সারাদিন অফুরন্ত শক্তি পাওয়ার উপায়
ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ফোন দেখা শুরু করলে, সারাদিনের শক্তির ঘটতি তৈরি হয়।
অনেকেই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তীব্র অলসতা, ক্লান্তি বা ‘মর্নিং ফ্যাটিগ’ অনুভব করেন, যা সারাদিনের কাজের গতিকে ধীর করে দেয়।
পুষ্টি ও স্নায়ুবিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের কিছু অসচেতন ভুল অভ্যাস যেমন অজান্তেই শরীরের শক্তি শুষে নেয়, তেমনি কিছু নিয়ম মেনে চললে সারাদিন অফুরন্ত ও টেকসই শক্তি বজায় রাখা সম্ভব হয়।
‘হেলথ ডটকম’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ৬টি ছোট কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত অভ্যাস গড়ে তুললে, সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করার পাশাপাশি বার্ধক্যের মস্তিষ্কের ক্ষয় রোধ করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও লাইফস্টাইল গবেষক লরা স্কোবার সারাদিন সতেজ থাকার এই ৬টি নিয়ম এবং বর্জনীয় ভুলগুলো বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
প্রতিদিন একই সুনির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে জাগা
শরীরের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা ও রোগমুক্ত জীবনের জন্য প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা অত্যন্ত জরুরি।
যে কারণে উপকারী: জীববিদ্যার বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং সকালে একটি নির্দিষ্ট সময়ে অ্যালার্ম ছাড়াই জেগে ওঠেন, তাদের হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি প্রাকৃতিকভাবেই অনেক কম থাকে। এটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
প্রথম ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে সকালের রোদ লাগানো
ঘুম থেকে ওঠার পরপরই কৃত্রিম ঘরের আলোতে না থেকে প্রকৃতির আলো শনাক্ত করা জরুরি।
যে কারণে উপকারী: সকালের নরম রোদ মানুষের চোখের ‘অপটিক’ স্নায়ুর মাধ্যমে সরাসরি মস্তিস্কের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা ‘সারকাডিয়ান রিদম’-কে সচল করে দেয়। ফলে রাতে দ্রুত ঘুম আসে, মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ ঠিক থাকে এবং সকালের ঘুম ঘুমভাব বা জড়তা এক নিমেষেই কেটে যায়।
খালি পেটে সবার আগে বিশুদ্ধ পানি পানের নিয়ম
সকালে চোখ খোলার পর চা বা কফির কাপে চুমুক দেওয়ার তীব্র প্রলোভন কাজ করলেও, চিকিৎসকদের মতে এটি শরীরের জন্য এক ধরনের বড় ধাক্কা।
কারণে উপকারী: রাতে দীর্ঘ সময় ঘুমের কারণে শরীর প্রাকৃতিকভাবেই পানিশূন্যতা বা ‘ডিহাইড্রেইটেড’ থাকে। তাই সকালে উঠেই সবার আগে অন্তত এক থেকে দুই গ্লাস সাধারণ ঘরের তাপমাত্রার বিশুদ্ধ পানি পান করা আবশ্যক। পানি শরীরের ‘এনার্জি এক্সপেন্ডিচার’ বা ক্যালরি পোড়ানোর গতি বাড়িয়ে কোষে অক্সিজেনের প্রবাহ সচল করে মেটাবলিক বা বিপাকীয় মাত্রা উন্নত করে।
হালকা শরীরচর্চা বা হালকা স্ট্রেচিং করা
সকালে জিম বা ভারী কসরত করার সময় না থাকলেও শুধু ১০ থেকে ১৫ মিনিটের হালকা নড়াচড়া জাদুর মতো কাজ করে।
যে কারণে উপকারী: সকালে হালকা স্ট্রেচিং বা হাঁটাচলা করলে মস্তিস্কের কোষে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং রক্তে ক্ষতিকর স্ট্রেস হরমোন ‘কোর্টিসল’-এর মাত্রা প্রাকৃতিকভাবেই কমিয়ে আনে। এটি মানসিক চাপ শান্ত রেখে সারাদিনের মেজাজ ফুরফুরে রাখতে সাহায্য করে।
প্রোটিন ও আঁশ সমৃদ্ধ সুষম নাস্তা
সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া বা শুধু চা-বিস্কুট খেয়ে কাজে বের হওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
যে কারণে উপকারী: সকালের নাস্তায় জটিল কার্বোহাইড্রেটের (যেমন: ওটস) সঙ্গে উচ্চ প্রোটিন (ডিম বা টক দই) এবং ভালো ‘ফ্যাট’ রাখলে, তা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এটি বয়স্ক মানুষের স্মৃতিশক্তি সচল রাখতে সাহায্য করে এবং সারাদিন কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের জোগান দেয়।
মনে মনে একটি ইতিবাচক লক্ষ্য বা ‘ইনটেনশন’ সেট করা
বিজ্ঞান বলছে, যেকোনো কাজের আগে মানুষের অবচেতন মনের চিন্তাই তার সফলতার গতিপথ নির্ধারণ করে।
যে কারণে উপকারী: সকালে বিছানা ছাড়ার আগে মাত্র ১ মিনিট চোখ বন্ধ করে সারাদিনের একটি মূল লক্ষ্য বা ইতিবাচক উদ্দেশ্য মনে মনে বললে মস্তিস্ক ও মনের মনোযোগ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
সকালের ৩টি ভুল যা এনার্জি বা শক্তি নষ্ট করে
বারবার ‘স্নুজ’ বাটন চাপা: অ্যালার্ম বাজার পর অলসতার বশে বারবার স্নুজ বাটন চাপলে, সেটা মস্তিস্কের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণ চক্রকে ব্যাহত করে, যা সকালের ক্লান্তি ও মাথা ঘোরার ভাবকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।
সম্পূর্ণ অন্ধকার ঘরে ঘুমানো: রাতে অন্ধকার ঘর ভালো হলেও, সকালে জানালার ভারী পর্দা এমনভাবে বন্ধ রাখা ভুল, যাতে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে না। এটি সারকাডিয়ান রিদমকে বিভ্রান্ত করে অলসতা বাড়ায়।
চোখ খুলেই মোবাইল ফোন ঘাটা: সকালে উঠেই নোটিফিকেশন বা ইমেইল পরখ করার অভ্যাস মস্তিস্কে এক ধরনের কৃত্রিম ভীতি তৈরি করে ক্ষতিকর কোর্টিসল হরমোন উপচে দেয়, যা সারাদিনের এনার্জি বা শক্তি নষ্টের বড় কারণ।
আরও পড়ুন
