Published : 09 Feb 2025, 11:41 AM
বেশিরভাগ মানুষ দিন শুরু করে নানান দায়িত্ববোধ নিয়ে। ফলে সকালের রুটিনে এক ধরনের তাড়াহুড়া থেকেই যায়।
তবে প্রশান্ত মনে তরতাজা চিত্তে দিন শুরু করতে চাইলে কিছু অভ্যাস রপ্ত করতে হবে।
“এ জন্য প্রথম শর্ত হল পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা। তাই রাত না জেগে আগেভাগে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস গড়তে হবে”- ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকম’য়ে পরামর্শ দেন ‘স্পোর্টস মেডিসিন’ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক রুবেন চেন।
সেই সাথে প্রশান্ত থাকার অভ্যাস গড়তে পারলে সকালেই মিলবে সারাদিনের কাজ করার শক্তি।
ঘুম ভাঙুক আরামে
“দেহ যখন প্রস্তুত হবে তখন ঘুম থেকে উঠতে হবে, তাই এমন অ্যালার্ম দিতে হবে যা ধীরে শরীরকে জাগিয়ে তুলবে”- একই প্রতিবেদনে পরামর্শ দেন মার্কিন স্নায়ু বিজ্ঞানী ড. প্যাট্রিক কে. পোর্টার।
তিনি বলেন, “স্নায়ুতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বাজে কাজটি হয়ত করছেন কর্কশ অ্যালার্ম বাজিয়ে। তাই এমন অ্যালার্ম বেছে নিন যা শ্রুতি মধুর আর ধীরে শরীর জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করে।”
সূর্যের আলো আসুক ঘরে
প্রাকৃতিক আলো দেহ ও মস্তিষ্ককে ঘুম থেকে জাগ্রত করতে সাহায্য করে। দিনের শুরুতেই সূর্যের আলোর স্পর্শ নিতে পারলে রাতের ভালো ঘুমের ওপরেও প্রভাব রাখে।
তাই সকালে জানালার পর্দা সরিয়ে ঘরে আলো ঢোকার ব্যবস্থা করতে হবে। আর বাইরে একটু হেঁটে আসতে পারলে আরও ভালো হয়।
পানি পান
সকালে উঠেই হয়ত চা-কফি পান করার জন্য মন আনচান শুরু করে। তবে সকালে দেহকে আরাম দিতে চাইলে অবশ্যই প্রথমে পানি পান করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘুম বিশেষজ্ঞ ড. মিশেল ব্রিউস বলেন, “সকালে দেহ পানিশূন্য অবস্থায় ঘুম থেকে ওঠে। যে কারণে আলসেমি আর ক্লান্ত লাগে। তাই চা-কফির আগে এক গ্লাস পানি পানের মাধ্যমে দিন শুরু করতে হবে। আর সারাদিন ধরে পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস গড়া জরুরি।”
এই অভ্যাস গড়তে রাতেই হাতের কাছে এক বোতল পানি রাখার পরামর্শ দেন তিনি। যাতে সকালে ঘুম থেকে উঠেই পানি পান করার অভ্যাস রপ্ত হয়।
হাত-পা টানটান করা বা ব্যায়াম
একভাবে শুয়ে বসে থাকলে দেহে আলসেমি কাজ করে। একই ব্যাপার ঘটে ঘুমিয়ে থাকলে। এজন্য ঘুম ভাঙার পর আরষ্ট ভাব কাটতে চায় না।
ফ্লোরিডা’র ব্যায়াম-বিষয়ক মনোবিজ্ঞানী শ্যারন গ্যাম’য়ের ভাষায়, “এটা প্রাকৃতিকভাবেই ঘটে। যেমন- ঘুম থেকে উঠে আড়মোড়া ভাঙা বা ‘হাই’ তোলা। এগুলো দেহের অসাড়ভাব কাটিয়ে জাগ্রত করতে সাহায্য করে।”
ব্যায়াম করলে কর্টিসল হরমোনের নিঃসরণ হয়, যা দেহকে সজাগ করতে সাহায্য করে। এছাড়া এন্ডোর্ফিন্স, সেরাটনিন এবং ডোপামিন’য়েল মতো ‘নিউরোট্রান্সমিটারস’গুলো শরীরকে উজ্জীবিত করে ফলে ভালো অনুভব হয়।
এজন্য সকালে ফোন না ঘেটে হালকা ব্যায়াম বা ‘স্ট্রেচিং’ দিয়ে দিন শুরু করার পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ।
মজার নাস্তা করা
খেলে বিপাক কার্যক্রম জ্বলে ওঠে। তাই সকাল স্বাস্থ্যকর নাস্তা নিশ্চিত করার অভ্যাস গড়তে হবে। যা কি-না সারাদিন ধরেও পর্যাপ্ত শক্তি দেবে।
খাদ্যবিশেষজ্ঞরা সকালের নাস্তায় সব সময় প্রোটিন, আঁশ ও ভিটামিন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেয়। আর এই ধরনের সুস্বাদু নাস্তা সকালে দেহ শান্ত ও সজাগ রেখে দিন শুরু করতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন
সকালের যেসব অভ্যাস কোমরের পরিধি বাড়িয়ে দিতে পারে