ভব

সুস্থ থাকার ৮ উপায়

দেরিতে হলেও স্বাস্থ্যকর জীবন শুরু করা উপকারী