১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

যেভাবে ঘুমালে মুখে বলিরেখা পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে

জেনে রাখুন বলিরেখা এড়ানোর ৩ কৌশল।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2026, 04:35 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:51 PM

ত্বকের উজ্জ্বলতা ও তারুণ্য ধরে রাখতে প্রতি রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানো জরুরি, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘বিউটি স্লিপ’ নামে পরিচিত।

তবে ত্বক-বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমানোর সময় শোবার ভঙ্গি বা ‘স্লিপিং পজিশন’ যদি ভুল হয়, তবে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টার পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও সকালে মুখ ফোলা, ক্লান্ত এবং বুড়িয়ে যাওয়া দেখাতে পারে।

দীর্ঘ সময় ধরে একটি নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে শুয়ে থাকার কারণে মধ্যাকর্ষণ শক্তি ও বালিশের ঘর্ষণে ত্বকে স্থায়ী ভাঁজ পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

‘রিয়েলসিম্পল ডটকম’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বলিরেখা বা অকাল বার্ধক্য সরাসরি প্রতিরোধ করতে প্রসাধনী মাখার চেয়েও ঘুমানোর ভঙ্গি ঠিক করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও কার্যকর বৈজ্ঞানিক উপায়।

চিত হয়ে ঘুমানো বা পিঠের ওপর শোয়া

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে ও বলিরেখা দূর করতে চিকিৎসকদের পরামর্শ হল, চিত হয়ে বা পিঠের ওপর সোজা হয়ে ঘুমানো।

যে কারণে সেরা: এই ভঙ্গিতে ঘুমালে মুখের সংবেদনশীল ত্বকের ওপর বাইরের কোনো চাপ পড়ে না এবং বালিশের কাপড়ের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর ঘর্ষণ তৈরি হয় না।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির কসমেটিক চিকিৎসক ও বোর্ড-প্রত্যয়িত ফেইশল প্লাস্টিক সার্জন ডা. কনস্ট্যান্টিন ভ্যাসিয়ুকেভিচ বলেন, “মাথার নিচে একটি অতিরিক্ত নরম বালিশ দিয়ে, মাথাকে শরীর থেকে অন্তত ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি উঁচুতে রাখা উপকারী। এটি রাতে ঘুমানোর সময় মুখের রক্ত ও ‘ফ্লুইড’ বা তরলের সঠিক সমতা বজায় রাখে। যে কারণে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের নিচের ফোলাভাব প্রাকৃতিকভাবেই বন্ধ হয়ে যায়।”

“যারা অবচেতনে পাশ ফেরেন, তারা সুরক্ষায় একটি বডি পিলো ব্যবহার করতে পারেন”, বলেন তিনি।

কাত হয়ে বা এক পাশে ঘুমানো

সাইনাসের সমস্যা বা নাক ডাকার রোগীদের জন্য কাত হয়ে ঘুমানো আরামদায়ক হলেও, এটি ত্বকের সৌন্দর্যের জন্য খুব একটা ভালো নয়।

যে কারণে ক্ষতিকর: এক পাশে কাত হয়ে ঘুমালে মুখের একদিকের চামড়া অনবরত বালিশের সঙ্গে ঘষা খায়।

ডা. ভ্যাসিয়ুকেভিচ সতর্ক করে বলেন, “এক রাতের ঘষায় হয়ত বড় কোনো তফাত বোঝা যাবে না, তবে বছরের পর বছর একই পাশে কাত হয়ে ঘুমালে মুখের সেই নির্দিষ্ট অংশে বলিরেখার গভীর খাঁজ ও চামড়া ঝুলে পড়ার সম্ভাবনা বেড়েই চলে।”

এর বিকল্প হিসেবে কটন বা সুতির কভার বদলে সিল্ক বা সাটিনের বালিশের কভার ব্যবহার করা উচিত, যা ত্বকের ঘর্ষণ ও চামড়া ফেঁসে যাওয়া দূর করে।

উপুড় হয়ে বা পেটের ওপর ঘুমানো

চর্মরোগ বিজ্ঞান ও প্লাস্টিক সার্জারির পরিভাষায় উপুড় হয়ে বা বালিশে মুখ গুঁজে ঘুমানোকে ত্বকের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর ভঙ্গি মনে করা হয়।

যে কারণে বিপজ্জনক: এই ভঙ্গিতে ঘুমালে পুরো মুখের ওজন সরাসরি বালিশের ওপর চেপে বসে, যা চোখ ও ঠোঁটের চারপাশের চামড়াকে কুঁচকে দেয়। আর কপাল ও গালে স্থায়ী ‘ফাইন লাইন’ বা সুক্ষ্ম রেখা সৃষ্টি করে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কপালে পড়া গভীর ভাঁজ পরে কোনো কড়া রেটিনল ক্রিম দিয়েও দূর করা সম্ভব হয় না।

ফোলা ভাব ও ব্যাকটেরিয়া: যেহেতু এই ভঙ্গিতে মাথা ও হৃদযন্ত্র সমান্তরালে থাকে, তাই মুখে অতিরিক্ত রক্ত ও তরল জমে চোখ ফুলে ওঠে। তাছাড়া বালিশের কভারে জমে থাকা তেল ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সরাসরি ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে তীব্র ব্রণের সৃষ্টি করতে পারে।

পরামর্শ

যুক্তরাষ্ট্রের বোর্ড-প্রত্যয়িত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হ্যাডলি কিং বলেন, “দিনের বেলা দামি প্রসাধনী বা স্কিনকেয়ার সেরাম মাখলেও, রাতে ভুল ভঙ্গিতে ঘুমালে ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তুগুলো প্রতিনিয়ত চাপে ভেঙে যায়। তাই উপুড় হয়ে শোয়ার অভ্যাস থাকলে বর্জন করা উচিত। আর চিত হয়ে মাথা সামান্য উঁচুতে রেখে ঘুমানোই ত্বককে তরুণ রাখার একটি উপায় হতে পারে।”

আরও পড়ুন

চোখের নিচে ভাঁজ রোধ করতে যা জানা থাকা দরকার

ঘুম ভাঙে ঠিক অ্যালার্ম বাজার আগেই? জেনে নিন কেন এমন হয়

ঘুম ভেঙে অসাড়তা কাটাতে ২০ মিনিট সকালের আলো

বলিরেখার তিন ধরন আর দূরে রাখার পন্থা