২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শরীরকে সতেজ ও সচল করার উপায়

প্রথমেই ভারী কিছু দিয়ে শুরু করা যাবে না। দেহকে সচল করতে চাই নিয়মিত সরল পদক্ষেপ।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Apr 2026, 04:44 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:30 PM

কাজের চাপ, প্রযুক্তিনির্ভর অভ্যাস এবং অনিয়মিত রুটিনের কারণে শরীর ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ফলে একসময় দেখা যায়, শক্তি কমে যাচ্ছে, মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে এবং কাজেও আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছে।

তবে শরীরকে আবার সচল ও প্রাণবন্ত করে তোলে ছোট ছোট পরিবর্তন দরকার।

শরীর কেন ধীর হয়ে যায়

দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার ফলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দে পরিবর্তন আসে।

সুস্থতা-বিষয়ক মার্কিন বিশেষজ্ঞ এরিন ক্লিফোর্ড রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “প্রতিদিন জীবনে পর্যাপ্ত আলো এবং চলাফেরার অভাব শরীরের ঘুম-জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করে। এতে ঘুমের হরমোন এবং আনন্দের অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত রাসায়নিক পদার্থের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে ক্লান্তি, অবসাদ এবং অনুপ্রেরণার অভাব অনুভব হয়।”

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শারীরিক থেরাপি বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু গোরেকি বলেন, “দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণে শরীরের পেশি ও স্নায়ুর সমন্বয় কমে যায়। এতে চলাফেরায় অসুবিধা, শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া এবং শক্তির ঘাটতি তৈরি হয়। ফলে স্বাভাবিক কাজগুলোও অনেক বেশি কঠিন মনে হতে শুরু করে।”

প্রাকৃতিক আলো গ্রহণের গুরুত্ব

শরীরকে সক্রিয় করার প্রথম এবং সবচেয়ে সহজ উপায় হলো প্রাকৃতিক আলো গ্রহণ করা।

সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালা খুলে দেওয়া বা বাইরে কিছুক্ষণ সময় কাটানো শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে পুনরায় সক্রিয় করতে সাহায্য করে।

দিনের শুরুতে আলো গ্রহণ করলে শরীর বুঝতে পারে যে- এখন জেগে ওঠার সময়, ফলে স্বাভাবিকভাবে শক্তি ফিরে আসে।

নিয়মিত আলো গ্রহণ শুধু শরীর নয়, মনকেও সতেজ করে।

গোরেকি’র মতে, “ঘরের ভেতরে প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা মানসিক প্রশান্তি বাড়ায় এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে।”

বাইরে সময় কাটানোর প্রভাব

শুধু আলো নয়, খোলা পরিবেশে কিছু সময় কাটানও শরীর ও মনের জন্য উপকারী। দিনের শুরুতে কয়েক মিনিট বাইরে বসে থাকা কিংবা হাঁটা শরীরকে দ্রুত সক্রিয় করতে পারে।

তবে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে বাইরে থাকার প্রয়োজন নেই। বরং ছোট ছোট সময়ের জন্য নিয়মিত বাইরে থাকা শরীরের জন্য বেশি কার্যকর।

এতে মানসিক চাপ কমে এবং শরীর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে।

ছোট ছোট নড়াচড়া দিয়ে শুরু

শরীরকে সচল করতে বড় কোনো ব্যায়াম দিয়ে শুরু না করে বরং প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য সহজ নড়াচড়া করা বেশি কার্যকর।

হালকা স্ট্রেচিং, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা, কিংবা কিছুক্ষণ হাঁটা কার্যকর।

অল্প সময়ের নিয়মিত নড়াচড়া পেশিকে সক্রিয় করে এবং ধীরে ধীরে শক্তি বাড়ায়।

দিনে কয়েকবার পাঁচ থেকে দশ মিনিট নড়াচড়া করলেই শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়।

হঠাৎ বেশি চাপ না দেওয়া

অনেকে শরীরকে দ্রুত সক্রিয় করার জন্য একবারে বেশি ব্যায়াম শুরু করেন। হঠাৎ বেশি চাপ দিলে শরীর আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস তৈরি হয় না।

তাই ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। নিয়মিত অল্প অল্প করে শরীরচর্চা করলে তা দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা সহজ হয় এবং শরীরও স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে নিতে পারে।

অভ্যাস গঠনের কৌশল

নতুন অভ্যাস তৈরি করতে ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

এরিন ক্লিফোর্ড পরামর্শ দেন, “একসঙ্গে অনেক পরিবর্তন না এনে ধীরে ধীরে নতুন অভ্যাস যুক্ত করা উচিত। এতে শরীর ও মন উভয়ই সহজে মানিয়ে নিতে পারে।”

যদি প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস থাকে, তবে সেই সময়টিকে একটু বাড়ানো বা ভিন্ন ধরনের পথে হাঁটা নতুনত্ব আনতে পারে। এতে একঘেয়েমি কমে এবং অভ্যাস বজায় রাখা সহজ হয়।

মানসিক দিকেও নজর দেওয়া

“শরীরকে সক্রিয় করার পাশাপাশি মানসিক দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ মানসিক প্রশান্তি বাড়ায় এবং শরীরকে নতুন উদ্যমে কাজ করতে সহায়তা করে”- বলেন, ক্লিফোর্ড।

নিজের অনুভূতি বোঝা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং নিজের জন্য সময় রাখা— এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এতে শরীর ও মন- দুই-ই সুস্থ থাকে এবং দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

আরও পড়ুন

দেহের ভারসাম্য উন্নতিতে হাঁটা

ভাবছেন স্বাস্থ্যকর অথচ দেহের জন্য ক্ষতিকর

দেহের আকার ঠিক রাখতে

প্রাকৃতিক উপাদানে দূর হবে দেহের দুর্গন্ধ